📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবার ওয়ায়েজদের জন্য করণীয়

📄 তাওবার ওয়ায়েজদের জন্য করণীয়


গাফলত ও গুনাহের ব্যাধি অত্যন্ত ব্যাপক। এই রোগের ডাক্তার হলেন উলামায়ে কেরাম। যেহেতু সকল ব্যাধির মূল হল দুনিয়ার মহব্বত, তাই উলামায়ে কেরামের উচিত যে, তারা দুনিয়ার মহব্বত থেকে নিজেকে বাঁচানো। যেন উম্মতের সঠিক চিকিৎসা করতে পারে। মুসলিমদেরকে তাওবা ও ইস্তিগফারের উপর নিয়ে আসার জন্য উলামায়ে কেরাম নিজেদের বয়ান ও বক্তৃতায় নিম্নের চারটি বিষয় অবশ্যই বয়ান করা উচিত। যথা-
১. কুরআনুল কারিমের ঐ আয়াত ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঐ হাদিসসমূহ যা নাফরমান ও গুনাহগারদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলে।
২. হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালাম ও সালাফে সালেহীনের ঐ সকল ঘটনাবলী, যেগুলোতে অনর্থক কাজ ও গুনাহের উপর অবতীর্ণ বিপদ-মুসিবাতের ও তাওবার আলোচনা রয়েছে।
৩. গুনাহের কারণে দুনিয়াতেই কী কী ক্ষতি হয়, তা বর্ণনা করা। কেননা সাধারণ মানুষ দুনিয়ার বিপদ ও ক্ষতিকে বেশি ভয় করে।
৪. প্রতিটি গুনাহের ভিন্ন ভিন্ন ভয়াবহতা যা কুরআন-সুন্নাহতে এসেছে।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বুদ্ধিমান কে?

📄 বুদ্ধিমান কে?


বর্তমানে জুন মাসের গরমের রাত চলছে। আমার আজ থেকে পনেরো বছর পূর্বের জুন মাসের কিছু রাতের কথা স্মরণ হচ্ছে। ভয়, শঙ্কা ও পেরেশানিতে ভরপুর কিছু রাত। তবে অবশ্যই তা খারাপ রাত ছিল না। আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় ভয়ের রাত কি খারাপ হতে পারে? খারাপ রাত তো হল ঐ রাত, যা গাফলত ও গুনাহের মধ্যে অতিবাহিত হয়। যে রাতে না সালাত হয়, না জিকির হয় এবং না ইস্তিগফার হয়। অনেক লোক রঙ্গিন রাতের স্বপ্ন দেখে। রঙ্গিন রাত তো অনেক কালো হয়ে থাকে। স্বাদ শেষ হয়ে যায় এবং গুনাহ নিশ্চিত হয়ে যায়। টিভি, ফিল্ম, মাদক, কাবাব ও গীবাতের গুনাহ। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ভাল এবং মন্দ বুঝার তাওফিক দান করুন। বর্তমানে তো সব হল উল্টা। সে-ই বোকা, যে পরকালের প্রকৃত জীবন থেকে উদাসীন হয়ে দুনিয়া কামানো এবং বানানোতে লিপ্ত থাকে এবং কিছুটা বানায়ও বটে। মানুষ তাকেই বুদ্ধিমান মনে করে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গোটা কুরআনুল কারিম পাঠ করুন। আমার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সীরাত খুলে দেখুন। বুদ্ধিমান তো সে, যে এই দুনিয়ায় থেকে নিজের পরকাল বানিয়ে নেয় এবং তাকে অনেক সাজিয়ে নেয়।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা হল নৈকট্য এবং লজ্জা

