📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের হাত
আকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- "আল্লাহ তা'আলা প্রতি রাতে নিজের হাত প্রসারিত করে বলেন- আছো দিনের কোন গুনাহগার! তাওবা করে নাও। এভাবে প্রতি দিন স্বীয় রহমতের হাত প্রসারিত করে বলেন, আছো কোন রাতের গুনাহগার! তাওবা করে নাও। আর এই ধারাবাহিকতা সূর্যাস্ত পর্যন্ত চালু থাকে। "[১১৫]
আল্লাহু আকবার কাবীরা! আল্লাহ তা'আলার রহমতের হাত! আমাদের যদি এই রহমত নসিব হয়ে যায়, তাহলে শয়তান আমাদের কি ক্ষতি করবে। আল্লাহ তা'আলা ডাকছেন। নিজের রহমতের দিকে। তাওবার দরজার দিকে। যেমন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
تُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”[১১৬]
আল্লাহ তা'আলা আরও ইরশাদ করেন-
فَفِرُّوا إِلَى اللهِ । “সুতরাং তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও।”[১১৭]
প্রিয় পাঠক! আজকের সূর্যও পূর্ব দিকেই উদিত হয়েছে। তাতে বুঝা গেল তাওবার দরজা খোলা আছে এবং আল্লাহ তা'আলার রহমতের হাত আমাদেরকে তাঁর দিকে ডাকছে। মহান রবের আমাদের প্রয়োজন নেই কিন্তু তারপরও আমাদেরকে ডাকছেন। তথাপি বিলম্ব কিসের? আসুন আমরা গুনাহ ত্যাগ করে হতাশাকে ছুঁড়ে ফেলে দিই এবং নিজের রবের দিকে, নিজের সৃষ্টিকর্তা ও নিজের পালনকর্তা মালিকের দিকে ধাবিত হই。
টিকাঃ
[১১৫] সহিহ মুসলিম
[১১৬] নূর- ২৪: ৩১
[১১৭] যারিয়াত- ৫১:৫০
📄 ইস্তিগফার করার মত কেউ কি আছে?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ حِينَ يَمْضِي ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ، فَيَقُولُ: أَنَا الْمَلكُ، أَنَا الْمَلِكُ، مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونى فَاسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُني فَأَعْطِيَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنى فَأغْفِرَ لَهُ؟ فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُضِيءَ الْفَجْرُ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর প্রতি রাতেই আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন- আমিই একমাত্র বাদশাহ। আমিই একমাত্র বাদশাহ। কেউ কি আছো, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ কি আছো, যে আমার নিকট কোন কিছু চাইবে? আমি তাকে দান করব। কেউ কি আছো, যে আমার নিকট তাওবা- ইস্তিগফার করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। এভাবে সকাল হওয়া পর্যন্ত ডাকতে থাকেন। "[১১৮]
টিকাঃ
[১১৮] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭৫৮; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৪৪৬; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ১৫২০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৭৫৯২
📄 অজু, সালাত ও ইস্তিগফার
عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِي، قَالَ : سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: كُنْتُ رَجُلًا إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَدِيثًا نَفَعَنِي اللهُ مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي، وَإِذَا حَدَّثَنِي أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ اسْتَخَلَفْتُهُ فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ، يَقُولُ: مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ
"হজরত আসমা ইবনুল হাকাম ফাজারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-আমি হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে এটা বলতে শুনেছি যে, আমার নিয়ম (হাদিস সম্পর্কে) কিছুটা এমন ছিল যে, আমি যদি নিজে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস শুনতাম, তাহলে আল্লাহ তা'আলার যতটুকু ইচ্ছা হত আমি তা থেকে উপকৃত হতাম। অর্থাৎ আমি উক্ত হাদিসের উপর আমল করতাম। আর যদি কোন সাহাবী আমাকে হাদিস বর্ণনা করত, তাহলে আমি তার থেকে কসম নিতাম। কেননা এটা হাদিসের ব্যাপার। তাই বিষয়টি সত্য হওয়া চাই। সে যদি কসম করত, তাহলে আমি তা সত্য বলে মেনে নিতাম। তিনি বলেন, আমাকে হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন। (আর আমি আমার নিয়ম বহির্ভুত হয়ে তার কাছ থেকে কসম নিইনি। কারণ তার তাকওয়া, ইলম এবং সতর্কতার উপর ভরসা ছিল। এজন্য আমি তাকে কসম ব্যতীতই তার সত্যায়ন করছি এবং বলছি) হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু সত্য বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এটা বলতে শুনেছি যে, যে কোন বান্দা কোন গুনাহ করে, তারপর ভালভাবে অজু করে, তারপর দুই রাকাত সালাত পড়ে, তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেন। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র কুরআনের সুরাআলে-ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত তিলাওয়াত করেন-
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
অর্থ: আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। "[১১৯]
টিকাঃ
[১১৯] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫২১; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৪০৬; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২
📄 গুনাহ যদি জমিন থেকে আসমান পর্যন্তও হয়, তাহলেও মাগফিরাত
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَوْ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ أَخْطَأْتُمْ حَتَّى تَبْلُغَ خَطَايَاكُمْ مَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتُمْ لَغَفَرَ لَكُمْ؛ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ أَوْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُخْطِئُوا لَحَجَاءَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِقَوْمٍ يُجْطِئُوْانَ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُوْانَ فَيَغْفِرَ لَهُمْ
হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এটা বলতে শুনেছি যে, কসম ঐ সত্তার, যার হাতে আমার জীবন। অথবা এটা বলেছেন যে, যার হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবন। তোমরা যদি এ পরিমাণ গুনাহ কর যে, উক্ত গুনাহ জমিন ও আসমানের খালি জায়গাকে ভরে দেয় এবং তারপরও তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা- ইস্তিগফার করো, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। কসম ঐ সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবন। অথবা বলেছেন, যার হাতে আমার জীবন। তোমরা যদি গুনাহই না করো, তাহলে আল্লাহ তা'আলা এমন জাতিকে নিয়ে আসবেন, যারা গুনাহ করবে, তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা-ইস্তিগফার করবে এবং আল্লাহ তা'আলাও তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [১২০]
টিকাঃ
[১২০] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪২৪৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ৭৬২৪