📄 জিহাদের পথে অর্থ ব্যয় করা বাইতুল্লাহ শরিফ নির্মাণে অর্থ ব্যয় করার চেয়েও উত্তম
মুসলমানদের গাফলত ও গুনাহ থেকে তাওবা করে জিহাদের পথে জীবন ও সম্পদ ব্যয় করা উচিত। জিহাদ কোন অসম্ভব আমল নয়। কেননা তা যদি অসম্ভবই হত, তাহলে আল্লাহ তা'আলা এর নির্দেশ দিতেন না। তবে হ্যাঁ! এটা অনেক উঁচা এবং অনেক বড় আমল এবং তাতে যে কাউকেই কবুল করা হয় না। দুনিয়াতে কত সম্পদশালী মুসলমান রয়েছে। কেউ কেউ তো এমনও রয়েছে যে, দৈনিক শুধুমাত্র গুনাহের কাজে লক্ষ-লক্ষ ডলার খরচ করে থাকে। আরো কিছু আছে, যাদেরকে শয়তান পথভ্রষ্ট করে রেখেছে। যার ফলে মাজারসমূহে দৈনিক লক্ষ-লক্ষ টাকার মান্নত মেনে থাকে। পবিত্র কুরআনুল কারিমে সবচেয়ে গুরত্বারোপ করা হয়েছে জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায় করার প্রতি। অর্থাৎ কুরআনুল কারিম যে সকল কাজে সম্পদ ব্যয় করার প্রতি গুরত্বারোপ করেছে, তন্মধ্যে সবচেয়ে অধিক গুরত্বারোপ করেছে জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যয় করার প্রতি। আর তার সাওয়াব ও প্রতিদানও সবচেয়ে বেশি। কোন ব্যক্তি যদি কা'বা শরিফ নির্মাণে সম্পদ ব্যায় করে, আর অপর কোন ব্যক্তি জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায় করে, তাহলে জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায়কারীর ফজিলত কা'বা শরিফ নির্মাণে সম্পদ ব্যায়কারীর চেয়ে বেশি হবে। এ কথাটি পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। কেননা গোটা ইসলামের হেফাজত ও সংরক্ষণই নির্ভর করছে জিহাদের উপর। আজকে যদি ঘোষণা দেওয়া হয় যে, কা'বা শরিফকে পুনরায় নির্মাণ করা হবে। তাই মুসলমান যেন এর জন্য চাঁদা দেয়। বিশ্বাস করুন! মানুষ স্বর্ণের উট, স্বর্ণের দেয়াল ও স্বর্ণের ছাদ দিতেও প্রস্তুত হয়ে যাবে। কা'বা শরিফের সাথে মুসলমানদের এই মহব্বত ও ভালোবাসা অনেক উত্তম বিষয়। আর আমাদেরও উচিত যে, তাদেরকে আরও বেশী উৎসাহিত করা। কিন্তু জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায় করাতো কা'বা শরিফ নির্মাণের জন্য সম্পদ ব্যায় করার চেয়েও উত্তম। এটি কুরআনুল কারিমের ভাষ্য। তারপরও মুসলমান জিহাদের জন্য এতটুকু সম্পদও কেন ব্যায় করে না? কারণ ঐটাই যে, জিহাদ অনেক উঁচু আমল। চাই তা জীবন দিয়ে হোক কিংবা সম্পদ দিয়ে। মানুষ আল্লাহ তা'আলার বিশেষ তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া এত উঁচু চূড়ায় পৌঁছতে পারে না। এজন্য জরুরি হল-মুসলমান কুরআনুল কারিমের আলোকে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে বুঝা। অতঃপর আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওফিক কামনা করা, আল্লাহ তা'আলা যেন তার জীবন ও সম্পদ জিহাদের জন্য কবুল করেন। বিশ্বাস করুন! আমরা যদি জিহাদের জন্য কবুল হতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যতের মূল জীবন তথা পরকালের জীবন এত উঁচু এবং মর্যাদাপূর্ণ হবে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। না মৃত্যুর কষ্ট আছে। না কবরের আজাব আছে। না মুনকার-নাকিরের ফিতনা আছে এবং না হিসাব-কিতাবের পেরেশানী আছে। সুতরাং চক্ষু বন্ধ হতেই শুধু সম্মান আর সম্মান। মজা আর মজা। সফলতা আর সফলতা। যেহেতু জিহাদের মধ্যেই এত বড় সফলতা ও এমন উঁচু মর্যাদা রয়েছে, তাই এ পথে পরীক্ষাও রয়েছে অনেক। তবে প্রতিটি পরীক্ষার পরে নতুন বিজয় এবং নতুন সফলতার ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যায়।
📄 মুসলমান ও সালাতে অলসতা