📄 তাওবা হল নৈকট্য এবং লজ্জা


হজরত হাজবেরী রাহি. বলেন যে, হজরত জুনুন মিশরী রাহি, বলতেন যে, তাওবা দুই প্রকার। এক প্রকার তাওবা হল তাওবায়ে ইনাবাত। আরেক প্রকার তাওবা হল তাওবায়ে ইস্তিহইয়া। তাওবায়ে ইনাবাত হল, মানুষ আল্লাহ তা'আলার আজাবের ভয়ে তাওবা করা। এই তাওবাও অনেক উচ্চ এবং অনেক বড়। তবে তাওবায়ে ইস্তিহইয়া হল, আল্লাহ তা'আলার দয়া ও অনুগ্রহের প্রতি লজ্জিত হয়ে তাওবা করা। আমার উপর আল্লাহ তা'আলার কত দয়া ও অনুগ্রহ। সুতরাং আমার জন্য এমন দয়ালু ও অনুগ্রহশীল রবের নাফরমানী করা উচিত নয়। কখনো চিন্তা করেছেন যে, আমরা দৈনিক কত বার অজু করি? হ্যাঁ! বার বার অজু করি। যেন পবিত্র হতে পারি এবং সালাত আদায় করতে পারি। পবিত্র কুরআন স্পর্শ করতে পারি। ঠিক এমনিভাবে আমরা আমাদের অন্তরের পবিত্রতার জন্যও বার বার তাওবার অজু করা উচিত। আমরা কি কখনো চিন্তা করেছি যে, কোন কোন লোককে সন্তুষ্ট করার জন্য আমরা কি পরিমাণ চিন্তিত থাকি। তাই আসুন এরচেয়েও অগ্রসর হয়ে আমরা আমাদের অন্তরে আল্লাহ তা'আলাকে সন্তুষ্ট করার চিন্তা-ভাবনা বসিয়ে নিই এবং প্রতিটি গুনাহের পরে ভীত হয়ে সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হই।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা সম্পর্কে একটি ঈমানদীপ্ত ঘটনা

📄 তাওবা সম্পর্কে একটি ঈমানদীপ্ত ঘটনা


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِي ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ ﷺ قَالَ: كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةٌ وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمٍ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ، فَقَالَ: لَا ، فَقَتَلَهُ، فَكَمَلَ بِهِ مِائَةً، ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةِ، فَقَالَ: نَعَمْ، وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ انْطَلِقُ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا، فَإِنَّ بِهَا أَنَاسًا يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاعْبُدِ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلَا تَرْجِعُ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ، فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ: جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلًا بِقَلْبِهِ إِلَى اللهِ، وَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ: إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ، فَأَتَاهُمْ مَلَكُ فِي صُورَةِ آدَمِي، فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ، فَقَالَ: قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ، فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ، فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ، فَقَبَضَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ
“হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মাঝে এক ব্যক্তি ছিল। যে নিরানব্বইটি হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। (অতঃপর সে অনুতপ্ত হল) তখন সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তাকে একজন রাহেব তথা খৃস্টান পাদ্রীর সন্ধান দেওয়া হল। সে তার নিকট গেল এবং জিজ্ঞেস করল যে, আমি নিরানব্বইটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছি। আমার জন্য কি তাওবার কোন সুযোগ আছে? উক্ত পাদ্রী বলল, না। তখন উক্ত পাদ্রীকেও হত্যা করে ফেলল। হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা একশত পূর্ণ করল। (অতঃপর সে এর জন্যও অনুতপ্ত হল) তখন সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তাকে একজন বড় আলেমের সন্ধান দেওয়া হল। সে উক্ত আলেমের নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করল যে, আমি একশত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছি। আমার জন্য কি তাওবার কোন সুযোগ আছে? তিনি বললেন, অবশ্যই আছে। তোমার মাঝে আর তাওবার মাঝে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা নেই। তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে কিছু লোক আল্লাহ তা'আলার ইবাদাতে লিপ্ত আছে। তুমিও তাদের সাথে ইবাদাতে লিপ্ত হয়ে যাও। আর নিজের এলাকায় ফিরে এসো না। কেননা (তোমার জন্য) তা মন্দ ভূমি। সে ঐ স্থানে রওয়ানা হল। যখন অর্ধেক পথ অতিক্রম করল, তখন তার মৃত্যু এসে গেল। তাই রহমতের ফেরেশতা ও আজাবের ফেরেশতার মধ্যে তার ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দিল। রহমতের ফেরেশতা বলল যে, সে তো তাওবাকারী হয়ে অন্তর থেকেই আল্লাহ তা'আলার অভিমুখে আসতেছিল (এজন্য আমি তার উপযুক্ত)। আযাবের ফেরেশতা বলল যে, সে তো কখনোই কোন নেককাজ করেনি (সুতরাং আমিই তাকে নিয়ে যাব)। অতঃপর (আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে) মানুষের রূপ ধারণ করে একজন ফেরেশতা এলো। তারা উভয়ে তাকে বিচারক নির্ধারণ করল। সে সিদ্ধান্ত দিল যে, জমিনকে মাপ দাও। যেদিকে জমিন নিকটবর্তী হবে সে তারই হবে। সুতরাং তারা জমিন পরিমাপ করলেন। তখন তাকে ঐ জমিনেরই নিকটবর্তী পেলেন, সে যার ইচ্ছা করেছিলেন (অর্থাৎ তাওবার)। তাই রহমতের ফেরেশতা তাকে নিয়ে গেল।

টিকাঃ
[৭০] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৩৪৭০; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৬৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ২৬২২; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১১৫৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px