📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা সম্পর্কে একটি ঈমানদীপ্ত ঘটনা

📄 তাওবা সম্পর্কে একটি ঈমানদীপ্ত ঘটনা


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ ﷺ قَالَ: كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةٌ وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمٍ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ، فَقَالَ: لَا ، فَقَتَلَهُ، فَكَمَلَ بِهِ مِائَةً، ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةِ، فَقَالَ: نَعَمْ، وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ انْطَلِقُ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا، فَإِنَّ بِهَا أَنَاسًا يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاعْبُدِ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلَا تَرْجِعُ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ، فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ: جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلًا بِقَلْبِهِ إِلَى اللهِ، وَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ: إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ، فَأَتَاهُمْ مَلَكُ فِي صُورَةِ آدَمِي، فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ، فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ، فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ، فَقَبَضَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ
“হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মাঝে এক ব্যক্তি ছিল। যে নিরানব্বইটি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। (অতঃপর সে অনুতপ্ত হল) তখন সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তাকে একজন রাহেব তথা খৃস্টান পাদ্রীর সন্ধান দেওয়া হল। সে তার নিকট গেল এবং জিজ্ঞেস করল যে, আমি নিরানব্বইটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছি। আমার জন্য কি তাওবার কোন সুযোগ আছে? উক্ত পাদ্রী বলল, না। তখন উক্ত পাদ্রীকেও হত্যা করে ফেলল। হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা একশত পূর্ণ করল। (অতঃপর সে এর জন্যও অনুতপ্ত হল) তখন সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তাকে একজন বড় আলেমের সন্ধান দেওয়া হল। সে উক্ত আলেমের নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করল যে, আমি একশত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছি। আমার জন্য কি তাওবার কোন সুযোগ আছে? তিনি বললেন, অবশ্যই আছে। তোমার মাঝে আর তাওবার মাঝে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা নেই। তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার ইবাদাতে লিপ্ত আছে। তুমিও তাদের সাথে ইবাদাতে লিপ্ত হয়ে যাও। আর নিজের এলাকায় ফিরে এসো না। কেননা (তোমার জন্য) তা মন্দ ভূমি। সে ঐ স্থানে রওয়ানা হল। যখন অর্ধেক পথ অতিক্রম করল, তখন তার মৃত্যু এসে গেল। তাই রহমতের ফেরেশতা ও আজাবের ফেরেশতার মধ্যে তার ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দিল। রহমতের ফেরেশতা বলল যে, সে তো তাওবাকারী হয়ে অন্তর থেকেই আল্লাহ তা'আলার অভিমুখে আসতেছিল (এজন্য আমি তার উপযুক্ত)। আযাবের ফেরেশতা বলল যে, সে তো কখনোই কোন নেককাজ করেনি (সুতরাং আমিই তাকে নিয়ে যাব)। অতঃপর (আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে) মানুষের রূপ ধারণ করে একজন ফেরেশতা এলো। তারা উভয়ে তাকে বিচারক নির্ধারণ করল। সে সিদ্ধান্ত দিল যে, জমিনকে মাপ দাও। যেদিকে জমিন নিকটবর্তী হবে সে তারই হবে। সুতরাং তারা জমিন পরিমাপ করলেন। তখন তাকে ঐ জমিনেরই নিকটবর্তী পেলেন, সে যার ইচ্ছা করেছিলেন (অর্থাৎ তাওবার)। তাই রহমতের ফেরেশতা তাকে নিয়ে গেল।

টিকাঃ
[৭০] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৩৪৭০; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৬৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ২৬২২; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১১৫৪

