📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বৈঠকের কাফ্‌ফারা

📄 বৈঠকের কাফ্‌ফারা


عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِي، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ، يَقُولُ بِأَخَرَةٍ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَقُومَ مِنَ الْمَجْلِسِ : سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ, فَقَالَ رَجُلٌ، يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ لَتَقُولُ قَوْلًا مَا كُنْتَ تَقُولُهُ فِيمَا مَضَى، فَقَالَ: كَفَّارَةٌ لِمَا يَكُونُ فِي الْمَجْلِسِ

“হজরত আবু বারযা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নিজের শেষ বয়সে) যখন কোন বৈঠক থেকে উঠতেন, তখন এ দু'আটি পড়তেন-

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।

এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন কালিমা পাঠ করছেন যা পূর্বে কখনো পাঠ করেননি। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-এই কালিমা বৈঠকের সকল অনর্থক ও বেহুদা কথাবার্তার কাফফারাস্বরূপ। "[৪]

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে ইমান এবং শাহাদাতের উত্তম মৃত্যু নসিব করুন। চতুর্দিকে জুলুম ও গুনাহের ঘোর অমানিশা চলছে। সুতরাং এই অমানিশা থেকে সে-ই বাঁচতে পারে, যাকে আল্লাহ তা'আলা বাঁচাবেন। আল্লাহ তা'আলা তাকেই বাঁচান যার নিজের বাঁচার ফিকির আছে। আমাদের উচিত যে, প্রতিটি বৈঠকের সমাপ্তির সময় আল্লাহ তা'আলার তাসবীহ, জিকির ও ইস্তিগফার করার সুদৃঢ় অভ্যাস গড়ে তোলা। কেননা মৃত্যুও হতে পারে আমাদের এই জীবন নামক বৈঠকের সমাপ্তি ও আগত মজলিসের সূচনা।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান বাণী-
مَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ، فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ

যে ব্যক্তি কোন বৈঠকে বসে অনেক বেহুদা ও অনর্থক কথাবার্তা বলল, অতঃপর উক্ত বৈঠক থেকে উঠার পূর্বে এই কালিমা পাঠ করে নেয়, তাহলে তার উক্ত মজলিসের বেহুদা ও অনর্থক কথা মাফ করে দেওয়া হবে।

সুবহানাল্লাহ! কত বড় নি'আমত। হাদিস শরিফের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ হবে গুনাহের বৈঠকসমূহ। আজকাল তো অসংখ্য গুনাহের বৈঠক বিদ্যমান। টিভির বৈঠক। মোবাইলে গেমস ও পর্ণ ভিডিওর বৈঠক। কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বৈঠক। আগে তো আমাদেরকে এ সকল বৈঠক থেকে বাঁচতে হবে। তবে যদি শয়তান ফাঁসিয়ে দেয় তাহলে আমরা যেন এ দু'আটি পড়তে না ভুলি। ইন শা' আল্লাহ গুনাহ মিটে যাবে। আর আমরা যদি এ দু'আটি পূর্ণ মনোযোগের সাথে নিয়মিত আমল করতে থাকি, তাহলে ইন শা' আল্লাহ অনেক খারাপ বৈঠক থেকে আমরা বেঁচে থাকতে পারব। আবু দাউদ শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে- নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন বৈঠক থেকে উঠতেন, তখন এ দু'আটি নিয়মিত পাঠ করতেন। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ আমলটি তো পূর্বে কখনো ছিল না। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

ذلِكَ كَفَّارَةٌ لِمَا يَكُونُ فِي الْمَجْلِسِ
এ কালিমা বৈঠকের গুনাহসমূহের কাফ্ফারাস্বরূপ।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুনাহ থেকে পবিত্র ছিলেন। কিন্তু উম্মতের তা'লিমের জন্য এবং নিজের মহান মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বরকতময় কালিমার আমল করতেন। বরং এক বর্ণনার দ্বারা তো এটাও জানা যায় যে, এ কালিমার দুটি উপকারীতা রয়েছে। প্রথম উপকার হল বৈঠকে যে সকল নেকি হয়েছে, এই কালিমার বরকতে এ সকল নেকির উপর মোহর লেগে যায়। এ সকল নেকি আর কখনো ধ্বংস হবে না। আর দ্বিতীয় উপকার হল-এ কালিমা বৈঠকের গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। সুতরাং উত্তম বৈঠক তথা তিলাওয়াতের বৈঠক, জিকির ও সালাতের বৈঠক, দাওয়াত ও বয়ানের বৈঠকের পরেও এ দু'আটি নিয়মিত পাঠ করা উচিত। সুনানে নাসাঈর বর্ণনায় একদম সুস্পষ্টভাবেই এসেছে যে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন বৈঠকে বসতেন অথবা সালাত আদায় করতেন, তখন এ দু'আটি পাঠ করতেন। এজন্য হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু আনহা যখন এ দু'আটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنْ تَكَلَّمَ بِخَيْرٍ كَانَ طَابِعًا عَلَيْهِنَّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ, وَإِنْ تَكَلَّمَ بِغَيْرِ ذَلِكَ كَانَ كَفَّارَةً لَهُ
বৈঠকের লোকেরা যদি কোন ভাল কথা বলে থাকে, তাহলে এই কালিমা সে কথার উপর কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণের মোহর হয়ে যাবে। আর যদি তারা অন্য কোন কথা বলে থাকে, তাহলে এই কালিমা উক্ত কথার কাফফারা হয়ে যাবে।

