📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের শান

📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের শান


একটু মহব্বতের দৃষ্টি প্রসারিত করুন। হজরত আকা মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কয়েকটি বরকতময় হাদিস পাঠ করুন- ক. আল্লাহ তা'আলা যখন মাখলুককে সৃষ্টি করেছেন, তখন একটি কথা লিখেছেন এবং তা আল্লাহ তা'আলার নিকট আরশের উপরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। আর তা হল-
*। "নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গজবের উপর অগ্রগামী।"
আল্লাহু আকবার! আমার রব অনেক দয়াবান। গুনাহের পরে যখন মসজিদে যাওয়ার তাওফিক হয়, তখন একটু ভাবুন যে, আমার রব কত মহান এবং “রাহিম” তথা দয়াবান। অপরাধীকে নিজের ঘরে আসার অনুমতি ও তাওফিক দিয়েছেন। মানুষ হলে তো পায়ের নালাই ভেঙ্গে দিত। অথচ এখানে অপরাধীকে নিজের ঘরে নিজের সামনে সিজদা করার অনুমতি পর্যন্ত মিলে। সুবহানাল্লাহ!
খ. আল্লাহ তা'আলার নিকট একশত রহমত রয়েছে। উক্ত একশত রহমত থেকে মাত্র একটি রহমত আল্লাহ তা'আলা জমিনে অবতীর্ণ করেছেন। আর এই একটি মাত্র রহমতের কারণেই জিন-ইনসান, পশু-পাখি পরস্পর এত মায়া-মহব্বত করে থাকে এবং এ কারণেই হিংস্র জানোয়ার তার বাচ্চাদের উপর দয়া করে। আর নিরান্নব্বইটি রহমত আল্লাহ তা'আলা নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন। সেগুলোর মাধ্যমে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ করবেন।
সকল মাখলুক জমিনের সৃষ্টি থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি মাত্র রহমতের উপর উৎসর্গিত। বিভিন্ন প্রকার মহব্বত, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা এবং জানা নেই আরও কী কী। এটা হল শুধুমাত্র একটি রহমতের ফল। আর যখন কিয়ামতের দিন নিরান্নব্বইটি রহমত প্রদর্শিত হবে, তখন সকল মাখলুক বলে উঠবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা অনেক বড় দয়াবান ও অনুগ্রহশীল।
গ. মুমিন যদি আল্লাহ তা'আলার শাস্তির কথা জানত, তাহলে কখনোই জান্নাতের আশা করত না। আর যদি কাফির আল্লাহ তা'আলার রহমতের কথা জানত, তাহলে কখনো তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হত না。
কোন সন্দেহ নেই যে, মালিক অনেক মহান। আবার তিনি شَدِيدُ الْعِقَاب তথা কঠোর শাস্তি প্রদানকারীও বটে। মোটকথা আল্লাহ তা'আলার রহমত এত বিশাল ও ব্যাপক যে, কোন কাফিরও যদি তার বাস্তবতা বুঝতে পারত, তাহলে কুফরের উপর মৃত্যুবরণ করা সত্ত্বেও জান্নাতের আশা করত। আমরা আমাদের আকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী পাঠ করেছি। আল্লাহ তা'আলা নিজেই লিখে দিয়েছেন, رَحْمَتى سَبَقَتْ غَضَبِيْ তথা আমার রহমত আমার গজবের উপর অগ্রগামী।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইস্তিগফারে এত বিলম্ব এবং লজ্জা কিসের?

📄 ইস্তিগফারে এত বিলম্ব এবং লজ্জা কিসের?


আল্লাহ তা'আলা অনেক অনেক দয়াবান। সীমাহীন অনুগ্রহকারী। একটু ভাবুন তো! কেমন লোকদের কেমন গুনাহকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। এক ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সবচেয়ে প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। অতঃপর সে কালিমা পড়েছে, তাওবা করেছে। আল্লাহ তা'আলা সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এখন তার নাম নিতে গোটা উম্মত বলে থাকে রাদিআল্লাহু আনহু তথা আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন। গুনাহের ভয়াবহতার কথা অনুমান করুন তো! তারপর আল্লাহ তা'আলার রহমত এবং মাগফিরাতেরও অনুমান করার চেষ্টা করুন। গুনাহগার ভাই ও বোনেরা এখন তো মানবেন যে, আল্লাহ তা'আলা "রাহিম” তথা অতি দয়ালু। সুতরাং তারপরও তাওবা-ইস্তিগফারে এত বিলম্ব কিসের? এত লজ্জা কিসের?
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী শুনুন। তিনি ইরশাদ করেন-
“তোমরা যদি গুনাহ করে করে গুনাহ দিয়ে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানও ভরে ফেল, আর তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা চাও, তাহলেও তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন।"

