📄 তাওবার উপর আল্লাহ তা‘আলার খুশি
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: اللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ فِي أَرْضِ دَويَّةٍ مَهْلِكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَنَامَ فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ، فَطَلَبَهَا حَتَّى أَدْرَكَهُ الْعَطَشُ، ثُمَّ قَالَ: أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِيَ الَّذِي كُنْتُ فِيهِ، فَأَنَامُ حَتَّى أَمُوتَ، فَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى سَاعِدِهِ لِيَمُوتَ فَاسْتَيْقَظَ وَعِنْدَهُ رَاحِلَتُهُ وَعَلَيْهَا زَادُهُ وَطَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَاللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هَذَا بِرَاحِلَتِهِ وَزَادِهِ
"হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, বাস্তবতা হল-আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দার তাওবার উপর খুব খুশি হন। ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে ব্যক্তি (মনে করুন) এমন এক শুষ্ক মরুভূমিতে (মুসাফির) হয়েছে, যেখানে (চারিদিকে) শুধু ধ্বংস। তার সাথে তার ঘোড়া রয়েছে, যে ঘোড়ার উপরে তার খাদ্য-পানীয় রয়েছে। সে (ক্লান্তির কারণে) নিদ্রা গিয়েছে। জাগ্রত হয়ে দেখে যে, তার ঘোড়া হারিয়ে গেছে। সে উক্ত ঘোড়া খুঁজতে গিয়ে ঘুরতে ঘুরতে তার পিপাসা লেগে গেছে। তখন সে (নিরাশ হয়ে মনে মনে) বলছে, যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানে চলে যাই। সেখানে গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে ঘুমিয়ে থাকি। (কেননা এখানে জীবিত থাকা অসম্ভব। বহু দূর পর্যন্ত না কোন লোকালয় আছে, না কোন খাওয়া বা পান করার কোন বস্তু আছে) সে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে তার হাতের উপর মাথা রেখে দিল। (ঐ অবস্থায় তার ঘুম এসে গেল) জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল যে, তার উক্ত ঘোড়াটি সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ঘোড়ার পিঠে তার সফরের সামান-পত্র ও খাদ্য-পানীয়। (এখন বলুন তো তখন সে কি পরিমাণ খুশি হবে?) ঠিক তদ্রুপ আল্লাহ তা'আলাও তাঁর কোন মুমিন বান্দা তাওবা করলে এরচেয়েও অধিক খুশি হন, যে পরিমাণ ঐ ব্যক্তি তার ঘোড়া ও সামান-পত্র পেয়ে খুশি হয়।
টিকাঃ
[৬৫] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৪৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৮১৯২
📄 নিজের জীবনের উপর দয় করুন
আমি আমার সকল মুসলিম ভাই ও বোনকে বলছি যে, নিজের জীবনের উপর দয়া করুন। জ্বী হ্যাঁ! আমরা সকলে নিজের উপর দয়া করি এবং নিজেকে আজাব থেকে বাঁচানোর জন্য সকল গুনাহ থেকে তাওবা করে নেই। সর্বপ্রথম কথা এটা বলি যে, নিজেদের সালাতগুলোকে পুরোপুরি ঠিক করে নেই। জামা'আত ও যথাযথ গুরত্বের সাথে, পূর্ণ মহব্বত ও মনোযোগ এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সালাত আদায় করুন। প্রিয় পাঠক! সালাত তো জান্নাতের হুরের চেয়েও অধিক মাজাদার ও মিষ্টি। এটা কীভাবে সম্ভব যে, মুসলিম হয়ে সালাতে অলসতা করে? আল্লাহর ওয়াস্তে এমনটি করবেন না। আল্লাহ তা'আলা নিজে আমাদেরকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত তাঁর মহান দরবারে হাজির হওয়ার জন্য ডাকছেন। হ্যাঁ! খুবই গুরুত্বের সাথেই ডাকছেন। সুতরাং খাঁটি তাওবার দাবী হল আমরা সালাতের সাথে সর্বোচ্চ প্রেম ও ভালোবাসার সম্পর্ক রাখব।
📄 গুনাহের পরে নেকি
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ مَثَلَ الَّذِي يَعْمَلُ السَّيِّئَاتِ ثُمَّ يَعْمَلُ الْحَسَنَاتِ كَمَثَلِ رَجُلٍ كَانَتْ عَلَيْهِ دِرْعُ ضَيِّقَةٌ قَدْ خَنَقَتْهُ ثُمَّ عَمِلَ حَسَنَةٌ فَأَنْفَكَّتْ حَلُقَةٌ، ثُمَّ عَمِلَ حَسَنَةٌ أُخْرَى فَانْفَكَّتْ أُخْرَى حَتَّى يَخْرُجَ إِلَى الْأَرْضِ
“হজরত উকবা ইবনে আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি গুনাহের পরে নেকি করে, তার উপমা হল এমন, যেমন কোন ব্যক্তির শরীরে সংকীর্ণ লৌহবর্ম রয়েছে। এমন সংকীর্ণ যে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। অতঃপর সে একটি নেকি করে তো লৌহবর্মের একটি কড়া খুলে যায়। তারপর আরেকটি নেকি করে তো আরেকটি কড়া খুলে। এভাবে খুলতে খুলতে সে জমিনের উপর সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যায়।”
টিকাঃ
[৬৬] আহমাদ; তাবরানী
📄 গুনাহগার হয়ে গেল সিদ্দীক
হজরত কা'ব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—বনি ইসরাইলে এক ব্যক্তির কোন গুনাহ হয়ে গেছে। তখন উক্ত গুনাহের উপর অত্যন্ত পেরেশান হল যে, পেরেশানির কারণে কখনো এদিকে যায় তো কখনো ঐদিকে। আর বার বার বলছে যে, আমি আমার রবকে কীভাবে সন্তুষ্ট করব? আমি আমার রবকে কীভাবে সন্তুষ্ট করব? তার এই পেরেশান অবস্থা দেখে আল্লাহ তা'আলা তাকে সিদ্দিকীনদের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন।
দেখেছেন! অনুশোচনা ও ভয় একজন গুনাহগারকে সিদ্দিকীনের মর্যাদায় উন্নীত করে দিয়েছে। অবশ্যই তাওবা ও ইস্তিগফার অনেক বড় এক নি'আমত। আর নি'আমত তারই নসিব হয়, যে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে।
টিকাঃ
[৬৭] শুআবুল ইমান লিল বায়হাকী