📄 আমাদের মুসলিম বোনেরা অনেক উচ্চ মর্যাদাশীল
আমাদের মুসলিম বোনেরা অনেক উচ্চ মর্যাদাশীল। তাদের কাজ এটা নয় যে, বাজারে গিয়ে পুরুষদের সাথে বেচা-কেনা করবে কিংবা মোবাইলের উপর নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করবে। বর্তমান সময়ের মুসলিম নারী সালাতের স্বাদ ও শক্তি থেকে বঞ্চিত। এর অন্যতম কারণ হল- বাজারে যাওয়া এবং মোবাইলের অবৈধ ও অহেতুক ব্যবহার করা। হে আমার বোনেরা! কবরসমূহ মুখ হা করে অপেক্ষা করছে। শুকরিয়া আদায় করুন যে, এখনো শরীরে প্রাণ আছে এবং তাওবার দরজা খোলা আছে।
📄 একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা
কিছুদিন পূর্বে জনৈক বুজুর্গের নিকট গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম যে, কয়েকদিন পূর্বে এই বুজুর্গ অনেক পেরেশান ছিলেন। তার চেহারা হলুদ হয়ে গিয়েছিল এবং সর্বদা শুধু অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। লোকেরা অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পরে বলেছেন যে, গ্রামের কবরস্তানে এক মহিলার উপর আজাব হচ্ছে। তার আজাবের ভয়াবহতার কারণে আমার এ অবস্থা হয়েছে। অতঃপর উক্ত বুজুর্গ ও সকল মুসল্লী খুব কান্নাকাটি করে দু'আ করেছেন। তখন উক্ত আজাব ঠাণ্ডা হয়েছে। কোথায় গেল আজ সিজদায় পড়ে কেঁদে কেঁদে ইবাদাতকারী মহীয়সী নারীগণ? কোথায় গেল আজ লজ্জাশীলা সে সকল নারীগণ, যারা পর্দাকে আল্লাহ তা'আলার নি'আমত মনে করে অন্তর থেকে গ্রহণ করেছে। অতঃপর স্বীয় চেহারা, কান ও চক্ষুকে সকল গুনাহ থেকে হেফাজত করেছে। কোথায় গেল আজ সেই আল্লাহর বান্দীগণ, যারা উঠতে-বসতে তাওবা ও ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকত?
📄 বনি ইসরাইলের এক তাওবাকারীর ঘটনা
কথিত আছে যে, বনি ইসরাইলের মধ্যে একবার অনেক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম তাদের মধ্য থেকে ৭০ জন নেককার ব্যক্তি নির্বাচন করলেন এবং তাদেরকে নিয়ে তাওবা-ইস্তিগফার ও দু'আ করার জন্য বাহিরে বের হলেন। সবাই মিলে খুব কান্নাকাটি করলেন কিন্তু আসমানে কোন প্রকার পরিবর্তন এলো না। সূর্য ক্ষিপ্রগতিতে গরম বর্ষণ করতে লাগল। বৃষ্টি-বাদলের দূরতম কোন নাম-নিশানাও দেখা গেল না। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার নিকট আবেদন করলেন যে, হে আল্লাহ! এতো কান্নাকাটি, এতো তাওবা-ইস্তিগফার ও এতো দু'আ করার পরেও কোন প্রকার কবুলিয়াত নাই। তখন ইরশাদ হল যে, এই ৭০ জনের মধ্যে একজন এমন রয়েছে যে, এখনো তাওবা করেনি। সে নিজের গুনাহের উপর অটল রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাকে তোমাদের থেকে পৃথক না করবে, ততক্ষণ তোমাদের দু'আ কবুল হবে না। তাকে বের করে দিয়ে দু'আ করলে দু'আ কবুল হবে। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম ঘোষণা করে দিলেন যে, ঐ ব্যক্তি যে তাওবা করছে না সে যেন বের হয়ে যায়। ঐ ব্যক্তি যখন এই ঘোষণা শুনল, তখন লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে তার অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল। অন্তরে আল্লাহ তা'আলার ভয় জাগ্রত হয়ে গেল এবং সে মনে মনে খাঁটি তাওবা করে নিল। আর তখনই বাতাস বইতে শুরু করল এবং মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগল। হজরত মূসা আলাইহিস সালাম আরজ করলেন যে, হে আল্লাহ! ঐ ব্যক্তি তো এখনো বের হয়নি। আর আপনি দু'আ কবুল করে নিলেন? ইরশাদ হল-হে মূসা! সে খাঁটি তাওবা করে নিয়েছে। আরজ করলেন সে কোন ব্যক্তি? ইরশাদ হল, হে মুসা! সে যখন আমার অবাধ্যতা করছিল, তখন আমি তার উপর পর্দা দিয়ে রেখেছিলাম আর এখন সে তাওবা করে ফেলেছে। তাহলে এখন কি আমি তাকে লাঞ্ছিত করব?
📄 গুনাহ হল ক্ষমা পাওয়ার মাধ্যম
ময়লা কাপড় যেমন সাবান দিয়ে ধৌত করার দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায় ঠিক তেমনিভাবে অন্তরও ইবাদাতের নূরের দ্বারা গুনাহের কালিমা থেকে পবিত্র হয়ে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
প্রত্যেক গুনাহের পরে অবশ্যই একটি নেকি করে নাও যা উক্ত গুনাহের প্রভাবকে দূর করে দেবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন-তোমাদের গুনাহ যদি আসমান পর্যন্তও পৌছে যায়, তখনও যদি তাওবা করো, তাহলেও কবুল করা হবে। এক বান্দা এমনও হবে যে, গুনাহই তার ক্ষমার কারণ হয়ে যাবে এবং সে জান্নাতে চলে যাবে। লোকেরা আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল! সে বান্দা কে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেন-সে হল ঐ বান্দা যে গুনাহ করে অনুতপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু কিছু অনুতপ্ততা জান্নাত পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে। এমন ব্যক্তি সম্পর্কেই শয়তান বলবে-হায়! আমি যদি তাকে এমন গুনাহে লিপ্তই না করতাম। নেকি গুনাহকে এমনভাবে মিটিয়ে দেয়, যেমনিভাবে সাবান-পানি ময়লা কাপড় থেকে ময়লা ও ময়লার দাগকে মিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তা'আলা যখন ইবলিসকে তাঁর অভিশপ্ত করে দিলেন, তখন সে বলল-হে আল্লাহ! তোমার ইজ্জতের কসম খেয়ে বলছি, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের প্রাণ শরীর থেকে বের না হবে, আমিও ততক্ষণ পর্যন্ত তার ভেতরে বসবাস করতে থাকব। অর্থাৎ তাকে গুনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকব। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে উত্তর দেওয়া হল-আমিও আমার ইজ্জতের কসম করে বলছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের শরীরে প্রাণ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য তাওবার দরজা সর্বদা খোলা থাকবে।
টিকাঃ
[৭৭] (সারমর্ম) কিমিয়ায়ে সা'আদাত