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 শয়তানের দুটি ষড়যন্ত্র

📄 শয়তানের দুটি ষড়যন্ত্র


সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলার রহমতও বড় আশ্চর্য। তাঁরই সাথে কৃত অপরাধীদেরকে স্বীয় বান্দা বলে সম্বোধন করছে এবং প্রকাশ্য ক্ষমার ঘোষণা করছে। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদেরকে উচ্চ উচ্চ মর্যাদা এবং সর্বপ্রকার নি'আমত দ্বারা সম্মানিত করছে। কেউ কি এমন আছে যে নিজের অপরাধীদের সাথে এমন আচরণ করতে পারে? তারপরও আমরা আল্লাহ তা'আলাকে ছেড়ে অন্যদের আশ্রয় খুঁজি। কখনো এক মুহূর্তের জন্যও নিজেকে নিজে আল্লাহ তা'আলার জন্য একনিষ্ঠ ও একাগ্র করতে পারি না। শয়তানের পুরো চেষ্টা হল, সে আমাদেরকে তাওবা-ইস্তিগফার থেকে বিরত রাখবে। কখনো অহঙ্কারে লিপ্ত করে এবং কখনো গুনাহের প্রতি হতাশ করে। যখন কোন বান্দা গুনাহের প্রতি হতাশ হয়ে তাওবা ছেড়ে দেয়, তখন শয়তান নিজের সফলতার উপর আনন্দ-উল্লাস করে। আর যখন কোন বান্দা নিজের নেকির কারণে অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে তাওবা করা থেকে বিরত থাকে, তখনই শয়তান তাকে নিজের শিকার বানিয়ে নেয়।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের হাত

📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের হাত


আকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- "আল্লাহ তা'আলা প্রতি রাতে নিজের হাত প্রসারিত করে বলেন- আছো দিনের কোন গুনাহগার! তাওবা করে নাও। এভাবে প্রতি দিন স্বীয় রহমতের হাত প্রসারিত করে বলেন, আছো কোন রাতের গুনাহগার! তাওবা করে নাও। আর এই ধারাবাহিকতা সূর্যাস্ত পর্যন্ত চালু থাকে। "[১১৫]
আল্লাহু আকবার কাবীরা! আল্লাহ তা'আলার রহমতের হাত! আমাদের যদি এই রহমত নসিব হয়ে যায়, তাহলে শয়তান আমাদের কি ক্ষতি করবে। আল্লাহ তা'আলা ডাকছেন। নিজের রহমতের দিকে। তাওবার দরজার দিকে। যেমন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
تُوبُوا إِلَى اللهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”[১১৬]
আল্লাহ তা'আলা আরও ইরশাদ করেন-
فَفِرُّوا إِلَى اللهِ । “সুতরাং তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও।”[১১৭]
প্রিয় পাঠক! আজকের সূর্যও পূর্ব দিকেই উদিত হয়েছে। তাতে বুঝা গেল তাওবার দরজা খোলা আছে এবং আল্লাহ তা'আলার রহমতের হাত আমাদেরকে তাঁর দিকে ডাকছে। মহান রবের আমাদের প্রয়োজন নেই কিন্তু তারপরও আমাদেরকে ডাকছেন। তথাপি বিলম্ব কিসের? আসুন আমরা গুনাহ ত্যাগ করে হতাশাকে ছুঁড়ে ফেলে দিই এবং নিজের রবের দিকে, নিজের সৃষ্টিকর্তা ও নিজের পালনকর্তা মালিকের দিকে ধাবিত হই。

টিকাঃ
[১১৫] সহিহ মুসলিম
[১১৬] নূর- ২৪: ৩১
[১১৭] যারিয়াত- ৫১:৫০

ফন্ট সাইজ
15px
17px