📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ফিরে এসো, কবুল করে নেব

📄 ফিরে এসো, কবুল করে নেব


হজরত ইবরাহিম বিন শাইবান রাহি. বলেন, আমাদের সাথে একজন বিশ বছরের যুবক ছিল। একবার শয়তান তার নিকট এসে বলতে লাগল-হে যুবক! তুমি তাওবা করার ক্ষেত্রে অনেক দ্রুত করে ফেলেছ। আগে কিছু দিন দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণ করে নাও। তাওবা তো তোমার হাতেই রয়েছে। আগে কিছু যৌবন উপভোগ করে নাও। তারপর তাওবা করে নিও। সে তখন শয়তানের কথা শুনে পুনরায় গুনাহে ঢুবে যায়। কিন্তু স্বভাব ও ভাগ্য ভাল ছিল। কিছু দিনের গাফলতের পরে তার হুঁশ ফিরে আসলো। সে নির্জনে গিয়ে বসল এবং নেককাজের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগল। সেই দিনগুলো কত প্রিয় দিন ছিল। আর বলতে লাগল যে, এখন তো জানা নেই যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে কবুল করবেন কিনা? হঠাৎ করে কানে একটি আওয়াজ আসল- হে অমুক! তুমি যখন আমার ইবাদাত করেছ, তখন আমি তোমার মূল্যায়ন করেছি। তারপর তুমি যখন আমার নাফরমানী করেছ, তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি এবং এখন যদি তুমি আবার ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব।

টিকাঃ
[৬১] বায়হাকী

হজরত ইবরাহিম বিন শাইবান রাহি. বলেন, আমাদের সাথে একজন বিশ বছরের যুবক ছিল। একবার শয়তান তার নিকট এসে বলতে লাগল—হে যুবক! তুমি তাওবা করার ক্ষেত্রে অনেক দ্রুত করে ফেলেছ। আগে কিছু দিন দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণ করে নাও। তাওবা তো তোমার হাতেই রয়েছে। আগে কিছু যৌবন উপভোগ করে নাও। তারপর তাওবা করে নিও। সে তখন শয়তানের কথা শুনে পুনরায় গুনাহে ঢুবে যায়। কিন্তু স্বভাব ও ভাগ্য ভাল ছিল। কিছু দিনের গাফলতের পরে তার হুঁশ ফিরে আসলো। সে নির্জনে গিয়ে বসল এবং নেককাজের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগল। সেই দিনগুলো কত প্রিয় দিন ছিল। আর বলতে লাগল যে, এখন তো জানা নেই যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে কবুল করবেন কিনা? হঠাৎ করে কানে একটি আওয়াজ আসল— হে অমুক! তুমি যখন আমার ইবাদাত করেছ, তখন আমি তোমার মূল্যায়ন করেছি। তারপর তুমি যখন আমার নাফরমানী করেছ, তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি এবং এখন যদি তুমি আবার ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব। [৬১]

টিকাঃ
[৬১] বায়হাকী

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 হে আমার মালিক! আমি আসছি

📄 হে আমার মালিক! আমি আসছি


হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামের কোন গুনাহ নেই তবুও তারা কত বেশি তাওবা করতেন। আসুন আমরাও অজু করে দ্রুত গতিতে মসজিদের দিকে অথবা রণাঙ্গনের দিকে রওয়ানা করি আর বলি, হে আমার আল্লাহ! হে আমার মালিক! আমি আসছি। গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য আসছি। নিজের বিপদাপদের কথা ভাবুন যে, আমার সাথে যা কিছু হচ্ছে, তা আমার গুনাহের শাস্তি থেকে অনেক কম। আল্লাহ তা'আলা যদি শাস্তি দিতে চান তাহলে আমি একটি নিঃশ্বাসও নিতে পারব না। আমরা চিন্তা করি আমাদের উপর এই বিপদ, এই পেরেশানী। বস্তুত আমাদের উপর আল্লাহ তা'আলার রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষিত হচ্ছে। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটের বিপদের সময় বলেছিলেন যে, হে আল্লাহ! যা কিছু হয়েছে তা ঠিকই হয়েছে। ভুল আমারই হয়েছে। আপনি তো “সুবহান” তথা পবিত্র।

হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামের কোন গুনাহ নেই তবুও তারা কত বেশি তাওবা করতেন। আসুন আমরাও অজু করে দ্রুত গতিতে মসজিদের দিকে অথবা রণাঙ্গনের দিকে রওয়ানা করি আর বলি, হে আমার আল্লাহ! হে আমার মালিক! আমি আসছি। গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য আসছি। নিজের বিপদাপদের কথা ভাবুন যে, আমার সাথে যা কিছু হচ্ছে, তা আমার গুনাহের শাস্তি থেকে অনেক কম। আল্লাহ তা'আলা যদি শাস্তি দিতে চান তাহলে আমি একটি নিঃশ্বাসও নিতে পারব না। আমরা চিন্তা করি আমাদের উপর এই বিপদ, এই পেরেশানী। বস্তুত আমাদের উপর আল্লাহ তা'আলার রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষিত হচ্ছে। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটের বিপদের সময় বলেছিলেন যে, হে আল্লাহ! যা কিছু হয়েছে তা ঠিকই হয়েছে। ভুল আমারই হয়েছে। আপনি তো “সুবহান” তথা পবিত্র।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সাক্ষাতের বাসনা

