📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মুসলমান ও সালাতে অলসতা

📄 মুসলমান ও সালাতে অলসতা


মুসলমান এবং সালাতে অলসতা। এই দুটি বিষয় কখনো একত্রিত হতে পারে না। মুসলমান তো সালাতের ব্যাপারে তখনই উদাসীন হয়, যখন শয়তান তাকে কুফরের আঘাতের ইনজেকশন লাগিয়ে দেয়। অথবা তাকে নিফাকের বিষ পান করিয়ে দেয়। যখন কোন মুসলমান পুরুষ বা মহিলা আমাকে এটা জানায় যে, আমার সালাতের ব্যাপারে অলসতা হয়, তখন আমার অন্তরে প্রচণ্ড একটি ধাক্কা লাগে। হায়! কি হয়ে গেল! মুসলমান এবং সালাতের ব্যাপারে অলসতা এটা কীভাবে সম্ভব? সালাতের ব্যাপারে অলসতা তো করতে পারে একমাত্র মুনাফিক। মুসলমান তো কখনো সালাতের ব্যাপারে অলসতা করতে পারে না। কেননা দীনের মধ্যে সালাতের গুরুত্ব তো হল এমন, শরীরের মধ্যে মাথার গুরুত্ব যেমন। মাথা ব্যতীত কি কেউ জীবিত থাকতে পারে? জানা নেই যে, কি বিপদ সামনে আসছে যে, মুসলিম নারীরা পর্যন্ত সালাতের ব্যাপারে অলসতা করে। অথচ মুসলিম নারীদের সালাতের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার কথা খুবই প্রসিদ্ধ বিষয়। একজন মুসলমানের তাওবার জন্য সর্বপ্রথম জরুরি হল কষ্ট করে তার সালাতের বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক করে নেওয়া এবং এ পর্যন্ত যত অলসতা হয়েছে, তার জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করা।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 হে মুজাহিদগণ! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নাও

📄 হে মুজাহিদগণ! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নাও


মুজাহিদদের নিকট বিশেষভাবে অনুরোধ যে, সালাতের বিষয়টি অনেক বেশি খেয়াল করুন। জামাতের সাথে দীর্ঘ কেরাতের সাথে সালাত। তখন আপনার জিহাদের মধ্যে আশ্চর্য রকম বরকত পরিলক্ষিত হবে। আর এই বরকতে গোটা মুসলিম উম্মাহর উপকার হবে। সালাতের ব্যাপারে উদাসীনতা ও অলসতাকারী মুজাহিদ বেশি দিন মুখলিস জিহাদি কাফেলার সাথে চলতে পারে না। সে হয়তো দুনিয়ার মুসিবতে পতিত হয়ে যায় অথবা অন্য কোন ফিতনার শিকার হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। এটাও খাঁটি তাওবার অন্তর্ভুক্ত যে, নিজের ছুটে যাওয়া সালাতসমূহ আদায় করতে শুরু করা।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 হে মুসলিম বোনেরা! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নাও

📄 হে মুসলিম বোনেরা! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নাও


হে মুসলিম বোনেরা! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নিন। সকল মন্দ স্বভাব ও নির্লজ্জতার অভ্যাস নিজে নিজেই দূর হয়ে যাবে। সালাতের জন্য খুব পবিত্রতা, সময়ানুবর্তিতা ও আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। আপনার নিজেরই উপকার হবে। আপনার সন্তানদের উপকার হবে। কাল হাশরের দিন তো কেউ কারো কোন প্রকার কাজে আসবে না। হজরত নূহ আলাইহিস সালাম এবং হজরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তাদেরকে তাদের শারীরিক সৌন্দর্য, ইজ্জত, মোহনীয় কণ্ঠ এবং অতি চালাকি ধ্বংস করে দিয়েছে। কুরআনুল কারিম পাঠকারী প্রতিটি মুসলিম এই দুই নারীর কুফর এবং মন্দ স্বভাবকে বর্ণনা করে থাকে। অথচ তারা মনে করত যে, তারা খুব বুদ্ধিমান এবং যুগ সচেতন নারী। তারা তাদের জাতি ও ভাইদেরকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য আল্লাহ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করেছে। নিজের পয়গাম্বর স্বামীর অবমূল্যায়ন করেছে। জানা নেই তাদের জাতি ও তাদের ভাইয়েরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে কিনা। তবে এ কথা সত্য যে, এই দুই নারী হাজার বছর ধরে আজাবে নিপতিত রয়েছে এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাওবা-তাওবা। তাওবা হে আমার মালিক। আপনার নিকট কবরের আজাব থেকে পানাহ চাই। আপনার নিকট আখিরাতের আজাব থেকে পানাহ চাই।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহর তা‘আলার সন্তুষ্টি

📄 আল্লাহর তা‘আলার সন্তুষ্টি


অজু করতেছে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সালাতের জন্য দৌড়াচ্ছে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সিয়াম পালন করতেছে। হজ পালন করতেছে। জিকির-আজকারে লিপ্ত রয়েছে। জিহাদে রত আছে। লোকেরা গান শুনতেছে আর এরা গান থেকে দূরে থাকছে। ফিল্ম থেকে দূরে থাকছে। কুদৃষ্টি থেকে দূরে থাকছে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সকাল-বিকাল ইস্তিগফার। দুরূদ শরিফ ও কালিমায়ে তাইয়্যেবার আমল। স্রষ্টার ইবাদাত এবং মাখলুকের খিদমত। এমন আমানত যে, মন সম্ভ্রষ্ট হয়ে যায়। এমন বিনয় যে, জমিন ঈর্ষা করে। কেন? যেন আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্ট হয়ে যান। সকাল-বিকাল, রাত-দিন শুধু কাজই কাজ। অবশেষে ভালোবাসার এই বন্ধন অকল্পনীয় ব্যর্থতায়ই পরিণত হবে এবং "রাহমাতুল্লাহি আলাইহি" এর ঘোষণা সাত আসমানে গুঞ্জরিত হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px