📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গুনাহের ১৩টি ক্ষতি

📄 গুনাহের ১৩টি ক্ষতি


আল্লাহ তা'আলা আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। এই মুহূর্তে খাঁটি অন্তরে ইস্তিগফার করা অনেক বেশি প্রয়োজন। গুনাহ ইমানদারদেরকে এই দুনিয়াতেও দুঃখ এবং কষ্ট দেয়। হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুর উপরোক্ত দু'আটি থেকে জানা গেল যে, গুনাহের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নের ক্ষতিসমূহ হয়ে থাকে। যথা-
১. কিছু গুনাহ রয়েছে এমন যা আল্লাহ তা'আলার রাগ ও প্রতিশোধকে ডেকে নিয়ে আসে。
২. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের কাছ থেকে আল্লাহ তা'আলার নি'আমতসমূহ ছিনিয়ে নেয়。
৩. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষকে অনুতাপ-অনুশোচনা ও পেছনের দিকে নিক্ষেপ করে。
৪. কিছু গুনাহ আছে এমন যা আসমান থেকে অবতীর্ণ কল্যাণ, বরকত ও রুজি মানুষের নিকট আসা বন্ধ করে দেয়。
৫. কিছু গুনাহ আছে এমন যা বিপদ-মুসিবত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়。
৬. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষকে উপস্থিত গুনাহসমূহ থেকে বাঁচার শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয় এবং তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দেয়。
৭. কিছু গুনাহ আছে এমন যা ধ্বংসকে খুব দ্রুত ডেকে আনে。
৮. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের শত্রু বৃদ্ধি করে দেয়。
৯. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নিঃশেষ করে মানুষকে নিরাশার অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করে。
১০. কিছু গুনাহ আছে এমন যা দু'আসমূহ কবুল হওয়া বন্ধ করে দেয়。
১১. কিছু গুনাহ আছে এমন যা বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়。
১২. কিছু গুনাহ আছে এমন যা বাতাসকে ক্ষতিকর করে দেয়。
১৩. কিছু গুনাহ আছে এমন যা মানুষের দোষ-ত্রুটি জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেয়। হে আল্লাহ আমাদের এ সকল গুনাহ থেকে হেফাজত করুন।
এখানে গুনাহের সম্ভাব্য ১৩টি ক্ষতি বর্ণনা করা হল। আল্লাহ তা'আলা আমাদের অবস্থার উপর রহম করুন। আমার মনে হয়, আমরা সামাজিকভাবেই এ সকল গুনাহে লিপ্ত আছি। এজন্য এ সকল গুনাহের তিক্ত ফল আস্বাদন করছি। তাই আমাদের অত্যন্ত দূরদৃষ্টির সাথে নিজেদের আত্মপর্যালোচনা করা প্রয়োজন এবং খাঁটি অন্তরে সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে ইস্তিগফার এবং সকল গুনাহ ত্যাগ করা আবশ্যক।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গুনাহের দুনিয়াবী ক্ষতিসমূহ

