📄 ইস্তিগফারে এত বিলম্ব এবং লজ্জা কিসের?
আল্লাহ তা'আলা অনেক অনেক দয়াবান। সীমাহীন অনুগ্রহকারী। একটু ভাবুন তো! কেমন লোকদের কেমন গুনাহকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। এক ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সবচেয়ে প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। অতঃপর সে কালিমা পড়েছে, তাওবা করেছে। আল্লাহ তা'আলা সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এখন তার নাম নিতে গোটা উম্মত বলে থাকে রাদিআল্লাহু আনহু তথা আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন। গুনাহের ভয়াবহতার কথা অনুমান করুন তো! তারপর আল্লাহ তা'আলার রহমত এবং মাগফিরাতেরও অনুমান করার চেষ্টা করুন। গুনাহগার ভাই ও বোনেরা এখন তো মানবেন যে, আল্লাহ তা'আলা "রাহিম” তথা অতি দয়ালু। সুতরাং তারপরও তাওবা-ইস্তিগফারে এত বিলম্ব কিসের? এত লজ্জা কিসের?
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী শুনুন। তিনি ইরশাদ করেন-
“তোমরা যদি গুনাহ করে করে গুনাহ দিয়ে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানও ভরে ফেল, আর তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা চাও, তাহলেও তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন।"
📄 শয়তানের দুটি ষড়যন্ত্র
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলার রহমতও বড় আশ্চর্য। তাঁরই সাথে কৃত অপরাধীদেরকে স্বীয় বান্দা বলে সম্বোধন করছে এবং প্রকাশ্য ক্ষমার ঘোষণা করছে। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদেরকে উচ্চ উচ্চ মর্যাদা এবং সর্বপ্রকার নি'আমত দ্বারা সম্মানিত করছে। কেউ কি এমন আছে যে নিজের অপরাধীদের সাথে এমন আচরণ করতে পারে? তারপরও আমরা আল্লাহ তা'আলাকে ছেড়ে অন্যদের আশ্রয় খুঁজি। কখনো এক মুহূর্তের জন্যও নিজেকে নিজে আল্লাহ তা'আলার জন্য একনিষ্ঠ ও একাগ্র করতে পারি না। শয়তানের পুরো চেষ্টা হল, সে আমাদেরকে তাওবা-ইস্তিগফার থেকে বিরত রাখবে। কখনো অহঙ্কারে লিপ্ত করে এবং কখনো গুনাহের প্রতি হতাশ করে। যখন কোন বান্দা গুনাহের প্রতি হতাশ হয়ে তাওবা ছেড়ে দেয়, তখন শয়তান নিজের সফলতার উপর আনন্দ-উল্লাস করে। আর যখন কোন বান্দা নিজের নেকির কারণে অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে তাওবা করা থেকে বিরত থাকে, তখনই শয়তান তাকে নিজের শিকার বানিয়ে নেয়।
📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের হাত
আকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- "আল্লাহ তা'আলা প্রতি রাতে নিজের হাত প্রসারিত করে বলেন- আছো দিনের কোন গুনাহগার! তাওবা করে নাও। এভাবে প্রতি দিন স্বীয় রহমতের হাত প্রসারিত করে বলেন, আছো কোন রাতের গুনাহগার! তাওবা করে নাও। আর এই ধারাবাহিকতা সূর্যাস্ত পর্যন্ত চালু থাকে। "[১১৫]
আল্লাহু আকবার কাবীরা! আল্লাহ তা'আলার রহমতের হাত! আমাদের যদি এই রহমত নসিব হয়ে যায়, তাহলে শয়তান আমাদের কি ক্ষতি করবে। আল্লাহ তা'আলা ডাকছেন। নিজের রহমতের দিকে। তাওবার দরজার দিকে। যেমন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
تُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”[১১৬]
আল্লাহ তা'আলা আরও ইরশাদ করেন-
فَفِرُّوا إِلَى اللهِ । “সুতরাং তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও।”[১১৭]
প্রিয় পাঠক! আজকের সূর্যও পূর্ব দিকেই উদিত হয়েছে। তাতে বুঝা গেল তাওবার দরজা খোলা আছে এবং আল্লাহ তা'আলার রহমতের হাত আমাদেরকে তাঁর দিকে ডাকছে। মহান রবের আমাদের প্রয়োজন নেই কিন্তু তারপরও আমাদেরকে ডাকছেন। তথাপি বিলম্ব কিসের? আসুন আমরা গুনাহ ত্যাগ করে হতাশাকে ছুঁড়ে ফেলে দিই এবং নিজের রবের দিকে, নিজের সৃষ্টিকর্তা ও নিজের পালনকর্তা মালিকের দিকে ধাবিত হই。
টিকাঃ
[১১৫] সহিহ মুসলিম
[১১৬] নূর- ২৪: ৩১
[১১৭] যারিয়াত- ৫১:৫০
📄 ইস্তিগফার করার মত কেউ কি আছে?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ حِينَ يَمْضِي ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ، فَيَقُولُ: أَنَا الْمَلكُ، أَنَا الْمَلِكُ، مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونى فَاسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُني فَأَعْطِيَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنى فَأغْفِرَ لَهُ؟ فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُضِيءَ الْفَجْرُ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর প্রতি রাতেই আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন- আমিই একমাত্র বাদশাহ। আমিই একমাত্র বাদশাহ। কেউ কি আছো, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ কি আছো, যে আমার নিকট কোন কিছু চাইবে? আমি তাকে দান করব। কেউ কি আছো, যে আমার নিকট তাওবা- ইস্তিগফার করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। এভাবে সকাল হওয়া পর্যন্ত ডাকতে থাকেন। "[১১৮]
টিকাঃ
[১১৮] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭৫৮; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৪৪৬; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ১৫২০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৭৫৯২