📄 জুমার দিনের কার্যকরী একটি ইস্তিগফার
"হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি জুমার দিন ফজরের সালাতের পূর্বে তিনবার এ দু'আটি পাঠ করবে, তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তার গুনাহ সাগরের ফেনার চেয়েও অধিক হয়। দু'আটি হল-
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আল্লাহ তা'আলার নিকট, যাকে ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি। [৬৩]
টিকাঃ
[৬৩] মু'জামুল আওসাত তাবরানী
📄 ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় ইস্তিগফার
হজরত আবু সাঈদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে একটি মারফু বর্ণনা রয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এই দু'আ পাঠ করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা (তার এই দু'আর উত্তরে) বলেন- আমার বান্দা সত্য বলেছে এবং শুকরিয়া আদায় করেছে। দু'আটি হল-
سُبْحَانَ الَّذِي يُحْيِ الْمَوْتَىٰ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ اغْفِرْلِي ذُنُوبِي يَوْمَ تَبْعَثُنِي مِنْ قَبْرِي اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
অর্থ: পবিত্র ঐ সত্তা যিনি মৃতদেরকে জীবিত করেন। তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন, যেদিন আপনি আমাকে কবর থেকে উঠাবেন। হে আল্লাহ! ঐ দিন আপনার আজাব থেকে বাঁচান, যেদিন আপনি আপনার সকল বান্দাকে উঠাবেন। [৭৫]
টিকাঃ
[৭৫] জামেউল আহাদিস: ২১/১১৮; কানযুল উম্মাল
📄 আলো এবং আঁধারের যুদ্ধ
মানুষের অন্তর হল একটি আয়না। এই আয়নাকে যদি গুনাহ এবং নাফরমানীর মরিচা ও ময়লা থেকে পবিত্র করে নেওয়া যায়, তাহলে এটা নুরে এলাহির দ্বারা চমকাতে শুরু করে। মানুষের যে গুনাহই সংগঠিত হয়ে থাকে, তা অন্তরে একটি যুলমত তথা অন্ধকার ও কালো দাগের ন্যায় বসে যায়। আর ইবাদাত একটি নুর হয়ে উক্ত অন্ধকার ও কালো দাগকে দূর করে দেয়। সুতরাং এভাবেই অন্তরে নুর এবং যুলমত ও আলো এবং অন্ধকারের লড়াই চলতে থাকে। আর যখনই যুলমত ও অন্ধকার শক্তিশালী হতে থাকে, তখন তাওবা এমন এক আলোকিত ইবাদাত রূপে আবির্ভূত হয় যে, তার আলোতে অন্ধকার পরাজয় বরণ করে থাকে এবং অন্তর নতুন করে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। [৮০]
টিকাঃ
[৮০] কিমিয়ায়ে সা'আদাত
📄 জিহাদের পথ অনেক কণ্টকাকীর্ণ
আজ থেকে পনেরো বছর পূর্বের জুন মাসের কথা। যখন শহিদ কমান্ডার হাফেজ সাজ্জাদ খান রাহি, জম্মুর এক কারাগারে শহিদ হয়েছিলেন। এমন কিছু রাত ছিল, যে রাতের ভয়াবহতা আজও অন্তর থেকে দূর হয়নি। তবে চিন্তা-ভাবনা করলে মনে হয় যে, সম্ভবত উক্ত রাতসমূহই ছিল জীবনের উত্তম রাত। জিহাদের পথ অনেক কণ্টকাকীর্ণ। এটা ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া। ইসলাম হল অনেক উঁচু দীন। হিমালয় ও এভারেস্টের চেয়েও উঁচু। আপনারা মিডিয়ায় শুনে থাকবেন যে, অমুক পর্বতারোহী হিমালয় জয় করেছে। অর্থাৎ হিমালয়ের চূড়া পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অমুক পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত পৌছে গেছে। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, এমন হিমালয় বা এভারেষ্ট বিজয়ীদের সংখ্যা কত? গোটা পাকিস্তান থেকে বিগত ষাট বছরে মাত্র দুইজন ব্যক্তি এভারেস্ট বিজয় করেছে। এত উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় যে কেউ আরোহণ করতে পারে না। তাহলে ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়ায় কি যে কেউ আরোহণ করতে পারবে? উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণকারীদেরকে পর্বতারোহী বলা হয়। ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণকারীকে মুজাহিদ বলা হয়। বর্তমান পৃথিবীতে মুজাহিদদের সংখ্যা পর্বতারোহীর চেয়েও কম। জিহাদে বের হওয়া তো কিছুটা সহজ কিন্তু আমরণ তার উপর অটল-অবিচল থাকা অনেক কঠিন। মদিনা মুনাওয়ারা থেকে যখন কাফেলা রওয়ানা হয়েছে, তখন সংখ্যা ছিল এক হাজার। কিন্তু যখন সেই কাফেলা তিন মাইল সফর করে ওহুদে পৌঁছল তখন গণনা করে দেখা গেল সেই কাফেলার সংখ্যা হয়ে গেছে সাত শত। তিন শত ব্যক্তি তাদের নিফাকের কারণে পথিমধ্যেই ঝরে পড়েছে। তথাপিও বড় কথা হল-সাত শত ব্যক্তি ইসলামের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। এটা ছিল আকায়ে মাদানী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বরকত।