📄 রাতে শোয়ার সময় তিন বার ইস্তিগফার
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ، قَالَ: مَنْ قَالَ حِينَ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ، وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ وَرَقِ الشَّجَرِ، وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ رَمْلِ عَالِجٍ وَإِنْ كَانَتْ عَدَدَ أَيَّامِ الدُّنْيَا
হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ বর্ণনা করে বলেন-কোন ব্যক্তি যদি বিছানায় (শোয়ার জন্য) এসে এই দু'আ তিন বার পাঠ করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার সমানও হয়। যদিও সে গুনাহ গাছের পাতার সমান হয়। যদিও সে গুনাহ বড় টিলার বালুর সমান হয়। যদিও সে গুনাহ দুনিয়ার দিনসমূহের সমান হয়। দু'আটি হল-
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আল্লাহ তা'আলার নিকট, যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি জীবিত সবকিছুর ধারক এবং আমি তাঁর নিকটই তাওবা করছি। [৮৯]
টিকাঃ
[৮৯] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১০৭৪
📄 রাতের বেলা উঠার সময় ইস্তিগফার
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ، قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ، اللَّهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
“হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতের বেলা উঠতেন, তখন এই দু'আ পড়তেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ اللَّهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلَا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: আপনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র। আমি আপনার নিকট আমার গুনাহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আপনার নিকট আপনার রহমত কামনা করছি। হে আল্লাহ! আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন এবং আমাকে হিদায়াত দেওয়ার পরে আমার অন্তরকে বাঁকা করে দেবেন না এবং আমাকে আপনার বিশেষ ভাণ্ডার থেকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি অধিক দানকারী।"[৯০]
টিকাঃ
[৯০] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৫০৬।
📄 তাহাজ্জুদের সময়ের হৃদয়গ্রাহী ইস্তিগফার
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতের বেলা তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন, তখন এই দু'আ পড়তেন-
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاءُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ اللَّهُمَّ لَكَ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
অর্থ: হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই জন্য। আপনি আসমান-জমিনের আলো। সকল প্রশংসা আপনারই জন্য। আপনি আসমান-জমিন এবং এতে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব। আপনার বাণী সত্য। আপনার ওয়াদা সত্য। আপনার সাক্ষাত সত্য। জান্নাত সত্য। জাহান্নাম সত্য। কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনার সামনেই নত হই। আপনার উপরই ইমান এনেছি। আপনার উপরই ভরসা করেছি। আপনার দিকেই অন্তর থেকে মনোযোগী হয়েছি। আপনার শক্তিতেই আমি শত্রুতা করেছি। আমি আপনার দরবারেই আমার ফায়সালা নিয়ে গিয়েছি। আমার পূর্বের-পরের, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আপনিই আমার উপাস্য। আপনাকে ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। [৯১]
টিকাঃ
[৯১] মুআত্তা মালেক: ১/৫০৬
📄 মসজিদে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় ইস্তিগফার
হজরত ফাতিমা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ ও সালাম প্রেরণ করতেন এবং এই দু'আ পড়তেন-
رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
অর্থ: হে আমার রব! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। [৯২]
টিকাঃ
[৯২] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭১৩; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩১৫; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৬৫; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ৭২৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৭৭১