📄 কয়েকটি ইশারা
আল্লাহ তা'আলা আমাকে ও আপনাদের সকলকে এবং গোটা মুসলিম উম্মাহকে মাগফিরাত দান করুন। আপনারা কি কখনো কুরআনুল কারিমের ইস্তিগফারের বিধানাবলী ও ঘটনাবলীর উপর চিন্তা-ভাবনা করেছেন? হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাই স্বীয় পিতার নিকট আবেদন করছে- হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য ইস্তিগফার করুন। সম্মানিত পিতাও ওয়াদা করেছেন। ভাবুন তো! নির্দেশ আসছে-হে নবি! এই গুনাহগার লোকেরা যদি আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজেদের গুনাহের উপর ইস্তিগফার করা অবস্থায় আপনার দরবারে আসে, তাহলে আপনিও তাদের জন্যে ইস্তিগফার করুন। তাহলে তাদের ক্ষমা নিশ্চিত হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! একটু ভাবুন! নির্দেশ আসছে-হে নবি! কালিমায়ে তাইয়্যেবাকে মজবুত করুন এবং নিজের জন্য ও সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ইস্তিগফার করুন। আরও দেখুন! বলা হচ্ছে যে, ঐ মহান ফেরেশতা যিনি আরশ বহন করছেন, সে জমিনের অধিবাসীদের জন্য ইস্তিগফার করছেন। আরও দেখুন! বলা হচ্ছে যে, মুনাফিকদেরকে যখন বলা হত যে, আসো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে। তিনি তোমাদের জন্যে ইস্তিগফার করবেন। মুনাফিকরা তখন অহঙ্কারের কারণে তাদের মুখ ফিরিয়ে নিত। এই ইশারাগুলোর উপর চিন্তা-ভাবনা করুন। তার স্বাদ নিন এবং তা থেকে নিজের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করুন। এগুলো সব হল কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন আলোকিত নুর।
اَسْتَغْফِرُ اللهَ لِي وَلِسَابِرِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ الْأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالْأَمْوَاتِ
📄 সকাল-বিকাল ইস্তিগফারের উপকারিতা
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا مِنْ حَافِظِينَ يَرْفَعَانِ إِلَى اللَّهِ فِي يَوْمٍ فَيَرَى تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي أَوَّلِ الصَّحِيفَةِ وَفِي آخِرِهَا اسْتِغْفَارًا إِلَّا قَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي مَا بَيْنَ طَرْفَي الصَّحِيفَةِ
হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যখনই কোন দুই ফেরেশতা যে কোন দিন এমন কোন আমলনামা আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির করে, যার শুরুতে এবং শেষে আল্লাহ তা'আলা ইস্তিগফার দেখতে পান, তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন- এই আমলনামার দুই পাশের মাঝখানকে (গুনাহ) আমি আমার বান্দার জন্য ক্ষমা করে দিলাম। [৮৭]
টিকাঃ
[৮৭] মাজমাউয-যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৫৭০
📄 হে মুসলিমগণ! সকাল-বিকাল ইস্তিগফার করুন
হে মুসলিমগণ! সকালে ইস্তিগফার করুন, বিকালেও ইস্তিগফার করুন। হে মুসলিমগণ! বার বার তাওবা করুন। বার বার ইস্তিগফার করুন। হে মুসলিমগণ! আল্লাহ তা'আলার মর্যাদাকে মেনে নিয়ে অনুতপ্ত অন্তরে ইস্তিগফার করুন। আজ মুসলিম উম্মাহ ইস্তিগফারের অনেক বেশি মুখাপেক্ষী। জালিম শাসকরা উম্মাতকে লুটে নিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে। দুনিয়ার মহব্বত আমাদের প্রশান্তি কেড়ে নিয়েছে।
📄 সকাল বেলায় ইস্তিগফার
হজরত যায়েদ বিন সাবিত রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে একটি দু'আ শিখিয়েছেন এবং এ কথার নির্দেশ দিয়েছেন যে, খুব খেয়াল রাখবে যেন তোমার পরিবারের লোকেরা দৈনিক এটা পাঠ করে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সকাল বেলায় এ দু'আটি পাঠ করবে-
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ وَمِنْكَ وَبِكَ وَإِلَيْكَ؛ اللَّهُمَّ مَا قُلْتَ مِنْ قَوْلٍ أَوْ نَذَرْتُ مِنْ نَذْرٍ أَوْ حَلَفْتُ مِنْ حَلْفٍ فَمَشِيَّتُكَ بَيْنَ يَدَيْهِ مَا شِئْتَ كَانَ وَمَا لَمْ تَشَأْ لَمْ يَكُنْ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ اللَّهُمَّ وَما صَلَّيْتُ مِنْ صَلَاةٍ فَعَلَى مَنْ صَلَّيْتَ وَمَا لَعَنْتُ مِنْ لَعْنَةٍ فَعَلَى مَنْ لَعَنْتَ إِنَّكَ أَنْتَ وَلِيِّ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَالْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ أَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ الرِّضَا بِالْقَضَاءِ، وَبَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ وَشَوْقًا إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ أَعُوذُ بِكَ اللَّهُمَّ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ أَوْ أَعْتَدِيَ أَوْ يُعْتَدَى عَلَيَّ أَوْ أَكْتَسِبَ خَطِيئَةً مُحْبِطَةً أَوْ ذَنْبًا لَا يُغْفَرُ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ فَإِنِّي أَعْهَدُ إِلَيْكَ فِي هَذِهِ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَأُشْهِدُكَ وَكَفَى بِكَ شَهِيدًا أَنِّي أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَكَ الْمُلْكُ وَلَكَ الْحَمْدُ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ وَأَشْهَدُ أَنَّ وَعْدَكَ حَقٌّ وَلِقَاءَكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةَ حَقٌّ وَالسَّاعَةَ آتِيَةٌ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّكَ تَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ إِنْ تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي تَكِلْنِي ضَيْعَةٍ وَعَوْرَةٍ وَذَنْبٍ وَخَطِيئَةٍ وَإِنِّي لَا أَثِقُ إِلَّا بِرَحْمَتِكَ فَاغْفِرْلِي ذَنْبِي كُلَّهُ إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি বার বার হাজির হচ্ছি এবং এটা আমার সৌভাগ্য। কল্যাণ আপনার ভাণ্ডারে রক্ষিত। আপনার পক্ষ থেকে। আপনার কারণে এবং আপনার দিকে। হে আল্লাহ! আমি যে কথাই বলেছি কিংবা মান্নত মেনেছি অথবা কসম খেয়েছি, সবগুলোই আপনার ইচ্ছার সামনে। যা আপনার ইচ্ছা, তা-ই হবে এবং যা আপনার ইচ্ছা নয়, তা হতে পারে না। গুনাহ থেকে বাঁচার এবং নেক কাজ করার তাওফিক একমাত্র আপনিই দিতে পারেন। নিশ্চয় আপনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমি যে দু'আই করেছি এবং রহমত কামনা করেছি, তা তাদের উপরই বর্ষিত হবে, যাদের উপর আপনার রহমত রয়েছে। আর যদি আমি কোন অভিশাপ দিয়ে থাকি, তাহলে তা তাদের উপরই পতিত হবে, যাদের উপর আপনার অভিশাপ রয়েছে। বাস্তবতা হল-দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার ওলী বা অভিভাবক। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যু দান করুন এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট রেযা বিল কাযা তথা সর্বদা আপনার ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা, মৃত্যুর পর উত্তম জীবন, আপনার সাক্ষাতের স্বাদ এবং আপনার সাথে সাক্ষাতের প্রেরণা কামনা করছি। সকল ক্ষতিকারক বস্তু এবং পথভ্রষ্টকারী ফিতনার স্বীকার হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় কামনা করছি। হে আল্লাহ! আমি জালিম এবং মাজলুম হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় কামনা করছি। আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমি নিজে কারও উপর সীমালঙ্ঘন করা এবং অন্য কেউ আমার উপর সীমালঙ্ঘন করা থেকে এবং এমন গুনাহ থেকে যা আমার নেকসমূহ ধ্বংস করবে অথবা এমন গুনাহ যার ক্ষমা নেই তা থেকে। হে আল্লাহ! হে আসমান ও জমিন সষ্টিকারী! হে সকল প্রকাশ্য এবং গোপন বিষয়ে অবগত! হে প্রভাবশালী ও সম্মানিত! এ দুনিয়াতে আপনার সাথে ওয়াদা করতেছি এবং আপনাকে সাক্ষী বানাচ্ছি। আর সাক্ষী হিসাবে আপনার সাক্ষীই যথেষ্ট। এ কথার উপর-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনার কোন শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র আপনারই। সকল প্রশংসা একমাত্র আপনার। আপনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার বান্দা ও রাসুল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনার ওয়াদা সত্য। আপনার সাথে সাক্ষাত সত্য। জান্নাত সত্য। কিয়ামত আসবে এবং আপনি কবরবাসীদেরকে জীবিত করবেন এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি যদি আমাকে আমাকে আমার নফসের সোপর্দ করে দেন, তাহলে আমার ক্ষতি। বেহায়াপনা, গুনাহ ও ক্ষতির সোপর্দ করে দেন, তাহলে আপনার রহমত ব্যতীত আমার আর কোন বস্তুর উপর ভরসা নেই। সুতরাং আমার সকল গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না। আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি বার বার তাওবা কবুলকারী এবং পুরোপুরি রহমতকারী। [৮৮]
টিকাঃ
[৮৮] মুসনাদে আহমাদ; তাবরানী; হাকেম