📄 ইস্তিগফার লাভের দু’টি পদ্ধতি
সুপ্রিয় পাঠক! আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে ইস্তিগফার নসিব করুন। প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফারের উপকারিতা অসংখ্য। ইস্তিগফার হল সকল কল্যাণের ভান্ডার এবং চাবি। এটা এই উম্মাহর জন্য আল্লাহ্ তা’আলার নিরাপত্তাস্বরূপ। আমরা যেন ইস্তিগফারের নি’আমত লাভ করতে পারি, তাই কয়েকটি জরুরি বিষয় নিয়ে উল্লেখ করা হল—
ক. অন্যের দোষ তালাশ না করা। অন্যের দোষ দেখা এবং তালাশ করার দ্বারা মানুষ ইস্তিগফার থেকে মাহরুম হয়ে যায়। বরং (আল্লাহ্ তা’আলা আমাদেরকে হেফাজত করুন) এই অপরাধের কারণে কোন কোন সময় মানুষ ঈমান থেকেও মাহরুম হয়ে যায়। এক ব্যক্তি চল্লিশ বছর বিনা পারিশ্রমিকে দীনের খিদমত করেছে। কিন্তু তার অভ্যাস ছিল যে, সে নারীদের দোষ তালাশের পেছনে লেগে থাকত। অমুকের সাথে অমুকের অবৈধ সম্পর্ক। অমুকের সাথে অমুকের অবৈধ ভাব রয়েছে। অমুকের মধ্যে এই দোষ, এই গুনাহ ও এই দুর্বলতা রয়েছে। তার এই অভ্যাসের কারণে যখন তার মৃত্যুর সময় হল, তখন সে— ইমান থেকে মাহরুম হয়ে গেল।
প্রিয় পাঠক! আসুন আমরা সকলে আমাদের নিজেদের দোষ এবং নিজেদের গুনাহ দেখি। অন্যের দোষ দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখি। তবেই পবিত্র ইস্তিগফার লাভ হবে ইন শা' আল্লাহ।
খ. নিজের গুনাহের কথা কাউকে না বলা। শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার সামনেই আবেদন করা। এমনিভাবে শুধুমাত্র মৌখিকভাবে বিনয়রূপে নিজেকে গুনাহগার ও মন্দ না বলা। মৌখিক বিনয় হল-কোন ব্যক্তি নিজেকে মানুষের সামনে গুনাহগার, অধম এবং মন্দ বলে। কিন্তু বাস্তবে তার অন্তরে আল্লাহ তা'আলার ভয় নেই। আর যদি কেউ তাকে গুনাহগার কিংবা মন্দ বলে, তখন সে রেগে আগুন হয়ে যায়। প্রিয় পাঠক! এটা বড় ভয়াবহ রোগ। যা অন্তরকে অনুতপ্ত হতে দেয় না এবং অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে। গুনাহ তো কোন খেলা নয়। বরং মহান এবং ক্রোধান্বিত রবের নাফরমানী তথা অবাধ্যতাকে গুনাহ বলা হয়। তারপরও নিজেকে গুনাহগার বলার উদ্দেশ্য কি? আর তাও আবার শুধুমাত্র মৌখিকভাবে। তবে হ্যাঁ! যারা অন্তর থেকে নিজেকে গুনাহগার ও অপরাধী বলে থাকেন, তারা ভয়ে ভীত হয়ে বার বার ইস্তিগফার করে থাকেন। বুজুর্গানে দীনের মধ্যে যারা নিজেদেরকে গুনাহগার বলতেন, তাদের এই সৎসাহস ছিল যে, অন্য কেউ যদি তাদেরকে গুনাহগার কিংবা মন্দ বলত, তারা একদমই অসন্তুষ্ট হতেন না এবং কোন প্রকার রাগও করতেন না। কেননা তারা মনে করতেন যে, তারা বাস্তবেই গুনাহগার। আমাদের মধ্যে যেহেতু সেই ইখলাস এবং সৎসাহস নেই, তাহলে আমরা শুধুমাত্র মৌখিকভাবে বিনয়ের অভিনয় করে নিজেকে গুনাহগার বলে নিজের নাফরমানী তথা অবাধ্যতার উপর অন্যকে সাক্ষী বানানোর কি প্রয়োজন। আর গুনাহগার শব্দটি কোন হালকা শব্দ নয়। প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফার তো সে-ই করে, যে নিজের মহান রবের মহব্বতে বিলীন হয়ে যায়। এটি একটি গুণ। যা মুমিনের অন্তরে এই চিন্তাভাবনা তৈরি করে দেয় যে, আমার প্রিয় রব যেন আমার প্রতি অসন্তুষ্ট না হন এবং এই সুধারণা তৈরি করে দেন যে, আল্লাহ তা'আলা সকল গুনাহই তাওবার দ্বারা ক্ষমা করে দেন।
প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফার! ইস্তিগফার! এবং ইস্তিগফার। আল্লাহ তা'আলা নিজেই ইরশাদ করেন-
