📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গুনাহের তদারকি

📄 গুনাহের তদারকি


যে সকল গুনাহের সম্পর্ক আল্লাহ তা'আলার সাথে যেমন: সালাতের ক্ষেত্রে অলসতা, জাকাতের বেলায় গাফলত, গায়রে মাহরামের দিকে দৃষ্টি দেওয়া, বিনা অজুতে কুরআনুল কারিম স্পর্শ করা, কোন বিদ'আতে লিপ্ত হওয়া, গান-বাজনা শোনা ও মাদকাসক্ত হওয়া ইত্যাদি। এ সকল গুনাহের জন্য ইস্তিগফার করার পরে তার তদারকির চেষ্টা করা উচিত। নিজের ছুটে যাওয়া সালাতসমূহ আদায় করা। ছুটে যাওয়া সিয়ামগুলো পূর্ণ করা। হজ ও যাকাতের ক্ষেত্রে যে সকল কমতি হয়েছে সেগুলো পূর্ণ করা। দৃষ্টির অধিক হেফাজত করা। কুরআনুল কারিমের পূর্বের চেয়ে অধিক সম্মান করা। গরিব-অসহায়দেরকে ঠাণ্ডা পানি পান করানো। যে পরিমাণ সময় গান-বাজনাতে ব্যয় করতেন সে পরিমাণ সময় তিলাওয়াত অথবা কোন দীনি মজলিস কিংবা দীনি বয়ান শোনা। কুরআনুল কারিম ক্রয় করে ওয়াকফ করা। অর্থাৎ যে প্রকারের গুনাহ হয়েছে ঠিক তার সম্পূর্ণ উল্টো এবং বিপরীত নেক কাজ করা। তাহলে যেন গুনাহের অন্ধকারসমূহ নেক কাজের নূরের দ্বারা দূর হয়ে যায়। তবে কোন কোন গুনাহ এমন রয়েছে যে, তার কাফ্ফারা শুধুমাত্র দুঃখ-কষ্টই যথেষ্ট। তাই খাঁটি তাওবার পরে যদি কিছু কঠিন পরিস্থিতি ও কিছু দুঃখ-কষ্টের অবস্থা এসে যায়, তাহলে এর জন্য পেরেশান না হওয়া। এটা তো তার গুনাহসমূহ মিটানোর মাধ্যম হয়ে থাকে। তাইতো এক বর্ণনার সারমর্ম হল-যখন বান্দার গুনাহ অধিক হয় আর তার নিকট এমন আমল না থাকে, যা উক্ত গুনাহসমূহের কাফ্ফারা হতে পারে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার উপর অনেক দুঃখ-কষ্ট চাপিয়ে দেন। আর উক্ত দুঃখ-কষ্টই তার গুনাহসমূহের কাফ্ফারা হয়ে যায়।[৫৭]

টিকাঃ
[৫৭] এহইয়াউল উলুম

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 অন্তরের মরিচা দূর হবে কীভাবে

📄 অন্তরের মরিচা দূর হবে কীভাবে


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ لِلْقُلُوْبِ صَدَأً كَصَدْهِ الْحَدِيدِ وَجِلَاءُهَا الْإِسْتِغْفَارُ
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—অন্তরসমূহেও মরিচা পড়ে যেমনটি লোহার মধ্যে মরিচা পড়ে। আর তা পরিষ্কার করার মাধ্যম হল ইস্তিগফার। "[৫৯]

টিকাঃ
[৫৯] শু'আবুল ইমান; বায়হাকী; মু'জামুল আওসাত ও মু'জামুল কাবীর লিত-তাবরানী জামেউস সগীর: হাদিস নং ২৩৮৯

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 হজরত সুফিয়ান সাওরী রাহি.-এর ইস্তিগফার