অন্য এক বর্ণনায় জিকিরের বৈঠকের ব্যাখ্যায় এসেছে-
فَقَالَ لَهَا فِي مَجْلِسِ ذِكْرٍ كَانَ كَالطَّابِعِ يَطْبَعُ عَلَيْهِ وَمَنْ قَالَ فِي مَجْلِسِ لَغْوِ كَانَ كَفَّارَةٌ لَهُ
জিকিরের বৈঠকে যদি এ দু'আ পাঠ করা হয়, তাহলে উক্ত বৈঠক তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণ হয়ে যায়।

কোন কোন বর্ণনায় এ দু'আটি তিন বার পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এজন্য তিন বার পড়াই অধিক উত্তম। মূলত এ দু'আটি অনেক বড় ভাণ্ডার। প্রত্যেক নেক কাজের পরে এবং প্রত্যেক গুনাহের পরে যদি এ দু'আটি নিয়মিত পড়া হয়, তাহলে ইন শা' আল্লাহ "হুসানে খাতিমা" তথা উত্তম মৃত্যু এর মর্যাদা সহজ হয়ে যাবে।

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি。

যে সকল মুসলিম ভাই-বোনের এ দু'আটি মুখস্থ আছে, তারা এ দু'আটি নিয়মিত পড়ুন। আজ থেকে যখন তিলাওয়াত করবেন, দীনি কোন বই পড়বেন এবং যেকোন ভাল কিংবা মন্দ বৈঠকে বসেন কিংবা উঠেন, তখনই এ দু'আটি মনোযোগসহ পড়ুন। দেখবেন অন্তরে আশ্চর্য এক প্রশান্তি অনুভব হবে। নেকিসমূহ সংরক্ষণ হওয়া এবং গুনাহ মিটে যাওয়া অনুভব হবে।

টিকাঃ
৪. সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৮৫৯; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৩৩; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৭০০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৯৭৬৯

হজরত আবু বারযা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নিজের শেষ বয়সে) যখন কোন বৈঠক থেকে উঠতেন, তখন এ দু'আটি পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন কালিমা পাঠ করছেন যা পূর্বে কখনো পাঠ করেননি। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-এই কালিমা বৈঠকের সকল অনর্থক ও বেহুদা কথাবার্তার কাফফারাস্বরূপ। [৪]
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে ইমান এবং শাহাদাতের উত্তম মৃত্যু নসিব করুন। চতুর্দিকে জুলুম ও গুনাহের ঘোর অমানিশা চলছে। সুতরাং এই অমানিশা থেকে সে-ই বাঁচতে পারে, যাকে আল্লাহ তা'আলা বাঁচাবেন। আল্লাহ তা'আলা তাকেই বাঁচান যার নিজের বাঁচার ফিকির আছে। আমাদের উচিত যে, প্রতিটি বৈঠকের সমাপ্তির সময় আল্লাহ তা'আলার তাসবীহ, জিকির ও ইস্তিগফার করার সুদৃঢ় অভ্যাস গড়ে তোলা। কেননা মৃত্যুও হতে পারে আমাদের এই জীবন নামক বৈঠকের সমাপ্তি ও আগত মজলিসের সূচনা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান বাণী-
মَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ، فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ
যে ব্যক্তি কোন বৈঠকে বসে অনেক বেহুদা ও অনর্থক কথাবার্তা বলল, অতঃপর উক্ত বৈঠক থেকে উঠার পূর্বে এই কালিমা পাঠ করে নেয়, তাহলে তার উক্ত মজলিসের বেহুদা ও অনর্থক কথা মাফ করে দেওয়া হবে।

টিকাঃ
(৪) সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৮৫৯; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৩৩; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৭০০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৯৭৬৯

