📄 গুনাহের প্রচার করো না
আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার নিকট এক মহিলা আসলো। এসে মাসআলা জিজ্ঞেস করার মত করে নিজের গুনাহের আলোচনা করতে লাগল। সম্ভবত ইহরাম অবস্থায় কেউ তার হাতের কব্জি ধরেছে অথবা স্পর্শ করেছে। সে যখনই এ কথা বলেছে অমনি আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন-
থাম! থাম! অতঃপর বললেন-
হে ইমানদার নারীগণ! তোমাদের কারো যদি কোন গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে অন্য কাউকে বলো না। বরং সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা-ইস্তিগফার করো। মনে রাখবে! বান্দা শুধু লজ্জা দেয়, কোন পরিবর্তন করতে পারে পঞ্চাশ না। অপর দিকে আল্লাহ তা'আলা পরিবর্তন করে দেন, লজ্জা দেন না। অর্থাৎ তোমরা যদি তোমাদের গুনাহসমূহ মানুষের নিকট বলে বেড়াও, মানুষ তোমাদের এ সকল গুনাহ ক্ষমা ও মুছে দিতে পারবে না। না তোমাদের অবস্থাকে পরিবর্তন করতে পারবে এবং না তোমাদেরকে গুনাহের ক্ষতিসমূহ থেকে বাঁচাতে পারবে। তবে হ্যাঁ! অবশ্যই তারা তোমাদেরকে বদনাম এবং লজ্জায় ফেলতে পারবে। যখনই সুযোগ পাবে তখনই তারা উক্ত গুনাহের কারণে লজ্জা, অপমান ও বদনামে লিপ্ত করতে পারবে। যেখানে আল্লাহ তা'আলা না লজ্জিত করেন। না বদনাম করেন এবং না অপমান করেন। বরং তিনি তোমাদের দুরবস্থাকে ভাল অবস্থায় উন্নীত করে দেন। তিনি তোমাদের গুনাহের ক্ষতিসমূহ থেকে বাঁচিয়ে দেন। তিনি "আল-আফু" তথা ক্ষমাকারী। তিনি গুনাহকে মুছে দেন। তিনি "আল-গাফুর" তথা তিনি গুনাহকে গোপন করেন এবং কোন কোন সময় তো এমন রহমত এবং পরিবর্তন করে দেন যে, স্বয়ং গুনাহগার বান্দারও স্বীয় গুনাহ মনে থাকে না। মনে হয় যেন সর্বদিক থেকে গুনাহের নাম-নিশানা পর্যন্ত মুছে গেছে। না তা আমলনামায় অবশিষ্ট আছে, না তা গুনাহ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতার স্মরণ আছে। না তা এ জমিনের স্বরণ আছে, যেখানে তা সংঘটিত হয়েছিল। না তা সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্মরণ আছে যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে সেই গুনাহ করেছিল এবং না স্বয়ং গুনাহগার বান্দার স্মরণ আছে।
এমন দয়া ও মাগফিরাত আর কে করতে পারে? যতক্ষণ জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলমান। যতক্ষণ সূর্য পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে, তাওবার দরজাও ততক্ষণ খোলা। প্রিয় পাঠক! বেশি বেশি ইস্তিগফার। অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার। খাঁটি ইস্তিগফার। উত্তম তাওবা। খাঁটি তাওবা। সত্য তাওবা। পাক্কা তাওবা।
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ نَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ الَيْكَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ إِلَيْكَ؛ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ أَلَيْكَ؛
📄 গুনাহের তদারকি