মুসলমান এবং সালাতে অলসতা। এই দুটি বিষয় কখনো একত্রিত হতে পারে না। মুসলমান তো সালাতের ব্যাপারে তখনই উদাসীন হয়, যখন শয়তান তাকে কুফরের আঘাতের ইনজেকশন লাগিয়ে দেয়। অথবা তাকে নিফাকের বিষ পান করিয়ে দেয়। যখন কোন মুসলমান পুরুষ বা মহিলা আমাকে এটা জানায় যে, আমার সালাতের ব্যাপারে অলসতা হয়, তখন আমার অন্তরে প্রচণ্ড একটি ধাক্কা লাগে। হায়! কি হয়ে গেল! মুসলমান এবং সালাতের ব্যাপারে অলসতা এটা কীভাবে সম্ভব? সালাতের ব্যাপারে অলসতা তো করতে পারে একমাত্র মুনাফিক। মুসলমান তো কখনো সালাতের ব্যাপারে অলসতা করতে পারে না। কেননা দীনের মধ্যে সালাতের গুরুত্ব তো হল এমন, শরীরের মধ্যে মাথার গুরুত্ব যেমন। মাথা ব্যতীত কি কেউ জীবিত থাকতে পারে? জানা নেই যে, কি বিপদ সামনে আসছে যে, মুসলিম নারীরা পর্যন্ত সালাতের ব্যাপারে অলসতা করে। অথচ মুসলিম নারীদের সালাতের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার কথা খুবই প্রসিদ্ধ বিষয়। একজন মুসলমানের তাওবার জন্য সর্বপ্রথম জরুরি হল কষ্ট করে তার সালাতের বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক করে নেওয়া এবং এ পর্যন্ত যত অলসতা হয়েছে, তার জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করা।
📄 হে মুজাহিদগণ! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নাও
মুজাহিদদের নিকট বিশেষভাবে অনুরোধ যে, সালাতের বিষয়টি অনেক বেশি খেয়াল করুন। জামাতের সাথে দীর্ঘ কেরাতের সাথে সালাত। তখন আপনার জিহাদের মধ্যে আশ্চর্য রকম বরকত পরিলক্ষিত হবে। আর এই বরকতে গোটা মুসলিম উম্মাহর উপকার হবে। সালাতের ব্যাপারে উদাসীনতা ও অলসতাকারী মুজাহিদ বেশি দিন মুখলিস জিহাদি কাফেলার সাথে চলতে পারে না। সে হয়তো দুনিয়ার মুসিবতে পতিত হয়ে যায় অথবা অন্য কোন ফিতনার শিকার হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। এটাও খাঁটি তাওবার অন্তর্ভুক্ত যে, নিজের ছুটে যাওয়া সালাতসমূহ আদায় করতে শুরু করা।
📄 হে মুসলিম বোনেরা! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নাও
হে মুসলিম বোনেরা! সালাতের বিষয়টি ঠিক করে নিন। সকল মন্দ স্বভাব ও নির্লজ্জতার অভ্যাস নিজে নিজেই দূর হয়ে যাবে। সালাতের জন্য খুব পবিত্রতা, সময়ানুবর্তিতা ও আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখুন। আপনার নিজেরই উপকার হবে। আপনার সন্তানদের উপকার হবে। কাল হাশরের দিন তো কেউ কারো কোন প্রকার কাজে আসবে না। হজরত নূহ আলাইহিস সালাম এবং হজরত লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তাদেরকে তাদের শারীরিক সৌন্দর্য, ইজ্জত, মোহনীয় কণ্ঠ এবং অতি চালাকি ধ্বংস করে দিয়েছে। কুরআনুল কারিম পাঠকারী প্রতিটি মুসলিম এই দুই নারীর কুফর এবং মন্দ স্বভাবকে বর্ণনা করে থাকে। অথচ তারা মনে করত যে, তারা খুব বুদ্ধিমান এবং যুগ সচেতন নারী। তারা তাদের জাতি ও ভাইদেরকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য আল্লাহ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করেছে। নিজের পয়গাম্বর স্বামীর অবমূল্যায়ন করেছে। জানা নেই তাদের জাতি ও তাদের ভাইয়েরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে কিনা। তবে এ কথা সত্য যে, এই দুই নারী হাজার বছর ধরে আজাবে নিপতিত রয়েছে এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাওবা-তাওবা। তাওবা হে আমার মালিক। আপনার নিকট কবরের আজাব থেকে পানাহ চাই। আপনার নিকট আখিরাতের আজাব থেকে পানাহ চাই।