📄 হজরত সুফিয়ান সাওরী রাহি.-এর ইস্তিগফার


আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন খাযিমা আল-ইস্কান্দারানী বলেন-যখন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহি.-এর ইন্তেকাল হল, আমি তখন অনেক দুঃখ এবং আঘাত পেলাম। ইতোমধ্যে আমি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহি.-কে স্বপ্নে দেখলাম। অনেক সুসজ্জিতভাবে চলাফেরা করছেন। আমি আরজ করলাম, হে আবু আব্দুল্লাহ! এটা কেমন অবস্থা? তিনি বললেন, জান্নাতি খাদেমদের কাজ। আমি আরজ করলাম, আল্লাহ তা'আলা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে মুকুট পরিয়েছেন এবং দুটি স্বর্ণের জুতা পরিয়েছেন। আর বলেছেন, হে আহমাদ! এটা তোমার ঐ কথার প্রতিদান, যা তুমি বলেছিলে। অর্থাৎ কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম (মাখলুক নয়)। তারপর বলেছেন-হে আহমাদ! আমার নিকট ঐ দু'আ কর, যা তোমার নিকট সুফিয়ান সাওরী থেকে পৌঁছেছিল এবং তুমি দুনিয়াতে আমার নিকট করতে। আমি বললাম-
يَارَبَّ كُلَّ شَيْءٍ بِقُدْرَتِكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ اغْفِرْلِيْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى لَا تَسْتَلَنِي عَنْ شَيْءٍ
অর্থ: হে সকল বস্তুর রব! সকল বস্তুর উপর স্বীয় কুদরতের সদকায় আমার সবকিছু ক্ষমা করে দিন। এমনকি আপনি আমার থেকে কোন কিছুর হিসাব নিবেন না।
এর প্রতিউত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেন- হে আহমাদ! ঐ যে সামনে জান্নাত। উঠো এবং তাতে প্রবেশ কর।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের শান

📄 আল্লাহ তা‘আলার রহমতের শান


একটু মহব্বতের দৃষ্টি প্রসারিত করুন। হজরত আকা মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কয়েকটি বরকতময় হাদিস পাঠ করুন- ক. আল্লাহ তা'আলা যখন মাখলুককে সৃষ্টি করেছেন, তখন একটি কথা লিখেছেন এবং তা আল্লাহ তা'আলার নিকট আরশের উপরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। আর তা হল-
*। "নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গজবের উপর অগ্রগামী।"
আল্লাহু আকবার! আমার রব অনেক দয়াবান। গুনাহের পরে যখন মসজিদে যাওয়ার তাওফিক হয়, তখন একটু ভাবুন যে, আমার রব কত মহান এবং “রাহিম” তথা দয়াবান। অপরাধীকে নিজের ঘরে আসার অনুমতি ও তাওফিক দিয়েছেন। মানুষ হলে তো পায়ের নালাই ভেঙ্গে দিত। অথচ এখানে অপরাধীকে নিজের ঘরে নিজের সামনে সিজদা করার অনুমতি পর্যন্ত মিলে। সুবহানাল্লাহ!
খ. আল্লাহ তা'আলার নিকট একশত রহমত রয়েছে। উক্ত একশত রহমত থেকে মাত্র একটি রহমত আল্লাহ তা'আলা জমিনে অবতীর্ণ করেছেন। আর এই একটি মাত্র রহমতের কারণেই জিন-ইনসান, পশু-পাখি পরস্পর এত মায়া-মহব্বত করে থাকে এবং এ কারণেই হিংস্র জানোয়ার তার বাচ্চাদের উপর দয়া করে। আর নিরান্নব্বইটি রহমত আল্লাহ তা'আলা নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন। সেগুলোর মাধ্যমে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ করবেন।
সকল মাখলুক জমিনের সৃষ্টি থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি মাত্র রহমতের উপর উৎসর্গিত। বিভিন্ন প্রকার মহব্বত, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা এবং জানা নেই আরও কী কী। এটা হল শুধুমাত্র একটি রহমতের ফল। আর যখন কিয়ামতের দিন নিরান্নব্বইটি রহমত প্রদর্শিত হবে, তখন সকল মাখলুক বলে উঠবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা অনেক বড় দয়াবান ও অনুগ্রহশীল।
গ. মুমিন যদি আল্লাহ তা'আলার শাস্তির কথা জানত, তাহলে কখনোই জান্নাতের আশা করত না। আর যদি কাফির আল্লাহ তা'আলার রহমতের কথা জানত, তাহলে কখনো তাঁর জান্নাত থেকে নিরাশ হত না。
কোন সন্দেহ নেই যে, মালিক অনেক মহান। আবার তিনি شَدِيدُ الْعِقَاب তথা কঠোর শাস্তি প্রদানকারীও বটে। মোটকথা আল্লাহ তা'আলার রহমত এত বিশাল ও ব্যাপক যে, কোন কাফিরও যদি তার বাস্তবতা বুঝতে পারত, তাহলে কুফরের উপর মৃত্যুবরণ করা সত্ত্বেও জান্নাতের আশা করত। আমরা আমাদের আকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী পাঠ করেছি। আল্লাহ তা'আলা নিজেই লিখে দিয়েছেন, رَحْمَتى سَبَقَتْ غَضَبِيْ তথা আমার রহমত আমার গজবের উপর অগ্রগামী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px