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنফُসِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
"বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"[৮৬]
টিকাঃ
[৮৬] যুমার- ৩৯: ৫৩
📄 কয়েকটি ইশারা
আল্লাহ তা'আলা আমাকে ও আপনাদের সকলকে এবং গোটা মুসলিম উম্মাহকে মাগফিরাত দান করুন। আপনারা কি কখনো কুরআনুল কারিমের ইস্তিগফারের বিধানাবলী ও ঘটনাবলীর উপর চিন্তা-ভাবনা করেছেন? হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাই স্বীয় পিতার নিকট আবেদন করছে- হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য ইস্তিগফার করুন। সম্মানিত পিতাও ওয়াদা করেছেন। ভাবুন তো! নির্দেশ আসছে-হে নবি! এই গুনাহগার লোকেরা যদি আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজেদের গুনাহের উপর ইস্তিগফার করা অবস্থায় আপনার দরবারে আসে, তাহলে আপনিও তাদের জন্যে ইস্তিগফার করুন। তাহলে তাদের ক্ষমা নিশ্চিত হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! একটু ভাবুন! নির্দেশ আসছে-হে নবি! কালিমায়ে তাইয়্যেবাকে মজবুত করুন এবং নিজের জন্য ও সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ইস্তিগফার করুন। আরও দেখুন! বলা হচ্ছে যে, ঐ মহান ফেরেশতা যিনি আরশ বহন করছেন, সে জমিনের অধিবাসীদের জন্য ইস্তিগফার করছেন। আরও দেখুন! বলা হচ্ছে যে, মুনাফিকদেরকে যখন বলা হত যে, আসো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে। তিনি তোমাদের জন্যে ইস্তিগফার করবেন। মুনাফিকরা তখন অহঙ্কারের কারণে তাদের মুখ ফিরিয়ে নিত। এই ইশারাগুলোর উপর চিন্তা-ভাবনা করুন। তার স্বাদ নিন এবং তা থেকে নিজের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করুন। এগুলো সব হল কুরআনুল কারিমের বিভিন্ন আলোকিত নুর।
اَسْتَغْফِرُ اللهَ لِي وَلِسَابِرِ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ الْأَحْيَاءِ مِنْهُمْ وَالْأَمْوَاتِ
📄 সকাল-বিকাল ইস্তিগফারের উপকারিতা
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا مِنْ حَافِظِينَ يَرْفَعَانِ إِلَى اللَّهِ فِي يَوْمٍ فَيَرَى تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي أَوَّلِ الصَّحِيفَةِ وَفِي آخِرِهَا اسْتِغْفَارًا إِلَّا قَالَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي مَا بَيْنَ طَرْفَي الصَّحِيفَةِ
হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যখনই কোন দুই ফেরেশতা যে কোন দিন এমন কোন আমলনামা আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির করে, যার শুরুতে এবং শেষে আল্লাহ তা'আলা ইস্তিগফার দেখতে পান, তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন- এই আমলনামার দুই পাশের মাঝখানকে (গুনাহ) আমি আমার বান্দার জন্য ক্ষমা করে দিলাম। [৮৭]
টিকাঃ
[৮৭] মাজমাউয-যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৫৭০
📄 হে মুসলিমগণ! সকাল-বিকাল ইস্তিগফার করুন
হে মুসলিমগণ! সকালে ইস্তিগফার করুন, বিকালেও ইস্তিগফার করুন। হে মুসলিমগণ! বার বার তাওবা করুন। বার বার ইস্তিগফার করুন। হে মুসলিমগণ! আল্লাহ তা'আলার মর্যাদাকে মেনে নিয়ে অনুতপ্ত অন্তরে ইস্তিগফার করুন। আজ মুসলিম উম্মাহ ইস্তিগফারের অনেক বেশি মুখাপেক্ষী। জালিম শাসকরা উম্মাতকে লুটে নিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে। দুনিয়ার মহব্বত আমাদের প্রশান্তি কেড়ে নিয়েছে।