📄 গুনাহের দুনিয়াবী ক্ষতিসমূহ


গুনাহ বলা হয় আল্লাহ তা'আলার নাফরমানী তথা অবাধ্যতাকে। গুনাহ থেকে তাওবা ও ইস্তিগফার করতে বিলম্ব করা উচিত নয়। গুনাহের আসল আজাব তো মৃত্যুর পরে তবে গুনাহের কুপ্রভাব দুনিয়াতেও প্রকাশ হয়ে যায়। ইমাম গাজালী রাহি. লিখেন-
অধিকাংশই এমন হয় যে, ব্যক্তির উপর দুনিয়াতেই গুনাহের কুপ্রভাব শুরু হয়ে যায়। এমনকি কোন কোন সময় গুনাহের প্রভাবে রিজিক পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। কখনো গুনাহের কারণে মানুষের অন্তর থেকে সম্মান ও মর্যাদা উঠে যায় এবং শত্রু বিজয়ী হয়ে যায়। হাদিস শরিফে এসেছে যে, বান্দা গুনাহ করার কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-আমার জানামতে, গুনাহের কারণে মানুষ ইলম ভুলে যায়। আর এ অর্থেই হাদিসে এসেছে-যে ব্যক্তি গুনাহে লিপ্ত হয় তার বিবেক তার থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং পুনরায় কখনো আর তার নিকট ফিরে আসে না। কোন কোন আকাবিরের বক্তব্য হল- লা'নত বা অভিশাপ চেহারা কালো হয়ে যাওয়া ও ধন-সম্পদ কমে যাওয়ার নাম নয় বরং লা'নত বা অভিশাপ হল-ব্যক্তি একটি গুনাহ থেকে বের হয়ে একই ধরনের অপর আরেকটি গুনাহ অথবা এর চেয়েও আরও বড় কোন গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ গুনাহের একটি শাস্তি হল- একটি গুনাহের কারণে মানুষ অপর আরেকটি গুনাহে লিপ্ত হয়। হজরত ফুজাইল রাহি. বলেছেন-মানুষের উপর যে সকল বিপদ কিংবা মানুষের দুঃখ-কষ্ট আসে, তুমি জেনে রাখ যে, এগুলো সব গুনাহের কারণেই আসে। আর কোন কোন মনীষীর বক্তব্য হল- যদি আমার গাধার অভ্যাসও পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে আমি মনে করি যে, এটাও আমার কোন ভুল-ত্রুটির কারণেই হয়েছে। এক সূফী বুজুর্গের ঘটনা আছে যে, তিনি একটি সুদর্শন বালককে দেখে তাকিয়েই রয়েছেন। আরেক বুজর্গ এসে তার হাত ধরে বলল, এর (কু-নজরের) শাস্তি তুমি কিছু দিন পরে পাবে। ঠিকই এর ৩০ বছর পরে এর শাস্তি তিনি পেয়েছেন। হজরত আবু সুলাইমান দারানী রাহি. বলেন-স্বপ্নদোষ হওয়াও একটি শাস্তি। তিনি আরও বলেন যে, কোন ব্যক্তির কোন নামাজের জামাত ছুটে যাওয়াও কোন না কোন গুনাহের কারণেই হয়ে থাকে। একটি হাদিসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—বান্দা যখন স্বীয় কামনা-বাসনাকে আমার আনুগত্যের উপর প্রাধান্য দেয়, তখন তার সর্বনিম্ন অবস্থা হয়-তাকে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মজাদার মুনাজাত থেকে বঞ্চিত করে দেন। আল্লাহ তা'আলার অনুগত বান্দাদের উপর যে বিপদাপদ আসে, এগুলো তাদের গুনাহের কাফফারা হয়ে থাকে এবং এ বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করার ফলে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি হয়।

টিকাঃ
৯. এহইয়াউল উলূম: ইমাম গাজালী রাহি।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মানুষের ভয়ঙ্কর মুহূর্ত

📄 মানুষের ভয়ঙ্কর মুহূর্ত


বান্দার উপর আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য নি'আমত। মানুষের নফসের উপর যখন পেরেশানী এবং কুমন্ত্রণার আক্রমণ হয়, তখন সে মনে করে যে, আমার উপর আল্লাহ তা'আলার কোন নি'আমত নেই। আমি দুনিয়ার সবচেয়ে মজলুম। সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে বেশি দুঃখী মানুষ। এই মুহূর্তটা বড় ভয়ঙ্কর মুহূর্ত। অধিকাংশ মানুষ ঐ মুহূর্তেই বড় বড় ভুল করে থাকে। আর সারা জীবনভর সে ভুলের মাশুল দেয়। তাদের এ কথাও স্মরণ থাকে না যে, তাদের নিকট কালিমায়ে তায়্যিবার মত মূল্যবান নি'আমত রয়েছে। তারা ভুলে যায়, তারা যে শ্বাস গ্রহণ করছে তা কত বড় নি'আমত। তাদের এটাও মনে থাকে না যে, তাদের পেটে রয়েছে আল্লাহ তা'আলার প্রদত্ত খাবার। তাদের এটাও অনুভব হয় না যে, তাদের মন ও মননে কুরআনুল কারিমের কি পরিমাণ আয়াত রয়েছে। তারা এটাও ভুলে বসে যে, তাদের উপর আল্লাহ তা'আলার কতগুলো পর্দা রয়েছে। এমন পর্দা- যদি সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে তাদের সকল রাগ ও ক্ষোভ লজ্জায় পরিণত হবে। তারা এটাও ভাবে না যে, ঐ সময় তারা যে সব দুঃখ-কষ্ট অনুভব করছে, এই অনুভূতিটুকুও আল্লাহ তা'আলার কোন শক্তির বহিঃপ্রকাশ। আর না হয় এমন সময়ও আসে যখন মানুষ এমন অসহায় অবস্থায় পতিত হয় যে, তখন সে মার খায় কিন্তু রাগ হতে পারে না। তখন সে এমন দুঃখ-কষ্ট দেখে যে, তার শরীরে কিছু অনুভব করার মত অবস্থাও থাকে না। এজন্য যখনই নফসের উপর পেরেশানি ও কুমন্ত্রণার প্রচন্ড আক্রমণ হয়, তখন কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না নেওয়া। তখন একমাত্র কাজ হল একাগ্রচিত্তে ইস্তিগফারে লেগে যাওয়া। নিজের গুনাহের কথা স্মরণ করা এবং এর উপর কান্নাকাটি করা। আল্লাহ তা'আলার নিকট এর ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর নিজের মনকে বুঝানো যে, বর্তমানে যা কিছু আমার উপর দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, তা বাস্তব নয়। এগুলো একমাত্র শয়তানের ধোঁকা। আর শয়তান পলায়ন করে জিকির ও ইস্তিগফারের দ্বারা। সিদ্ধান্ত নেওয়া, অন্যকে অপবাদ দেওয়া এবং বেশি বেশি চিন্তা করার দ্বারা নয়।
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গুনাহের প্রচার করো না

