📄 আলো এবং আঁধারের যুদ্ধ
মানুষের অন্তর হল একটি আয়না। এই আয়নাকে যদি গুনাহ এবং নাফরমানীর মরিচা ও ময়লা থেকে পবিত্র করে নেওয়া যায়, তাহলে এটা নুরে এলাহির দ্বারা চমকাতে শুরু করে। মানুষের যে গুনাহই সংগঠিত হয়ে থাকে, তা অন্তরে একটি যুলমত তথা অন্ধকার ও কালো দাগের ন্যায় বসে যায়। আর ইবাদাত একটি নুর হয়ে উক্ত অন্ধকার ও কালো দাগকে দূর করে দেয়। সুতরাং এভাবেই অন্তরে নুর এবং যুলমত ও আলো এবং অন্ধকারের লড়াই চলতে থাকে। আর যখনই যুলমত ও অন্ধকার শক্তিশালী হতে থাকে, তখন তাওবা এমন এক আলোকিত ইবাদাত রূপে আবির্ভূত হয় যে, তার আলোতে অন্ধকার পরাজয় বরণ করে থাকে এবং অন্তর নতুন করে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। [৮০]
টিকাঃ
[৮০] কিমিয়ায়ে সা'আদাত
📄 জিহাদের পথ অনেক কণ্টকাকীর্ণ
আজ থেকে পনেরো বছর পূর্বের জুন মাসের কথা। যখন শহিদ কমান্ডার হাফেজ সাজ্জাদ খান রাহি, জম্মুর এক কারাগারে শহিদ হয়েছিলেন। এমন কিছু রাত ছিল, যে রাতের ভয়াবহতা আজও অন্তর থেকে দূর হয়নি। তবে চিন্তা-ভাবনা করলে মনে হয় যে, সম্ভবত উক্ত রাতসমূহই ছিল জীবনের উত্তম রাত। জিহাদের পথ অনেক কণ্টকাকীর্ণ। এটা ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া। ইসলাম হল অনেক উঁচু দীন। হিমালয় ও এভারেস্টের চেয়েও উঁচু। আপনারা মিডিয়ায় শুনে থাকবেন যে, অমুক পর্বতারোহী হিমালয় জয় করেছে। অর্থাৎ হিমালয়ের চূড়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অমুক পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত পৌছে গেছে। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, এমন হিমালয় বা এভারেষ্ট বিজয়ীদের সংখ্যা কত? গোটা পাকিস্তান থেকে বিগত ষাট বছরে মাত্র দুইজন ব্যক্তি এভারেস্ট বিজয় করেছে। এত উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় যে কেউ আরোহণ করতে পারে না। তাহলে ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়ায় কি যে কেউ আরোহণ করতে পারবে? উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণকারীদেরকে পর্বতারোহী বলা হয়। ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণকারীকে মুজাহিদ বলা হয়। বর্তমান পৃথিবীতে মুজাহিদদের সংখ্যা পর্বতারোহীর চেয়েও কম। জিহাদে বের হওয়া তো কিছুটা সহজ কিন্তু আমরণ তার উপর অটল-অবিচল থাকা অনেক কঠিন। মদিনা মুনাওয়ারা থেকে যখন কাফেলা রওয়ানা হয়েছে, তখন সংখ্যা ছিল এক হাজার। কিন্তু যখন সেই কাফেলা তিন মাইল সফর করে ওহুদে পৌঁছল তখন গণনা করে দেখা গেল সেই কাফেলার সংখ্যা হয়ে গেছে সাত শত। তিন শত ব্যক্তি তাদের নিফাকের কারণে পথিমধ্যেই ঝরে পড়েছে। তথাপিও বড় কথা হল-সাত শত ব্যক্তি ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। এটা ছিল আকায়ে মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকত।
📄 জিহাদের পথে অর্থ ব্যয় করা বাইতুল্লাহ শরিফ নির্মাণে অর্থ ব্যয় করার চেয়েও উত্তম
মুসলমানদের গাফলত ও গুনাহ থেকে তাওবা করে জিহাদের পথে জীবন ও সম্পদ ব্যয় করা উচিত। জিহাদ কোন অসম্ভব আমল নয়। কেননা তা যদি অসম্ভবই হত, তাহলে আল্লাহ তা'আলা এর নির্দেশ দিতেন না। তবে হ্যাঁ! এটা অনেক উঁচা এবং অনেক বড় আমল এবং তাতে যে কাউকেই কবুল করা হয় না। দুনিয়াতে কত সম্পদশালী মুসলমান রয়েছে। কেউ কেউ তো এমনও রয়েছে যে, দৈনিক শুধুমাত্র গুনাহের কাজে লক্ষ-লক্ষ ডলার খরচ করে থাকে। আরো কিছু আছে, যাদেরকে শয়তান পথভ্রষ্ট করে রেখেছে। যার ফলে মাজারসমূহে দৈনিক লক্ষ-লক্ষ টাকার মান্নত মেনে থাকে। পবিত্র কুরআনুল কারিমে সবচেয়ে গুরত্বারোপ করা হয়েছে জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায় করার প্রতি। অর্থাৎ কুরআনুল কারিম যে সকল কাজে সম্পদ ব্যয় করার প্রতি গুরত্বারোপ করেছে, তন্মধ্যে