📄 গুনাহ হল ক্ষমা পাওয়ার মাধ্যম
ময়লা কাপড় যেমন সাবান দিয়ে ধৌত করার দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায় ঠিক তেমনিভাবে অন্তরও ইবাদাতের নূরের দ্বারা গুনাহের কালিমা থেকে পবিত্র হয়ে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
প্রত্যেক গুনাহের পরে অবশ্যই একটি নেকি করে নাও যা উক্ত গুনাহের প্রভাবকে দূর করে দেবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন-তোমাদের গুনাহ যদি আসমান পর্যন্তও পৌছে যায়, তখনও যদি তাওবা করো, তাহলেও কবুল করা হবে। এক বান্দা এমনও হবে যে, গুনাহই তার ক্ষমার কারণ হয়ে যাবে এবং সে জান্নাতে চলে যাবে। লোকেরা আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল! সে বান্দা কে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন-সে হল ঐ বান্দা যে গুনাহ করে অনুতপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু কিছু অনুতপ্ততা জান্নাত পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে। এমন ব্যক্তি সম্পর্কেই শয়তান বলবে-হায়! আমি যদি তাকে এমন গুনাহে লিপ্তই না করতাম। নেকি গুনাহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয়, যেমনিভাবে সাবান-পানি ময়লা কাপড় থেকে ময়লা ও ময়লার দাগকে মিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তা'আলা যখন ইবলিসকে তাঁর অভিশপ্ত করে দিলেন, তখন সে বলল-হে আল্লাহ! তোমার ইজ্জতের কসম খেয়ে বলছি, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের প্রাণ শরীর থেকে বের না হবে, আমিও ততক্ষণ পর্যন্ত তার ভেতরে বসবাস করতে থাকব। অর্থাৎ তাকে গুনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকব। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে উত্তর দেওয়া হল-আমিও আমার ইজ্জতের কসম করে বলছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের শরীরে প্রাণ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য তাওবার দরজা সর্বদা খোলা থাকবে।
টিকাঃ
[৭৭] (সারমর্ম) কিমিয়ায়ে সা'আদাত
📄 হে মুসলিম তোমার কি হয়ে গেল?
হে মুসলিম তোমার কি হয়ে গেল? সম্পদের এত মহব্বত? তাওবা! তাওবা! সম্পদের খাতিরে আজ ঘরে ঘরে ঝগড়া। অবশেষে কোন মুখে আল্লাহ তা'আলার সামনে হাজির হবে। কেউ কি আছো যে আজ খাঁটি অন্তরে তাওবা করবে এবং দুনিয়ার মহব্বত থেকে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় প্রার্থনা করবে। কেউ কি আছো যে আজ খাঁটি অন্তরে তাওবা করবে এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ-এর সুদৃঢ় রশিকে আঁকড়ে ধরবে। আল্লাহ তা'আলার রহমত, মাগফিরাত ও সহনশীলতা দেখুন! সর্বদা তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন। কেউ এসে তো দেখো।
📄 একটি ভয়ঙ্কর রোগ