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মোহর এবং কাফ্‌ফারা

📄 মোহর এবং কাফ্‌ফারা


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ: كَلِمَاتُ لَا يَتَكَلَّمُ بِهِنَّ أَحَدٌ فِي مَجْلِسِهِ عِنْدَ قِيَامِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ إِلَّا كُفَرَ بِهِنَّ عَنْهُ، وَلَا يَقُولُهُنَّ فِي مَجْلِسِ خَيْرٍ وَمَجْلِسِ ذِكْرٍ إِلَّا خُتِمَ لَهُ بِهِنَّ عَلَيْهِ كَمَا يُخْتَمُ بِالْخَاتَمِ عَلَى الصَّحِيفَةِ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন যে, এমন কিছু কালিমা রয়েছে, যা কোন ব্যক্তি যদি বৈঠক থেকে উঠার সময় তা তিন বার পাঠ করে, তাহলে তা উক্ত বৈঠকের কাফ্ফারা হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তিই কোন উত্তম বৈঠক ও জিকিরের বৈঠকে তা পাঠ করবে, তাহলে তা তার জন্য মোহরের ন্যায় হয়ে যাবে। যেমন চিঠির উপর মোহর লাগানো হয়। আর উক্ত কালিমা হল—

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।"[১]

টিকাঃ
১. মুসনাদে আবু দাউদ: হাদিস নং ۴৪৫৭

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন যে, এমন কিছু কালিমা রয়েছে, যা কোন ব্যক্তি যদি বৈঠক থেকে উঠার সময় তা তিন বার পাঠ করে, তাহলে তা উক্ত বৈঠকের কাফফারা হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তিই কোন উত্তম বৈঠক ও জিকিরের বৈঠকে তা পাঠ করবে, তাহলে তা তার জন্য মোহরের ন্যায় হয়ে যাবে। যেমন চিঠির উপর মোহর লাগানো হয়। আর উক্ত কালিমা হল—
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাওবা করছি।

টিকাঃ
[১] মুসনাদে আবু দাউদ: হাদিস নং ৪৪৫৭
[২] তাফসীরে ইবনে কাসীর

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সালাতের শুরুতে ইস্তিগফার

📄 সালাতের শুরুতে ইস্তিগফার


عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ يَا بُرَيْدَةَ إِذَا كَانَ حِينَ تَفْتَحُ الصَّلَاةَ فَقُلْ سُبْحَانَكَ اللهُمَّ الخ

হজরত বারিদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-হে বারিদা! তুমি যখন সালাত শুরু করবে, তখন এ দু'আ পাঠ করবে-

سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

টিকাঃ
৮. মাজমাউয-যাওয়ায়েদ

হজরত বারিদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-হে বারিদা! তুমি যখন সালাত শুরু করবে, তখন এ দু'আ পাঠ করবে-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ظَلَمْتُ নফ্সِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ [৮]

টিকাঃ
[৮] মাজমাউয-যাওয়ায়েদ

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আরোহণের সময় ইস্তিগফার

📄 আরোহণের সময় ইস্তিগফার


عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيًّا أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ، قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ ثَلَاثًا، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا، سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ، ثُمَّ ضَحِكَ، قُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقُلْتُ: مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ: رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ

হজরত আলী ইবনে রাবিআহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে দেখলাম যে, তাঁর সামনে আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হল। তিনি যখন রিকাব তথা পা-দানির মধ্যে পা রেখে তিন বার-بِسْمِ اللهِ পড়লেন। অতঃপর যখন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, তখন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে এ আয়াতটি পাঠ করলেন—

سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
“পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।”[৯]

অতঃপর তিন বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ এবং তিন বার اللهُ أَكْبَرُ পড়ে তারপর এ দু'আ পড়লেন-

سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا انت

অতঃপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমি বললাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন! হাসির কারণ কী? তিনি বললেন যে, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি। আর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন-নিঃসন্দেহে আমার রব ঐ বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এ দু'আটি পাঠ করে-

رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ [১০]

টিকাঃ
৯. যুখরুফ-৪৩: ১৩-১৪
১০. সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ২৬০২

হজরত আলী ইবনে রাবিআহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি একবার হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে দেখলাম যে, তাঁর সামনে আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হল। তিনি যখন রিকাব তথা পা-দানির মধ্যে পা রেখে তিন বার- بِسْمِ اللَّهِ পড়লেন। অতঃপর যখন ঘোড়ায় আরোহণ করলেন, তখন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে এ আয়াতটি পাঠ করলেন—
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
“পবিত্র মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।”[৯]
অতঃপর তিন বার اَلْحَمْدُ لِلَّهِ এবং তিন বার اللَّهُ أَكْبَرُ পড়ে তারপর এ দু'আ পড়লেন-
سُبْحَانَكَ إِنِّي قَدْ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا انت
অতঃপর তিনি মুচকি হাসলেন। আমি বললাম যে, হে আমিরুল মুমিনিন! হাসির কারণ কী? তিনি বললেন যে, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমনটি করতে দেখেছি। আর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার হাসির কারণ কী? উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন-নিঃসন্দেহে আমার রব ঐ বান্দার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এ দু'আটি পাঠ করে-
رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرُكَ [১০]

টিকাঃ
[৯] যুখরুফ-৪৩: ১৩-১৪
[১০] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৪৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ২৬০২

ফন্ট সাইজ
15px
17px