📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহর তা‘আলার সন্তুষ্টি

📄 আল্লাহর তা‘আলার সন্তুষ্টি


অজু করতেছে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সালাতের জন্য দৌড়াচ্ছে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সিয়াম পালন করতেছে। হজ পালন করতেছে। জিকির-আজকারে লিপ্ত রয়েছে। জিহাদে রত আছে। লোকেরা গান শুনতেছে আর এরা গান থেকে দূরে থাকছে। ফিল্ম থেকে দূরে থাকছে। কুদৃষ্টি থেকে দূরে থাকছে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সকাল-বিকাল ইস্তিগফার। দুরূদ শরিফ ও কালিমায়ে তাইয়্যেবার আমল। স্রষ্টার ইবাদাত এবং মাখলুকের খিদমত। এমন আমানত যে, মন সম্ভ্রষ্ট হয়ে যায়। এমন বিনয় যে, জমিন ঈর্ষা করে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সকাল-বিকাল, রাত-দিন শুধু কাজই কাজ। অবশেষে ভালোবাসার এই বন্ধন অকল্পনীয় ব্যর্থতায়ই পরিণত হবে এবং "রাহমাতুল্লাহি আলাইহি" এর ঘোষণা সাত আসমানে গুঞ্জরিত হবে।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 হে সাহসীগণ! ক্লান্ত হয়ো না

📄 হে সাহসীগণ! ক্লান্ত হয়ো না


হে সাহসীগণ! ক্লান্ত হয়ো না, যে কোন মুহূর্তে কবুলিয়াতের আওয়াজ এসে যাবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— বান্দা যদি আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য একাধারে লেগে থাকে, আল্লাহ তা'আলা তখন জিবরাইল আলাইহিস সালামকে বলেন, আমার অমুক বান্দা আমাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ভাল করে শুনে রাখ! তার উপর আমার রহমত রয়েছে। জিবরাইল আলাইহিস সালাম (এটা শুনে) বলেন- رَحْمَةُ اللهِ عَلَى فُلَانٍ অর্থাৎ তার উপর আল্লাহ তা'আলার রহমত রয়েছে। অতঃপর আরশ বহনকারী ফেরেশতাও এটা বলে এবং তার আশেপাশের সকলে এটা বলে। এমনকি সাত আসমানের ফেরেশতারা পর্যন্ত এটা বলতে থাকে। তারপর এই রহমতের বার্তা জমিনে অবতীর্ণ করা হয়। [৮১]

টিকাঃ
[৮১] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২২৪০১

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আশ্চর্য এক অবস্থা

📄 আশ্চর্য এক অবস্থা


মোটকথা মুসিবতের সময় যদি আল্লাহ তা'আলার উপর অভিযোগ তৈরি না হয়, বরং এই বিশ্বাস অন্তরে দৃঢ় হয় যে, আল্লাহ ত'আলার অনুগ্রহ তো অসংখ্য রয়েছে। স্বয়ং আমি নিজেই তো গুনাহগার, অসংখ্য ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা ও অপরাধী। এটা হল ঐ আশ্চর্য অবস্থা, যা মাছের পেট থেকেও মানুষকে জীবিত বের করে আনে। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দু'আটি পাঠ করে দেখুন-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ । হে আল্লাহ! আপনি তো পবিত্র। আপনার প্রতি কোন অভিযোগ নেই।
إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ । আমি নিজেই জালিম এবং অপরাধী।
যখন এই বাক্য অন্তরের বাক্যে পরিণত হবে, অর্থাৎ মন থেকে বিশ্বাস করবে যে, ভুল ও অপরাধ আমার নিজের এবং আল্লাহ তা'আলার প্রতি কোন প্রকার অভিযোগ থাকবে না, তখন নুসরাত ও সাহায্যের এমন দরজা খুলবে যে, বিবেক-বুদ্ধি সব হয়রান হয়ে যাবে। কিন্তু আফসোস! আমরা এমন অবস্থা থেকে বঞ্চিত। আর এটা কত আশ্চর্যের কথা যে, হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ন্যায় নবি, যিনি সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ছিলেন। তার এই অবস্থা নসিব হয়েছে। হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু যার নিশ্চিত জান্নাতের সুসংবাদ ছিল। তিনিও এই অবস্থায় ঢুবে নিজেকে গুনাহগার ও অপরাধী মনে করে কেঁদেছেন। আমাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত গুনাহে ঢুবে আছি। তবুও এই অবস্থা থেকে বঞ্চিত রয়েছি। বস্তুত আমাদের জন্য তো নিজেকে গুনাহগার ও অপরাধী মনে করা অধিক সহজ হওয়া উচিত ছিল।
এ ধরনীর কোন গুনাহ আছে যা আমরা দীনদার দাবিদারদের মাঝে নেই? পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আত্ম অহমিকা, দুনিয়ার মহব্বত, অহংকার, খ্যাতির লোভ, ফটোসেশন এবং নির্লজ্জতা (নাউযুবিল্লাহ) কোন কোন গুনাহের কথা উল্লেখ করব। হিংসা এবং শত্রুতা আমাদেরকে ভেতর থেকে ঝাঁজরা করে দিয়েছে এবং সম্মিলিত সম্পদের ক্ষেত্রে অসতর্কতা আমাদেরকে ধোঁকার জাল বানিয়ে দিয়েছে। বাস্তবেই আমরা তাওবা ও ইস্তিগফারের সীমাহীন মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে স্বীয় গুনাহের ভয়াবহতা বুঝার তাওফিক দান করুন।
পবিত্র কুরআনকেই নিন না! আমরা এটাকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলি। কিন্তু আমাদের রাত-দিন কাটে এর তিলাওয়াত শূন্য অবস্থায়। আমরা এর হক সম্পর্কে উদাসীন। কত হাফেজে কুরআন দীনি কাজের ধোঁকায় হিফজের নি'আমত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর এটাই যদি হয় আমাদের দীন যে, কুরআনুল কারিম ও ভুলে যাবে, তাহলে আল্লাহ তা'আলাই আমাদেরকে হিদায়াত দান করুন।
মোটকথা আমরা অনেক গুনাহগার। কিন্তু তারপরও আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ দেখুন! তিনি আমাদেরকে ইমানের মত মহামূল্যবান সম্পদ দান করেছেন। আমাদেরকে দীন এবং জিহাদের সুদৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি দান করেছেন। এ যুগেও আমাদেরকে তাঁর নাম নেওয়ার তাওফিক দান করেছেন। আমাদের থেকে দীনের কাজ নিচ্ছেন এবং আমাদেরকে তাঁর কাজে লাগিয়েছেন। এমন নি'আমতের তালিকা অনেক দীর্ঘ। আমাদের তা গণনা করাও সম্ভব নয়। সুতরাং প্রয়োজন হল-আমাদের প্রত্যেকে নিজের গুনাহসমূহের দিকে তাকিয়ে তার জন্য অশ্রু প্রবাহিত করা। স্বীয় গুনাহসমূহ খুঁজে খুঁজে তা থেকে খাঁটি তাওবা করা এবং দীনের কাজকে আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় নি'আমত এবং তাঁর মহান অনুগ্রহ মনে করে তার মূল্যায়ন করা।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গভীর অন্ধকারে উজ্জ্বল আলো

