📄 আরোহণের সময় ইস্তিগফার
عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيًّا أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ، قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ ثَلَاثًا، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا، سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، ثُمَّ ضَحِكَ، قُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ: رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ
হজরত আলী ইবনে রাবিআহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে দেখলাম যে, তাঁর সামনে আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হল। তিনি যখন রিকাব তথা পা-দানির মধ্যে পা রেখে তিন বার-بِسْمِ اللهِ পড়লেন। অতঃপর যখন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, তখন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে এ আয়াতটি পাঠ করলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
“পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।”[৯]
অতঃপর তিন বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ এবং তিন বার اللهُ أَكْبَرُ পড়ে তারপর এ দু'আ পড়লেন-
سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا انت
অতঃপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমি বললাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন! হাসির কারণ কী? তিনি বললেন যে, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি। আর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন-নিঃসন্দেহে আমার রব ঐ বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এ দু'আটি পাঠ করে-
رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ [১০]
টিকাঃ
৯. যুখরুফ-৪৩: ১৩-১৪
১০. সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ২৬০২
হজরত আলী ইবনে রাবিআহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে দেখলাম যে, তাঁর সামনে আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হল। তিনি যখন রিকাব তথা পা-দানির মধ্যে পা রেখে তিন বার- بِسْمِ اللَّهِ পড়লেন। অতঃপর যখন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, তখন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে এ আয়াতটি পাঠ করলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
“পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।”[৯]
অতঃপর তিন বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ এবং তিন বার اللَّهُ أَكْبَرُ পড়ে তারপর এ দু'আ পড়লেন-
سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا انت
অতঃপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমি বললাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন! হাসির কারণ কী? তিনি বললেন যে, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি। আর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন-নিঃসন্দেহে আমার রব ঐ বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এ দু'আটি পাঠ করে-
رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ [১০]
টিকাঃ
[৯] যুখরুফ-৪৩: ১৩-১৪
[১০] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ২৬০২
📄 ওজুর পরে ইস্তিগফার
হজরত আবু মূসা আশআরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ওজু শেষ করার পর এই দু'আ পাঠ করতে শুনলাম-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رَزَقْتَنِي
“অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার রিযিকের মধ্যে প্রশস্ততা দান করুন এবং আপনি আমাকে যা কিছু দিয়েছেন, তার মধ্যে বরকত দান করুন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-তোমার কি মনে হয় যে, এই দু'আতে কোন কিছু বাদ পড়েছে? (অর্থাৎ এই দু'আর মধ্যে দীন ও দুনিয়ার সকল কল্যাণ এসে গেছে)। [৩৮]
টিকাঃ
[৩৮] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৫০০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৬৫৯৯
📄 গুনাহ ত্যাগ করার বরকত
ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে যে, এক ব্যক্তি কোন এক শহরে বিয়ে করেছিল। সে তার গোলামকে পাঠিয়েছে তার স্ত্রীকে নিয়ে আসার জন্য। পথিমধ্যে গোলামের মনে উক্ত নারীর সাথে গুনাহ করার ইচ্ছে হল। কিন্তু সে মুজাহাদা করে নিজের নফসকে দমন করে নিয়েছে এবং নফসের চাহিদার নিকট পরাজিত হয়নি। আল্লাহ তা'আলা তার তাকওয়ার কারণে তাকে বনি ইসরাইলের পয়গাম্বর বানিয়ে দিয়েছেন। হজরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনায় উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি হজরত খাজির আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন যে, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে গোপন বস্তুর ইলম কী কারণে দান করেছেন? উনি বললেন যে, আমি আল্লাহ তা'আলার জন্য গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার কারণে। অর্থাৎ আমি সর্বদাই গুনাহ থেকে বিরত থেকেছি। [৫৮]
টিকাঃ
[৫৮] প্রাগুক্ত
📄 জুমার দিনের কার্যকরী একটি ইস্তিগফার
"হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি জুমার দিন ফজরের সালাতের পূর্বে তিনবার এ দু'আটি পাঠ করবে, তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তার গুনাহ সাগরের ফেনার চেয়েও অধিক হয়। দু'আটি হল-
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আল্লাহ তা'আলার নিকট, যাকে ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি। [৬৩]
টিকাঃ
[৬৩] মু'জামুল আওসাত তাবরানী