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 দু’টি ঘোষণা

📄 দু’টি ঘোষণা


দুটি ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। একটি হল আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে। আর তা হল, আমার বান্দা যখনই এবং যতবারই ক্ষমা প্রার্থনা করবে ও অনুতপ্ত হবে, তখনই এবং ততবারই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর অপর ঘোষণাটি হল শয়তানের পক্ষ থেকে। সে এসে কানে কানে বলে যে, তুমি তো মুনাফিক হয়ে গেছ। ধোঁকাবাজ হয়ে গেছ। বার বার মিথ্যা তাওবা করে আল্লাহ তা'আলাকে ধোঁকা দিচ্ছ। সুতরাং ছেড়ে দাও এমন তাওবা। তোমার এই তাওবাও তো গুনাহ। তুমি আল্লাহ তা'আলার অবাধ্য। আল্লাহ তা'আলাই চান না যে, তুমি গুনাহ থেকে বাঁচ। তারপরও তুমি মুনাফিকের ন্যায় বার বার তাওবা করে কেন অশ্রু প্রবাহিত করছ এবং পুনরায় গুনাহে লিপ্ত হচ্ছ। এটা হল শয়তানের ঘোষণা।
প্রিয় পাঠক! এখন আপনিই বলুন যে, প্রথম ঘোষণাটি গ্রহণ করবেন নাকি (নাউযুবিল্লাহ) দ্বিতীয় ঘোষণাটি গ্রহণ করবেন? অবশ্যই যারা মুমিন, তারা আল্লাহ তা'আলার ঘোষণাই গ্রহণ করবে এবং বার বার আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হবে। দুনিয়াতে যদি কেউ কাউকে ভয় পায়, তাহলে তার কাছ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু যখন কোন বান্দা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে, তখন আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হওয়াই তার প্রতি নির্দেশ।
এই ভয় তখনই হবে যখন প্রতিটি গুনাহের জন্য অন্তর থেকে তাওবা করবে। অতঃপর বেশি বেশি নেককাজ করে তা পূরণ করার চিন্তা করবে। আমরা আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী দৌড়াচ্ছি, হঠাৎ গুনাহ হয়ে গেল। তার অর্থ হল সে পড়ে গেছে। এখন তার জন্য রয়েছে ইস্তিগফার। ক্ষমা প্রার্থনা করল তো সে দাঁড়িয়ে গেল। তারপর রয়েছে তাওবা। নেক আমল করেছে মানে আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী দৌড়াচ্ছে। মুসনাদে আহমাদের এক বর্ণনায় এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— হে বনী আদম! তুমি যদি আমার জন্য দাঁড়িয়ে যাও, তাহলে আমি তোমার দিকে হেঁটে আসব। আর তুমি যদি আমার দিকে হেটে আসো, তাহলে আমি তোমার দিকে দৌড়ে আসব।
সুবহানাল্লাহ! মোটকথা আমাদের পক্ষ থেকে সামান্য চেষ্টা আর ঐ দিক থেকে সাথে সাথে কবুল করে নেওয়া এবং রহমত।
হজরত আলী ইবনে আবি তালিব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ الْمُفْتِنَ التَّوَّابَ
অর্থ: আল্লাহ তা'আলা এমন মুমিন বান্দাকে মহব্বত করেন, যে বান্দা বার বার গুনাহে পতিত হয় এবং অনেক বেশি তাওবা করে।

