📄 এক মজলিসে শতবার ইস্তিগফার
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ فِي الْمَجْلِسِ الْوَاحِدِ مِائَةَ مَرَّةٍ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُবْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, কোন মজলিস থেকে উঠার পূর্বে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই মজলিসে একশত বার পর্যন্ত এই দু'আ পাঠ করতেন। দু'আটি হল-
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُবْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি বার বার তাওবা কবুলকারী এবং বার বার ক্ষমাকারী। "
টিকাঃ
[১০৯] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫১৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৩৮১৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৫৩৫৪
📄 জীবনের শেষ মুহূর্তেও ইস্তিগফার
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ عِنْدَ وَفَاتِهِ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى
"হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মৃত্যুর সময় এই দু'আ পাঠ করতে শুনেছি। দু'আটি হল-
اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহম করুন এবং আমাকে রফিকে আ'লা তথা নবি ও ফেরশতাগণের সাথে মিলিয়ে দিন। "
টিকাঃ
[১১০] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৯৬; সুনানে ইবনে মাজাহঃ হাদিস নং ১৬১৯, মুআত্তা মালেক: হাদিস নং ৬৩৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৪৭৭৪
📄 আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ দৃষ্টি লাভ করার ইস্তিগফার
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ إِلَى الصَّلَاةِ فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِحَقِّ السَّابِلِينَ عَلَيْكَ، وَأَسْأَلُكَ بِحَقِّ مَمْشَايَ هَذَا، فَإِنِّي لَمْ أَخْرُجْ أَشَرًا وَلَا بَطَرًا وَلَا رِيَاءً وَلَا سُمْعَةً، وَخَرَجْتُ اتَّقَاءَ سُخْطِكَ، وَابْتِغَاءَ مَرْضَاتِكَ، فَأَسْأَلُكَ أَنْ تُعِيذَنِي مِنَ النَّارِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي, إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، أَقْبَلَ اللهُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ، وَاسْتَغْفَرَ لَهُ سَبْعُونَ أَلْفِ مَلَكٍ
"হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যে ব্যক্তি ঘর থেকে সালাতের জন্য বের হয়ে এই দু'আ পাঠ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার উপর বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য ইস্তিগফার করেন। দু'আটি হল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِحَقِّ السَّابِلِينَ عَلَيْكَ، وَأَسْأَلُكَ بِحَقِّ مَمْشَايَ هَذَا، فَإِنِّي لَمْ أَخْرُجْ أَشَرًا وَلَا بَطَرًا وَلَا رِيَاءً وَلَا سُمْعَةً، وَخَرَجْتُ اتَّقَاءَ سُخْطِكَ، وَابْتِغَاءَ مَرْضَاتِكَ، فَأَسْأَلُكَ أَنْ تُعِيذَنِي مِنَ النَّارِ، وَأَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي، إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার ঐ হকের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি, প্রার্থনাকারীদের যে হক আপনার উপর রয়েছে এবং আমার এই চলার কারণে। কেননা আমি গর্ব-অহংকার লোক দেখানো এবং নিজের প্রসিদ্ধি লাভের জন্য বের হইনি। বরং আমি তো আপনার অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি তালাশ করতে বের হয়েছি। সুতরাং আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যে, আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান এবং আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। বাস্তবতা হল-আপনাকে ব্যতীত কেউ গুনাহ মাফ করতে পারবে না।"
টিকাঃ
[১১১] যদিও আল্লাহ তা'আলার উপর কারও এমন কোন হক নেই, যা করা আল্লাহ তা'আলার উপর জরুরি। কেননা তিনি আমাদের একমাত্র মালিক ও অভিভাবক। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তাঁর উপর কারও এই অধিকার নেই যে, তাকে কিছু জিজ্ঞেস করে। উপরন্তু তিনি নিজ দয়া ও অনুগ্রহে বান্দার হক নিজের দায়িত্বে নিয়েছেন। যা তিনি অবশ্যই পূরণ করবেন। কেননা তিনি সত্যবাদী এবং তাঁর ওয়াদাও সত্য। এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহর সর্বসম্মত অভিমত। আর মু'তাযিলা সম্প্রদায় তাদের ভ্রান্তির কারণে মনে করে থাকে যে, নেক বান্দাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া এবং গুনাহগার বান্দাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা আল্লাহ তা'আলার উপর ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক। আর আমরা বলি যে, আল্লাহ তা'আলা এমনটি ওয়াদা করেছেন। তবে তাঁর উপর কোন কিছুই ওয়াজিব নয়। তাঁর উপর না কারও কোন জোর চলে। না কারও তাঁর সামনে সামান্য টু-শব্দ করার ক্ষমতা আছে। তিনি যদি চান, তাহলে মুহূর্তের মধ্যে সকল গুনাহগার, কাফির ও মুনাফিকদেরকে ক্ষমা করে দিতে পারেন এবং তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারেন এবং সকল নেককার, দীনদার ও পরহেযগারদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে পারেন। মোটকথা এ জাতীয় সকল কিছুই তাঁর একক ক্ষমতা ও ইচ্ছাধীন। যদিও বাহ্যত এমনটি হবার নয়। কেননা তাঁর ওয়াদা সত্য। আর তিনি ওয়াদা করেছেন যে, নেককার বান্দাদেরকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব এবং গুনাহগার বান্দা ও কাফির-মুশরিকদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর এমনটিই হবে।
[১১২] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৭৭৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১১৫৬
📄 ইস্তিগফার হল রাগের প্রতিষেধক
عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا إِذَا غَضِبَتْ عَرَكَ النَّبِيُّ ﷺ بِأَنْفِهَا ثُمَّ يَقُوْلُ: يَا عُوَيْشُ قُوْلِي: اللَّهُمَّ رَبَّ مُحَمَّدٍ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَأَذْهِبْ غَيْظَ قَلْبِيْ وَأَجِرْنِي مِنْ مُضِلَّاتِ الْفِتَنِ
"হজরত কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু বলেন যে, হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা যখন রেগে যেতেন, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তার নাক ঢলে দিতেন আর বলতেন-হে আয়েশা! এই দু'আ পড়ো-
اللَّهُمَّ رَبَّ مُحَمَّدٍ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَأَذْهِبْ غَيْظَ قَلْبِيْ وَأَجِرْنِي مِنْ مُضِلَّاتِ الْفِتَنِ
অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর রব! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন। আমার অন্তরের রাগকে প্রশমিত করুন এবং আমাকে পথভ্রষ্টকারী ফিতনাসমূহ থেকে রক্ষা করুন।"
টিকাঃ
[১১৩] ইবনুস সুন্নাহ: পৃষ্ঠা- ৪৫৭