সবচেয়ে অধিক গুরত্বারোপ করেছে জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যয় করার প্রতি। আর তার সাওয়াব ও প্রতিদানও সবচেয়ে বেশি। কোন ব্যক্তি যদি কা'বা শরিফ নির্মাণে সম্পদ ব্যায় করে, আর অপর কোন ব্যক্তি জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায় করে, তাহলে জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায়কারীর ফজিলত কা'বা শরিফ নির্মাণে সম্পদ ব্যায়কারীর চেয়ে বেশি হবে। এ কথাটি পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। কেননা গোটা ইসলামের হেফাজত ও সংরক্ষণই নির্ভর করছে জিহাদের উপর। আজকে যদি ঘোষণা দেওয়া হয় যে, কা'বা শরিফকে পুনরায় নির্মাণ করা হবে। তাই মুসলমান যেন এর জন্য চাঁদা দেয়। বিশ্বাস করুন! মানুষ স্বর্ণের উট, স্বর্ণের দেয়াল ও স্বর্ণের ছাদ দিতেও প্রস্তুত হয়ে যাবে। কা'বা শরিফের সাথে মুসলমানদের এই মহব্বত ও ভালোবাসা অনেক উত্তম বিষয়। আর আমাদেরও উচিত যে, তাদেরকে আরও বেশী উৎসাহিত করা। কিন্তু জিহাদের জন্য সম্পদ ব্যায় করাতো কা'বা শরিফ নির্মাণের জন্য সম্পদ ব্যায় করার চেয়েও উত্তম। এটি কুরআনুল কারিমের ভাষ্য। তারপরও মুসলমান জিহাদের জন্য এতটুকু সম্পদও কেন ব্যায় করে না? কারণ ঐটাই যে, জিহাদ অনেক উঁচু আমল। চাই তা জীবন দিয়ে হোক কিংবা সম্পদ দিয়ে। মানুষ আল্লাহ তা'আলার বিশেষ তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া এত উঁচু চূড়ায় পৌঁছতে পারে না। এজন্য জরুরি হল-মুসলমান কুরআনুল কারিমের আলোকে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহকে বুঝা। অতঃপর আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওফিক কামনা করা, আল্লাহ তা'আলা যেন তার জীবন ও সম্পদ জিহাদের জন্য কবুল করেন। বিশ্বাস করুন! আমরা যদি জিহাদের জন্য কবুল হতে পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যতের মূল জীবন তথা পরকালের জীবন এত উঁচু এবং মর্যাদাপূর্ণ হবে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। না মৃত্যুর কষ্ট আছে। না কবরের আজাব আছে। না মুনকার-নাকিরের ফিতনা আছে এবং না হিসাব-কিতাবের পেরেশানী আছে। সুতরাং চক্ষু বন্ধ হতেই শুধু সম্মান আর সম্মান। মজা আর মজা। সফলতা আর সফলতা। যেহেতু জিহাদের মধ্যেই এত বড় সফলতা ও এমন উঁচু মর্যাদা রয়েছে, তাই এ পথে পরীক্ষাও রয়েছে অনেক। তবে প্রতিটি পরীক্ষার পরে নতুন বিজয় এবং নতুন সফলতার ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যায়।
📄 মুসলমান ও সালাতে অলসতা
মুসলমান এবং সালাতে অলসতা। এই দুটি বিষয় কখনো একত্রিত হতে পারে না। মুসলমান তো সালাতের ব্যাপারে তখনই উদাসীন হয়, যখন শয়তান তাকে কুফরের আঘাতের ইনজেকশন লাগিয়ে দেয়। অথবা তাকে নিফাকের বিষ পান করিয়ে দেয়। যখন কোন মুসলমান পুরুষ বা মহিলা আমাকে এটা জানায় যে, আমার সালাতের ব্যাপারে অলসতা হয়, তখন আমার অন্তরে প্রচণ্ড একটি ধাক্কা লাগে। হায়! কি হয়ে গেল! মুসলমান এবং সালাতের ব্যাপারে অলসতা এটা কীভাবে সম্ভব? সালাতের ব্যাপারে অলসতা তো করতে পারে একমাত্র মুনাফিক। মুসলমান তো কখনো সালাতের ব্যাপারে অলসতা করতে পারে না। কেননা দীনের মধ্যে সালাতের গুরুত্ব তো হল এমন, শরীরের মধ্যে মাথার গুরুত্ব যেমন। মাথা ব্যতীত কি কেউ জীবিত থাকতে পারে? জানা নেই যে, কি বিপদ সামনে আসছে যে, মুসলিম নারীরা পর্যন্ত সালাতের ব্যাপারে অলসতা করে। অথচ মুসলিম নারীদের সালাতের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার কথা খুবই প্রসিদ্ধ বিষয়। একজন মুসলমানের তাওবার জন্য সর্বপ্রথম জরুরি হল কষ্ট করে তার সালাতের বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক করে নেওয়া এবং এ পর্যন্ত যত অলসতা হয়েছে, তার জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করা।