টিকাঃ
[৭১]. আবু ইয়ালা

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গুনাহগার দুই প্রকার

📄 গুনাহগার দুই প্রকার


এক ব্যক্তির গুনাহ করার ইচ্ছে নেই। কিন্তু তার বার বার গুনাহ হয়ে যায় এবং সে বার বার তাওবা করে। তার মধ্যে এবং ঐ ব্যক্তির মধ্যে অনেক পার্থক্য, যে এই চিন্তা করে গুনাহে লিপ্ত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা "গাফুরুর রাহিম” এজন্য আমি গুনাহ করি। তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। এই চিন্তাটি ভুল ও মন্দ স্বভাব এবং স্বীয় মালিকের প্রতি স্পষ্ট নির্লজ্জতা। আরে ভাই তাঁর "গাফুরুর রাহিম” হওয়ার দাবী তো হল- মানুষ আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহের প্রতি এতোটা লজ্জিত হবে যে, সে গুনাহের চিন্তা করতেও ঘৃণা হবে। কিন্তু যে বান্দাকে হাদিস শরিফে মুফতিন ও তাওয়‍্যাব বলা হয়েছে, অর্থাৎ বার বার গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি এবং তাওবাকারী, সে গুনাহ করে না। তবে তার থেকে গুনাহ হয়ে যায়। সে নিজেকে গুনাহ করার দাবিদার মনে করে না বরং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে চায়। সে গুনাহের উপর অহংকার করে না, কিন্তু গুনাহ যখন তার উপর ভর করে তখন সে খাঁটি তাওবাকে নিজের উপর অত্যাবশ্যক করে নেয় এবং তাওয়্যাব হয়ে যায়। বার বার তাওবা করে, অনুতপ্ত হয়, কান্নাকাটি করে। কিন্তু নিরাশ হয় না, বরং তাওবা করে। হতাশ হয় না। শুধু তাওবা আর তাওবা। তখন সে ঐ ওলীদের সমতুল্য হয়ে যায়, যারা অধিকাংশ গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকে। আর পুনরায় যখন সে "মহব্বতে এলাহী" তথা আল্লাহ তা'আলার মহব্বতের মর্যাদায় গিয়ে উপনীত হয়, তখন অনেক গুনাহ থেকে বেঁচে যান। এ কথাটি আমি আমার পক্ষ থেকে বলিনি, বরং একটি হাদিসে এসেছে। যে হাদিসটির সনদ হাসান। বিস্তারিতভাবে এ সুসংবাদ বর্ণনা করা হয়েছে। আসুন উক্ত হাদিসটি পাঠ করুন-
“হজরত উকবা ইবনে আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন-হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মধ্য হতে কেউ কেউ গুনাহ করে ফেলে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উক্ত গুনাহ তার জন্য লিখা হয়। অর্থাৎ তার আমলনামায় উক্ত গুনাহ লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। ঐ ব্যক্তি বললেন, অতঃপর সে উক্ত গুনাহের উপর তাওবা ও ইস্তিগফার করে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-তখন তার উক্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং তার তাওবা কবুল করে নেওয়া হবে। ঐ ব্যক্তি বললেন, তারপর সে পুনরায় গুনাহ করে বসে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-তখন তা তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়। ঐ ব্যক্তি বললেন, সে পুনরায় উক্ত গুনাহের উপর তাওবা ও ইস্তিগফার করে নেয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-তখন উক্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং তাওবা কবুল করে নেওয়া হবে। আল্লাহ তা'আলা ক্লান্ত হন না। যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও।"
অন্য আরেক সাহাবী হজরত হাবীব ইবনুল হারিস রাদিআল্লাহু আনহু এ অভিযোগ উত্থাপন করলেন যে, গুনাহ হয়ে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- তাওবা কর। তিনি বললেন, তাওবা তো করি কিন্তু তারপরও হয়ে যায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যখনই গুনাহ হয়ে যায় তখনই তাওবা করে নাও। তিনি বললেন, তখন তো তাহলে আমার গুনাহ অনেক অধিক হয়ে যাবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
عَفْوُ اللَّهِ أَكْبَرُ مِنْ ذُنُوْبِكَ يَا حَبِيْبَ بْنَ الْحَارِثِ
“হে হাবীব ইবনুল হারিস! আল্লাহ তা'আলার ক্ষমা তোমার গুনাহসমূহ থেকে অনেক বড়।"

টিকাঃ
[৭২]. তাবরানী ফিল-কাবীর ওয়াল আওসাত
[৭৩]. প্রাগুক্ত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 যে তাওবা চায় না

📄 যে তাওবা চায় না


عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: لَا يَرْحَمْ لَا يُرْحَمْ وَمَنْ لَّا يَغْفِرْ لَا يُغْفَرْلَةَ وَمَنْ لَّمْ يَتُبْ لَمْ يُتَبْ عَلَيْهِ
“হজরত জাবের রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-যে ব্যক্তি অনুগ্রহ করে না, তার উপর অনুগ্রহ করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ক্ষমা করে না, তাকে ক্ষমা করা হবে না এবং যে ব্যক্তি তাওবা করে না, তার তাওবা কবুল করা হবে না।"

টিকাঃ
[৭৪] প্রাগুক্ত

ফন্ট সাইজ
15px
17px