📄 গুনাহের প্রচার করো না


আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহার নিকট এক মহিলা আসলো। এসে মাসআলা জিজ্ঞেস করার মত করে নিজের গুনাহের আলোচনা করতে লাগল। সম্ভবত ইহরাম অবস্থায় কেউ তার হাতের কব্জি ধরেছে অথবা স্পর্শ করেছে। সে যখনই এ কথা বলেছে অমনি আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা চেহারা ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন-
থাম! থাম! অতঃপর বললেন-
হে ইমানদার নারীগণ! তোমাদের কারো যদি কোন গুনাহ হয়ে যায়, তাহলে অন্য কাউকে বলো না। বরং সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা-ইস্তিগফার করো। মনে রাখবে! বান্দা শুধু লজ্জা দেয়, কোন পরিবর্তন করতে পারে পঞ্চাশ না। অপর দিকে আল্লাহ তা'আলা পরিবর্তন করে দেন, লজ্জা দেন না। অর্থাৎ তোমরা যদি তোমাদের গুনাহসমূহ মানুষের নিকট বলে বেড়াও, মানুষ তোমাদের এ সকল গুনাহ ক্ষমা ও মুছে দিতে পারবে না। না তোমাদের অবস্থাকে পরিবর্তন করতে পারবে এবং না তোমাদেরকে গুনাহের ক্ষতিসমূহ থেকে বাঁচাতে পারবে। তবে হ্যাঁ! অবশ্যই তারা তোমাদেরকে বদনাম এবং লজ্জায় ফেলতে পারবে। যখনই সুযোগ পাবে তখনই তারা উক্ত গুনাহের কারণে লজ্জা, অপমান ও বদনামে লিপ্ত করতে পারবে। যেখানে আল্লাহ তা'আলা না লজ্জিত করেন। না বদনাম করেন এবং না অপমান করেন। বরং তিনি তোমাদের দুরবস্থাকে ভাল অবস্থায় উন্নীত করে দেন। তিনি তোমাদের গুনাহের ক্ষতিসমূহ থেকে বাঁচিয়ে দেন। তিনি "আল-আফু" তথা ক্ষমাকারী। তিনি গুনাহকে মুছে দেন। তিনি "আল-গাফুর" তথা তিনি গুনাহকে গোপন করেন এবং কোন কোন সময় তো এমন রহমত এবং পরিবর্তন করে দেন যে, স্বয়ং গুনাহগার বান্দারও স্বীয় গুনাহ মনে থাকে না। মনে হয় যেন সর্বদিক থেকে গুনাহের নাম-নিশানা পর্যন্ত মুছে গেছে। না তা আমলনামায় অবশিষ্ট আছে, না তা গুনাহ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতার স্মরণ আছে। না তা এ জমিনের স্বরণ আছে, যেখানে তা সংঘটিত হয়েছিল। না তা সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্মরণ আছে যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে সেই গুনাহ করেছিল এবং না স্বয়ং গুনাহগার বান্দার স্মরণ আছে।
এমন দয়া ও মাগফিরাত আর কে করতে পারে? যতক্ষণ জীবনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলমান। যতক্ষণ সূর্য পূর্ব দিগন্তে উদিত হবে, তাওবার দরজাও ততক্ষণ খোলা। প্রিয় পাঠক! বেশি বেশি ইস্তিগফার। অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার। খাঁটি ইস্তিগফার। উত্তম তাওবা। খাঁটি তাওবা। সত্য তাওবা। পাক্কা তাওবা।
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ نَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ الَيْكَ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ إِلَيْكَ؛ نَسْتَغْفِرُكَ وَنَتُوْبُ أَلَيْكَ؛

ফন্ট সাইজ
15px
17px