আল্লাহ তা'আলা আমাকে ও আপনাদের সকলকে ক্ষমা করে দিন। অধিক পরিমাণ ইস্তিগফারকে নিজেদের মা'মূলাত তথা নিয়মিত আমলের অংশ বানিয়ে নিন। আগামীকাল সকল গুনাহের মা থেকে তাওবা করতে হবে। অধিক ইস্তিগফারের দ্বারা দু'আ কবুল হয়ে থাকে। কোন কোন গুনাহ থেকে বাঁচার ফিকির করবেন। তারপর আসল রোগ থেকে মুক্তির দু'আ করতে থাকুন, যা সর্বদা শুধু গুনাহই করিয়ে থাকে। প্রতিদিন গুনাহের বংশ বৃদ্ধি করতে থাকে। উক্ত রোগটির নাম হল “হুব্বুদ-দুনিয়া” তথা দুনিয়ার মহব্বত। আমাদের প্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন-দুনিয়ার প্রতি মহব্বত করো না। না হয় ধ্বংসের মধ্যে পতিত হবে।
ধ্বংসই ধ্বংস। যে বস্তুকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধ্বংস আখ্যা দিয়েছেন, নিজেই একটু ভাবুন তো! তা কতটা ক্ষতিকর হবে। প্রিয় পাঠকবৃন্দ! দরিদ্রতাও মন্দ নয়, প্রাচুর্যও মন্দ নয়। রিজিক নির্ধারিত। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ ধনী ছিলেন আবার কেউ কেউ অনেক গরিব ছিলেন। কিন্তু তারা সকলেই দুনিয়ার মহব্বত থেকে পাক-পবিত্র ছিলেন। তাই তারা সফল। মনে রাখবেন! "অন্তরের প্রশান্তি" এবং "দুনিয়ার মহব্ব" এ উভয়টি কখনো একত্রিত হতে পারে না। এমনিভাবে দুনিয়ার মহব্বতে যে লিপ্ত হয়েছে, তার ইখলাস এবং আত্মত্যাগের মর্যাদাও নসিব হয় না এবং তার অন্তরে আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মহব্বতও আসে না। কারণ কী? কারণ হল, দুনিয়ার প্রতি মহব্বতকারী তার মূল পথ থেকে ছিটকে পড়ে।
সুরা তাকাসূর সকাল-বিকাল তিনবার পাঠ করে দুনিয়ার মহব্বত থেকে হেফাজতের দু'আর নিয়মিত আমলের সুদৃঢ় অভ্যাস বানিয়ে নিন। নিয়মিত এই সুরা পাঠ করবেন এবং দুনিয়ার মহব্বত থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন। নফল সালাতের সিজদায় এবং ফরজ সালাতের পরে এবং সারা দিনে যখনই কোন নেক কাজ করবেন, তখনই এই দু'আ করবেন। এই দু'আ যদি কবুল হয়ে যায়, তাহলে ইমান, ইখলাস, জিহাদ ও জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে যাবে।
হে আল্লাহ! আমাদের সকলকে "দুনিয়ার মহব্বত" থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদেরকে আপনার মাকবুল মহব্বত নসিব করুন। আমিন।
📄 বিষয়টি খুবই সহজ
বিষয়টি খুবই সহজ। দীনের ব্যাপারে নিজের মধ্যে এবং আল্লাহ তা'আলার মধ্যে কাউকে রাখবে না। একমাত্র আল্লাহ তা'আলার প্রতি মহব্বত। একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ভয় এবং সকল আমল একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য। যেকোন মুসলমান নিজের জীবনের একটি দিন এভাবে কাটিয়ে দেখুন। অবশ্যই তার শরীরে কালিমার নূর প্রবাহিত হবে। আমরা তো আমাদের দীনকে মানুষের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছি। যখন মানুষ আমাদেরকে দেখে তখন আমরা পাক্কা মুসলমান। আর যখন কেউ না দেখে তখন শুধু গুনাহ আর গুনাহ। যখন কোন নেক কাজ করা হয় তখন শুধু এই চিন্তা যে, মানুষ যেন এটা জানতে পারে। আর যদি গোপনে নেক কাজ করা হয় তখন এই প্রত্যাশা থাকে যে, মানুষ যেন আমাকে মূল্যায়ন করে। আমার নেক কাজের বিনিময়ে আমাকে সম্মান করে। এমন নেক কাজ বেশি দিন সঙ্গ দেয় না। এটা দুনিয়াতেই ছুটে যায়। আখিরাতে কীভাবে কাজে আসবে। প্রিয় পাঠকবৃন্দ! দীনের কাজ একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্যই করুন। দেখুন! শ্রোতের পানি ঘরের দরজা পর্যন্ত চলে এসেছে।