📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করা

📄 ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করা


হজরত আবদুর রহমান ইবনে আবুল কাসিম রাহি. থেকে বর্ণিত যে, একবার কাফিরদের তাওবার আলোচনা হল। যেমন পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
قُل لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ
"যারা কুফরী করেছে আপনি তাদেরকে বলুন, যদি তারা বিরত হয় তাহলে অতীতে যা হয়েছে তাদেরকে তা ক্ষমা করা হবে।"[৬৮]
ইসলামের শত্রু কাফিরও যদি স্বীয় কুফরী থেকে ফিরে এসে ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার অতীতের সকল অপরাধ ও গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। এর ভিত্তিতে হজরত আবদুর রহমান বলেন- যেখানে কাফিরদের সাথেই এ অবস্থা, তাহলে আমি আশাবাদী যে, মুসলিমদের আল্লাহ তা'আলার নিকট এরচেয়েও ভাল হবে। আমার নিকট বর্ণনা পৌঁছেছে যে, মুসলিমদের তাওবা করা হল এমন, যেমন ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করা। অর্থাৎ তাওবার দ্বারা অতীতের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। [৬৯]

টিকাঃ
[৬৮] আনফাল- ৮: ৩৮
[৬৯] এহইয়াউল উলুম (সারমর্ম)

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবার ওয়ায়েজদের জন্য করণীয়

📄 তাওবার ওয়ায়েজদের জন্য করণীয়


গাফলত ও গুনাহের ব্যাধি অত্যন্ত ব্যাপক। এই রোগের ডাক্তার হলেন উলামায়ে কেরাম। যেহেতু সকল ব্যাধির মূল হল দুনিয়ার মহব্বত, তাই উলামায়ে কেরামের উচিত যে, তারা দুনিয়ার মহব্বত থেকে নিজেকে বাঁচানো। যেন উম্মতের সঠিক চিকিৎসা করতে পারে। মুসলিমদেরকে তাওবা ও ইস্তিগফারের উপর নিয়ে আসার জন্য উলামায়ে কেরাম নিজেদের বয়ান ও বক্তৃতায় নিম্নের চারটি বিষয় অবশ্যই বয়ান করা উচিত। যথা-
১. কুরআনুল কারিমের ঐ আয়াত ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঐ হাদিসসমূহ যা নাফরমান ও গুনাহগারদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলে।
২. হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালাম ও সালাফে সালেহীনের ঐ সকল ঘটনাবলী, যেগুলোতে অনর্থক কাজ ও গুনাহের উপর অবতীর্ণ বিপদ-মুসিবাতের ও তাওবার আলোচনা রয়েছে।
৩. গুনাহের কারণে দুনিয়াতেই কী কী ক্ষতি হয়, তা বর্ণনা করা। কেননা সাধারণ মানুষ দুনিয়ার বিপদ ও ক্ষতিকে বেশি ভয় করে।
৪. প্রতিটি গুনাহের ভিন্ন ভিন্ন ভয়াবহতা যা কুরআন-সুন্নাহতে এসেছে।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বুদ্ধিমান কে?

📄 বুদ্ধিমান কে?


বর্তমানে জুন মাসের গরমের রাত চলছে। আমার আজ থেকে পনেরো বছর পূর্বের জুন মাসের কিছু রাতের কথা স্মরণ হচ্ছে। ভয়, শঙ্কা ও পেরেশানিতে ভরপুর কিছু রাত। তবে অবশ্যই তা খারাপ রাত ছিল না। আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় ভয়ের রাত কি খারাপ হতে পারে? খারাপ রাত তো হল ঐ রাত, যা গাফলত ও গুনাহের মধ্যে অতিবাহিত হয়। যে রাতে না সালাত হয়, না জিকির হয় এবং না ইস্তিগফার হয়। অনেক লোক রঙ্গিন রাতের স্বপ্ন দেখে। রঙ্গিন রাত তো অনেক কালো হয়ে থাকে। স্বাদ শেষ হয়ে যায় এবং গুনাহ নিশ্চিত হয়ে যায়। টিভি, ফিল্ম, মাদক, কাবাব ও গীবাতের গুনাহ। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ভাল এবং মন্দ বুঝার তাওফিক দান করুন। বর্তমানে তো সব হল উল্টা। সে-ই বোকা, যে পরকালের প্রকৃত জীবন থেকে উদাসীন হয়ে দুনিয়া কামানো এবং বানানোতে লিপ্ত থাকে এবং কিছুটা বানায়ও বটে। মানুষ তাকেই বুদ্ধিমান মনে করে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গোটা কুরআনুল কারিম পাঠ করুন। আমার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সীরাত খুলে দেখুন। বুদ্ধিমান তো সে, যে এই দুনিয়ায় থেকে নিজের পরকাল বানিয়ে নেয় এবং তাকে অনেক সাজিয়ে নেয়।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা হল নৈকট্য এবং লজ্জা

📄 তাওবা হল নৈকট্য এবং লজ্জা


হজরত হাজবেরী রাহি. বলেন যে, হজরত জুনুন মিশরী রাহি, বলতেন যে, তাওবা দুই প্রকার। এক প্রকার তাওবা হল তাওবায়ে ইনাবাত। আরেক প্রকার তাওবা হল তাওবায়ে ইস্তিহইয়া। তাওবায়ে ইনাবাত হল, মানুষ আল্লাহ তা'আলার আজাবের ভয়ে তাওবা করা। এই তাওবাও অনেক উচ্চ এবং অনেক বড়। তবে তাওবায়ে ইস্তিহইয়া হল, আল্লাহ তা'আলার দয়া ও অনুগ্রহের প্রতি লজ্জিত হয়ে তাওবা করা। আমার উপর আল্লাহ তা'আলার কত দয়া ও অনুগ্রহ। সুতরাং আমার জন্য এমন দয়ালু ও অনুগ্রহশীল রবের নাফরমানী করা উচিত নয়। কখনো চিন্তা করেছেন যে, আমরা দৈনিক কত বার অজু করি? হ্যাঁ! বার বার অজু করি। যেন পবিত্র হতে পারি এবং সালাত আদায় করতে পারি। পবিত্র কুরআন স্পর্শ করতে পারি। ঠিক এমনিভাবে আমরা আমাদের অন্তরের পবিত্রতার জন্যও বার বার তাওবার অজু করা উচিত। আমরা কি কখনো চিন্তা করেছি যে, কোন কোন লোককে সন্তুষ্ট করার জন্য আমরা কি পরিমাণ চিন্তিত থাকি। তাই আসুন এরচেয়েও অগ্রসর হয়ে আমরা আমাদের অন্তরে আল্লাহ তা'আলাকে সন্তুষ্ট করার চিন্তা-ভাবনা বসিয়ে নিই এবং প্রতিটি গুনাহের পরে ভীত হয়ে সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px