📄 গভীর অন্ধকারে উজ্জ্বল আলো


হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম গভীর অন্ধকারে ডেকেছেন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
"আপনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি ছিলাম জালিম। "[৮২]
ফেনাদাসি ফিজ-জুলুমাতি (فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ)-জুলুমাত তথা কয়েকটি অন্ধকার। অন্ধকার যদি একটি হয়, তাহলে তাকে বলা হয়- আর যদি অন্ধকার হয় একাধিক, তাহলে তাকে বলা হয়- জুলুমাত (ظُلُمَات)। আপনি নিজেই চিন্তা করুন যে, কত অন্ধকার হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে বেষ্টন করেছিল। রাতের অন্ধকার। সমুদ্রের অন্ধকার। মাছের পেটের অন্ধকার। কোন কোন মুফাসসিরগণ বলেন-যে মাছটি তাকে গিলেছিল, সেই মাছটিকে আবার অন্য আরেকটি বড় মাছে গিলে ফেলেছিল। অর্থাৎ অন্ধকারের উপর অন্ধকার। যাকে বলে একবারে গভীর অন্ধকার। কিন্তু এমন গভীর অন্ধকারেও যে উজ্জ্বল আলোটি চমকাচ্ছিল, তা ছিল- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّালِمِينَ
ইমাম নাসাফী রাহি. লিখেন- ফেনাদাসি ফিজ-জুলুমাতি (فَنَادَى فِي الظُّلُمَاتِ) সুতরাং তিনি ডেকেছেন অন্ধকারের মধ্যে। অর্থাৎ মাছের পেটের অনেক গাঢ় এবং গভীর অন্ধকার। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ
“আল্লাহ তাদের আলো কেড়ে নিলেন এবং তাদেরকে ছেড়ে দিলেন অন্ধকারে।”[৮৩]
অর্থাৎ অন্ধকার তো একটাই ছিল। কিন্তু এ পরিমাণ নিকশ কালো এবং গভীর ও স্তরে স্তরে ছিল যে, একাধিক অন্ধকারের চেয়েও অধিক ছিল। অথবা রাতের অন্ধকার, সমুদ্রের অন্ধকার ও মাছের পেটের অন্ধকার অর্থাৎ বাস্তবেই একাধিক অন্ধকার ছিল।
হাদিস শরিফে এসেছে-যে কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি এই দু’আটির মাধ্যমে প্রার্থনা করবে, তার দু’আ অবশ্যই কবুল হবে।
হজরত হাসান বসরী রাহি. বলেন-আল্লাহ তা’আলার কসম! হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা’আলা শুধুমাত্র এজন্য মুক্তি দিয়েছেন যে, তিনি নিজের ভুলকে স্বীকার করেছিলেন।[৮৪]

টিকাঃ
[৮২] আম্বিয়া- ২১:৮৭
[৮৩] বাকারা- ২: ১৭
[৮৪] আল-মাদারিক

ফন্ট সাইজ
15px
17px