যে সকল গুনাহের সম্পর্ক আল্লাহ তা'আলার সাথে যেমন: সালাতের ক্ষেত্রে অলসতা, জাকাতের বেলায় গাফলত, গায়রে মাহরামের দিকে দৃষ্টি দেওয়া, বিনা অজুতে কুরআনুল কারিম স্পর্শ করা, কোন বিদ'আতে লিপ্ত হওয়া, গান-বাজনা শোনা ও মাদকাসক্ত হওয়া ইত্যাদি। এ সকল গুনাহের জন্য ইস্তিগফার করার পরে তার তদারকির চেষ্টা করা উচিত। নিজের ছুটে যাওয়া সালাতসমূহ আদায় করা। ছুটে যাওয়া সিয়ামগুলো পূর্ণ করা। হজ ও যাকাতের ক্ষেত্রে যে সকল কমতি হয়েছে সেগুলো পূর্ণ করা। দৃষ্টির অধিক হেফাজত করা। কুরআনুল কারিমের পূর্বের চেয়ে অধিক সম্মান করা। গরিব-অসহায়দেরকে ঠাণ্ডা পানি পান করানো। যে পরিমাণ সময় গান-বাজনাতে ব্যয় করতেন সে পরিমাণ সময় তিলাওয়াত অথবা কোন দীনি মজলিস কিংবা দীনি বয়ান শোনা। কুরআনুল কারিম ক্রয় করে ওয়াকফ করা। অর্থাৎ যে প্রকারের গুনাহ হয়েছে ঠিক তার সম্পূর্ণ উল্টো এবং বিপরীত নেক কাজ করা। তাহলে যেন গুনাহের অন্ধকারসমূহ নেক কাজের নূরের দ্বারা দূর হয়ে যায়। তবে কোন কোন গুনাহ এমন রয়েছে যে, তার কাফ্ফারা শুধুমাত্র দুঃখ-কষ্টই যথেষ্ট। তাই খাঁটি তাওবার পরে যদি কিছু কঠিন পরিস্থিতি ও কিছু দুঃখ-কষ্টের অবস্থা এসে যায়, তাহলে এর জন্য পেরেশান না হওয়া। এটা তো তার গুনাহসমূহ মিটানোর মাধ্যম হয়ে থাকে। তাইতো এক বর্ণনার সারমর্ম হল-যখন বান্দার গুনাহ অধিক হয় আর তার নিকট এমন আমল না থাকে, যা উক্ত গুনাহসমূহের কাফ্ফারা হতে পারে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার উপর অনেক দুঃখ-কষ্ট চাপিয়ে দেন। আর উক্ত দুঃখ-কষ্টই তার গুনাহসমূহের কাফ্ফারা হয়ে যায়।[৫৭]
টিকাঃ
[৫৭] এহইয়াউল উলুম
📄 অন্তরের মরিচা দূর হবে কীভাবে
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ لِلْقُلُوْبِ صَدَأً كَصَدْهِ الْحَدِيدِ وَجِلَاءُهَا الْإِسْتِغْفَارُ
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—অন্তরসমূহেও মরিচা পড়ে যেমনটি লোহার মধ্যে মরিচা পড়ে। আর তা পরিষ্কার করার মাধ্যম হল ইস্তিগফার। "[৫৯]
টিকাঃ
[৫৯] শু'আবুল ইমান; বায়হাকী; মু'জামুল আওসাত ও মু'জামুল কাবীর লিত-তাবরানী জামেউস সগীর: হাদিস নং ২৩৮৯
📄 হজরত সুফিয়ান সাওরী রাহি.-এর ইস্তিগফার
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন খাযিমা আল-ইস্কান্দারানী বলেন-যখন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহি.-এর ইন্তেকাল হল, আমি তখন অনেক দুঃখ এবং আঘাত পেলাম। ইতোমধ্যে আমি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহি.-কে স্বপ্নে দেখলাম। অনেক সুসজ্জিতভাবে চলাফেরা করছেন। আমি আরজ করলাম, হে আবু আব্দুল্লাহ! এটা কেমন অবস্থা? তিনি বললেন, জান্নাতি খাদেমদের কাজ। আমি আরজ করলাম, আল্লাহ তা'আলা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে মুকুট পরিয়েছেন এবং দুটি স্বর্ণের জুতা পরিয়েছেন। আর বলেছেন, হে আহমাদ! এটা তোমার ঐ কথার প্রতিদান, যা তুমি বলেছিলে। অর্থাৎ কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম (মাখলুক নয়)। তারপর বলেছেন-হে আহমাদ! আমার নিকট ঐ দু'আ কর, যা তোমার নিকট সুফিয়ান সাওরী থেকে পৌঁছেছিল এবং তুমি দুনিয়াতে আমার নিকট করতে। আমি বললাম-
يَارَبَّ كُلَّ شَيْءٍ بِقُدْرَتِكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ اغْفِرْلِيْ كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى لَا تَسْتَلَنِي عَنْ شَيْءٍ
অর্থ: হে সকল বস্তুর রব! সকল বস্তুর উপর স্বীয় কুদরতের সদকায় আমার সবকিছু ক্ষমা করে দিন। এমনকি আপনি আমার থেকে কোন কিছুর হিসাব নিবেন না।
এর প্রতিউত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেন- হে আহমাদ! ঐ যে সামনে জান্নাত। উঠো এবং তাতে প্রবেশ কর।