📄 তাওবা ভঙ্গ হলে করণীয় কী?
কোন ব্যক্তি যদি খাঁটি তাওবা করে জীবনের উদ্দেশ্য ঠিক করে নেয় কিন্তু হঠাৎ করে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে তার এখন করণীয় কী? করণীয় হল একদম নিরাশ না হওয়া। বরং বিলম্ব না করে তাওবা ও কাফ্ফারার প্রতি মনোযোগী হওয়া। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বুজুর্গদের নিকট আটটি কাজ এমন রয়েছে, যেগুলো গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায়। সুতরাং আসুন দ্রুত এ আটটি কাজের দিকে মনোযোগী হয়ে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাই। এ আটটি কাজের মধ্যে চারটি কাজের সম্পর্ক হল অন্তরের সাথে। আর চারটি কাজের সম্পর্ক হল শরীরের সাথে। অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত চারটি কাজ হল-
১. তাওবা করা কিংবা তাওবার ইচ্ছা নবায়ন করা।
২. এই আশা করা যে, ভবিষ্যতে এই গুনাহে লিপ্ত হবো না।
৩. এই গুনাহের শাস্তির ভয় করা।
৪. আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা এবং দয়া ও অনুগ্রহের আশা রাখা।
শরীরের সাথে চারটি কাজ হল-
১. দুই রাকাত তাওবার সালাত আদায় করা।
২. অতঃপর ৭০ বার ইস্তিগফার এবং ১০০ বার সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বি-হামদিহী (سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ) পাঠ করা।
৩. সাধ্যানুযায়ী সাদাকা করা।
৪. একদিন সিয়াম পালন করা।
কোন কোন বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, বুজুর্গদের নিকট ভালোভাবে পবিত্রতা লাভের পর মসজিদে গিয়ে দু রাকাত সালাত আদায় করা।
টিকাঃ
[৬৩] কিমিয়ায়ে সা'আদাত (সারমর্ম)
কোন ব্যক্তি যদি খাঁটি তাওবা করে জীবনের উদ্দেশ্য ঠিক করে নেয় কিন্তু হঠাৎ করে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়, তাহলে তার এখন করণীয় কী? করণীয় হল একদম নিরাশ না হওয়া। বরং বিলম্ব না করে তাওবা ও কাফ্ফারার প্রতি মনোযোগী হওয়া। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বুজুর্গদের নিকট আটটি কাজ এমন রয়েছে, যেগুলো গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায়। সুতরাং আসুন দ্রুত এ আটটি কাজের দিকে মনোযোগী হয়ে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাই। এ আটটি কাজের মধ্যে চারটি কাজের সম্পর্ক হল অন্তরের সাথে। আর চারটি কাজের সম্পর্ক হল শরীরের সাথে। অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত চারটি কাজ হল—
১. তাওবা করা কিংবা তাওবার ইচ্ছা নবায়ন করা।
২. এই আশা করা যে, ভবিষ্যতে এই গুনাহে লিপ্ত হবো না।
৩. এই গুনাহের শাস্তির ভয় করা।
৪. আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা এবং দয়া ও অনুগ্রহের আশা রাখা।
শরীরের সাথে চারটি কাজ হল—
১. দুই রাকাত তাওবার সালাত আদায় করা।
২. অতঃপর ৭০ বার ইস্তিগফার এবং ১০০ বার সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বি-হামদিহী (سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ) পাঠ করা।
৩. সাধ্যানুযায়ী সাদাকা করা।
৪. একদিন সিয়াম পালন করা।
কোন কোন বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, বুজুর্গদের নিকট ভালোভাবে পবিত্রতা লাভের পর মসজিদে গিয়ে দু রাকাত সালাত আদায় করা। [৬৩]
টিকাঃ
[৬৩] কিমিয়ায়ে সা'আদাত (সারমর্ম)
📄 দৈনিক যদি সত্তরবারও তাওবা ভেঙ্গে যায়
عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةٍ
“হজরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যে ব্যক্তি গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হয়ে ইস্তিগফার করে, তাহলে (আল্লাহ তা'আলার নিকট গুনাহের উপর) অটল থাকা ব্যক্তি বলে গণ্য হবে না। যদি সে দৈনিক সত্তরবারও উক্ত গুনাহ করে।"
টিকাঃ
[৬৪] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫১৪; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৫৫৯
عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ، وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةٍ
“হজরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—যে ব্যক্তি গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হয়ে ইস্তিগফার করে, তাহলে (আল্লাহ তা'আলার নিকট গুনাহের উপর) অটল থাকা ব্যক্তি বলে গণ্য হবে না। যদি সে দৈনিক সত্তরবারও উক্ত গুনাহ করে।"[৬৪]
টিকাঃ
[৬৪] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫১৪; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৫৫৯
📄 তাওবার উপর আল্লাহ তা‘আলার খুশি
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: اللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ فِي أَرْضِ دَويَّةٍ مَهْلِكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَنَامَ فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ، فَطَلَبَهَا حَتَّى أَدْرَكَهُ الْعَطَشُ، ثُمَّ قَالَ: أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِيَ الَّذِي كُنْتُ فِيهِ، فَأَنَامُ حَتَّى أَمُوتَ، فَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى سَاعِدِهِ لِيَمُوتَ فَاسْتَيْقَظَ وَعِنْدَهُ رَاحِلَتُهُ وَعَلَيْهَا زَادُهُ وَطَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَاللَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هَذَا بِرَاحِلَتِهِ وَزَادِهِ
"হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, বাস্তবতা হল-আল্লাহ তা'আলা তাঁর মুমিন বান্দার তাওবার উপর খুব খুশি হন। ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে ব্যক্তি (মনে করুন) এমন এক শুষ্ক মরুভূমিতে (মুসাফির) হয়েছে, যেখানে (চারিদিকে) শুধু ধ্বংস। তার সাথে তার ঘোড়া রয়েছে, যে ঘোড়ার উপরে তার খাদ্য-পানীয় রয়েছে। সে (ক্লান্তির কারণে) নিদ্রা গিয়েছে। জাগ্রত হয়ে দেখে যে, তার ঘোড়া হারিয়ে গেছে। সে উক্ত ঘোড়া খুঁজতে গিয়ে ঘুরতে ঘুরতে তার পিপাসা লেগে গেছে। তখন সে (নিরাশ হয়ে মনে মনে) বলছে, যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানে চলে যাই। সেখানে গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে ঘুমিয়ে থাকি। (কেননা এখানে জীবিত থাকা অসম্ভব। বহু দূর পর্যন্ত না কোন লোকালয় আছে, না কোন খাওয়া বা পান করার কোন বস্তু আছে) সে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে তার হাতের উপর মাথা রেখে দিল। (ঐ অবস্থায় তার ঘুম এসে গেল) জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল যে, তার উক্ত ঘোড়াটি সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ঘোড়ার পিঠে তার সফরের সামান-পত্র ও খাদ্য-পানীয়। (এখন বলুন তো তখন সে কি পরিমাণ খুশি হবে?) ঠিক তদ্রুপ আল্লাহ তা'আলাও তাঁর কোন মুমিন বান্দা তাওবা করলে এরচেয়েও অধিক খুশি হন, যে পরিমাণ ঐ ব্যক্তি তার ঘোড়া ও সামান-পত্র পেয়ে খুশি হয়।
টিকাঃ
[৬৫] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৪৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৮১৯২
📄 নিজের জীবনের উপর দয় করুন
আমি আমার সকল মুসলিম ভাই ও বোনকে বলছি যে, নিজের জীবনের উপর দয়া করুন। জ্বী হ্যাঁ! আমরা সকলে নিজের উপর দয়া করি এবং নিজেকে আজাব থেকে বাঁচানোর জন্য সকল গুনাহ থেকে তাওবা করে নেই। সর্বপ্রথম কথা এটা বলি যে, নিজেদের সালাতগুলোকে পুরোপুরি ঠিক করে নেই। জামা'আত ও যথাযথ গুরত্বের সাথে, পূর্ণ মহব্বত ও মনোযোগ এবং উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সালাত আদায় করুন। প্রিয় পাঠক! সালাত তো জান্নাতের হুরের চেয়েও অধিক মাজাদার ও মিষ্টি। এটা কীভাবে সম্ভব যে, মুসলিম হয়ে সালাতে অলসতা করে? আল্লাহর ওয়াস্তে এমনটি করবেন না। আল্লাহ তা'আলা নিজে আমাদেরকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত তাঁর মহান দরবারে হাজির হওয়ার জন্য ডাকছেন। হ্যাঁ! খুবই গুরুত্বের সাথেই ডাকছেন। সুতরাং খাঁটি তাওবার দাবী হল আমরা সালাতের সাথে সর্বোচ্চ প্রেম ও ভালোবাসার সম্পর্ক রাখব।