📄 মোহর এবং কাফ্ফারা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ: كَلِمَاتُ لَا يَتَكَلَّمُ بِهِنَّ أَحَدٌ فِي مَجْلِسِهِ عِنْدَ قِيَامِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ إِلَّا كُفَرَ بِهِنَّ عَنْهُ، وَلَا يَقُولُهُنَّ فِي مَجْلِسِ خَيْرٍ وَمَجْلِسِ ذِكْرٍ إِلَّا خُتِمَ لَهُ بِهِنَّ عَلَيْهِ كَمَا يُخْتَمُ بِالْخَاتَمِ عَلَى الصَّحِيفَةِ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন যে, এমন কিছু কালিমা রয়েছে, যা কোন ব্যক্তি যদি বৈঠক থেকে উঠার সময় তা তিন বার পাঠ করে, তাহলে তা উক্ত বৈঠকের কাফ্ফারা হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তিই কোন উত্তম বৈঠক ও জিকিরের বৈঠকে তা পাঠ করবে, তাহলে তা তার জন্য মোহরের ন্যায় হয়ে যাবে। যেমন চিঠির উপর মোহর লাগানো হয়। আর উক্ত কালিমা হল—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।"[১]
টিকাঃ
১. মুসনাদে আবু দাউদ: হাদিস নং ۴৪৫৭
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন যে, এমন কিছু কালিমা রয়েছে, যা কোন ব্যক্তি যদি বৈঠক থেকে উঠার সময় তা তিন বার পাঠ করে, তাহলে তা উক্ত বৈঠকের কাফফারা হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তিই কোন উত্তম বৈঠক ও জিকিরের বৈঠকে তা পাঠ করবে, তাহলে তা তার জন্য মোহরের ন্যায় হয়ে যাবে। যেমন চিঠির উপর মোহর লাগানো হয়। আর উক্ত কালিমা হল—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।
টিকাঃ
[১] মুসনাদে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৪৫৭
[২] তাফসীরে ইবনে কাসীর
📄 সালাতের শুরুতে ইস্তিগফার
عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ يَا بُرَيْدَةَ إِذَا كَانَ حِينَ تَفْتَحُ الصَّلَاةَ فَقُلْ سُبْحَانَكَ اللهُمَّ الخ
হজরত বারিদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-হে বারিদা! তুমি যখন সালাত শুরু করবে, তখন এ দু'আ পাঠ করবে-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
টিকাঃ
৮. মাজমাউয-যাওয়ায়েদ
হজরত বারিদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-হে বারিদা! তুমি যখন সালাত শুরু করবে, তখন এ দু'আ পাঠ করবে-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ظَلَمْتُ নফ্সِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ [৮]
টিকাঃ
[৮] মাজমাউয-যাওয়ায়েদ
📄 আরোহণের সময় ইস্তিগফার
عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيًّا أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ، قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ ثَلَاثًا، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا، سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، ثُمَّ ضَحِكَ، قُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ: رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ
হজরত আলী ইবনে রাবিআহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে দেখলাম যে, তাঁর সামনে আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হল। তিনি যখন রিকাব তথা পা-দানির মধ্যে পা রেখে তিন বার-بِسْمِ اللهِ পড়লেন। অতঃপর যখন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, তখন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে এ আয়াতটি পাঠ করলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
“পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।”[৯]
অতঃপর তিন বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ এবং তিন বার اللهُ أَكْبَرُ পড়ে তারপর এ দু'আ পড়লেন-
سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا انت
অতঃপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমি বললাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন! হাসির কারণ কী? তিনি বললেন যে, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি। আর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন-নিঃসন্দেহে আমার রব ঐ বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এ দু'আটি পাঠ করে-
رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ [১০]
টিকাঃ
৯. যুখরুফ-৪৩: ১৩-১৪
১০. সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ২৬০২
হজরত আলী ইবনে রাবিআহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে দেখলাম যে, তাঁর সামনে আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হল। তিনি যখন রিকাব তথা পা-দানির মধ্যে পা রেখে তিন বার- بِسْمِ اللَّهِ পড়লেন। অতঃপর যখন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, তখন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে এ আয়াতটি পাঠ করলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
“পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।”[৯]
অতঃপর তিন বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ এবং তিন বার اللَّهُ أَكْبَرُ পড়ে তারপর এ দু'আ পড়লেন-
سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا انت
অতঃপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমি বললাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন! হাসির কারণ কী? তিনি বললেন যে, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি। আর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন-নিঃসন্দেহে আমার রব ঐ বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এ দু'আটি পাঠ করে-
رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ [১০]
টিকাঃ
[৯] যুখরুফ-৪৩: ১৩-১৪
[১০] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ২৬০২
📄 ওজুর পরে ইস্তিগফার
হজরত আবু মূসা আশআরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হলাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ওজু শেষ করার পর এই দু'আ পাঠ করতে শুনলাম-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رَزَقْتَنِي
“অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার রিযিকের মধ্যে প্রশস্ততা দান করুন এবং আপনি আমাকে যা কিছু দিয়েছেন, তার মধ্যে বরকত দান করুন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-তোমার কি মনে হয় যে, এই দু'আতে কোন কিছু বাদ পড়েছে? (অর্থাৎ এই দু'আর মধ্যে দীন ও দুনিয়ার সকল কল্যাণ এসে গেছে)। [৩৮]
টিকাঃ
[৩৮] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৫০০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৬৫৯৯