📄 সাক্ষাতের বাসনা


হ্যাঁ প্রিয় পাঠক! আল্লাহ তা'আলার তাওবার দরজা চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা। রমজানের শেষ দশকে আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম যে, ভাওয়ালপুরের মসজিদে উসমান ও মসজিদে আলী রাদিআল্লাহু আনহুমার কী অবস্থা? তিনি উত্তরে বললেন যে, এখানে তো আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ছাড়া কারো কোন ফিকিরই নেই। মসজিদে সর্বদা হয়তো কান্নাকাটির নয়তো তিলাওয়াত ও জিকিরের আওয়াজ আসে। এখানে ই'তিকাফকারী ব্যক্তিরা আল্লাহ তা'আলার নিকট কেঁদে কেঁদে শাহাদাত কামনা করছে। গুনাহের ক্ষমা চাচ্ছে এবং আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাতের বাসনায় শুধুমাত্র তাঁর নামই জপছে। আল্লাহ! আল্লাহ! আল্লাহ! আহ! হে আমার মালিক! আপনার শান ও মর্যাদাও বড় আশ্চর্য। আপনি আপনার প্রিয়দেরকে অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে আপনার নাম নেওয়ার তাওফিক দান করেন। আর যার প্রতি আপনি অসন্তুষ্ট হন তাকে আপনার নাম ও কাম উভয়টি থেকেই বঞ্চিত করে দেন। পবিত্র রমজানে তো অর্জনকারীরা অনেক কিছুই অর্জন করেছে। রণাঙ্গনের লোকেরা রণাঙ্গনে দৃঢ়পদ রয়েছে। এদিকে দাওয়াতদাতাগণ পাগলের ন্যায় প্রত্যেক মসজিদ এবং অলি-গলিতে “হাইয়্যা আলাল-জিহাদ” এর ঘোষণা করে যাচ্ছে।

হ্যাঁ প্রিয় পাঠক! আল্লাহ তা'আলার তাওবার দরজা চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা। রমজানের শেষ দশকে আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম যে, ভাওয়ালপুরের মসজিদে উসমান ও মসজিদে আলী রাদিআল্লাহু আনহুমার কী অবস্থা? তিনি উত্তরে বললেন যে, এখানে তো আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি ছাড়া কারো কোন ফিকিরই নেই। মসজিদে সর্বদা হয়তো কান্নাকাটির নয়তো তিলাওয়াত ও জিকিরের আওয়াজ আসে। এখানে ই'তিকাফকারী ব্যক্তিরা আল্লাহ তা'আলার নিকট কেঁদে কেঁদে শাহাদাত কামনা করছে। গুনাহের ক্ষমা চাচ্ছে এবং আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাতের বাসনায় শুধুমাত্র তাঁর নামই জপছে। আল্লাহ! আল্লাহ! আল্লাহ! আহ! হে আমার মালিক! আপনার শান ও মর্যাদাও বড় আশ্চর্য। আপনি আপনার প্রিয়দেরকে অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে আপনার নাম নেওয়ার তাওফিক দান করেন। আর যার প্রতি আপনি অসন্তুষ্ট হন তাকে আপনার নাম ও কাম উভয়টি থেকেই বঞ্চিত করে দেন। পবিত্র রমজানে তো অর্জনকারীরা অনেক কিছুই অর্জন করেছে। রণাঙ্গনের লোকেরা রণাঙ্গনে দৃঢ়পদ রয়েছে। এদিকে দাওয়াতদাতাগণ পাগলের ন্যায় প্রত্যেক মসজিদ এবং অলি-গলিতে “হাইয়্যা আলাল-জিহাদ” এর ঘোষণা করে যাচ্ছে।

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা ভঙ্গ হতে দেব না

📄 তাওবা ভঙ্গ হতে দেব না


পবিত্র রমজানের পরিবেশ যখন শেষ হয়ে যায়, শয়তান তখন আহত সাপের ন্যায় ফনা তুলে ময়দানে অবতীর্ণ হয়। সে তাওবাকারীদের তাওবা ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এজন্যই বলেছি যে, আমরা তাওবা ভঙ্গ হতে দেব না। আর যদি ভেঙ্গেও যায়, তাহলে পুনরায় জোড়া লাগাতে বিলম্ব করব না। পবিত্র রমজানে তো অনেক তিলাওয়াত হয়েছে। এখন এখনও তিলাওয়াত বন্ধ করব না। নফলেরও যথাসম্ভব গুরত্বারোপ করব এবং সকল দীনী কাজসমূহে কোন বিরতি ও ছুটি ব্যতীত নিজেকে উক্ত কাজের মুখাপেক্ষী মনে করে পুরোপুরিভাবে উক্ত কাজে মগ্ন থাকব। পবিত্র রমজানের পরে পনেরো দিন পর্যন্ত অধিক মেহনতের প্রয়োজন হয়। কেননা নফস ও শয়তান অনেক বেশি জোর দিয়ে থাকে। সুপ্রিয় পাঠক! আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَসْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
"বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
হজরত শাহ আবদুল কাদের রাহি. বলেন-এ আয়াত ঐ সকল কাফিরদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা জিহাদে মুসলিমদের বিজয়ের পরে লজ্জিত হয়েছে যে, আমরা তো মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এবং আমরা কুফরী করেছি। সুতরাং আমাদের তাওবা কীভাবে কবুল হবে? তখন তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে, মৃত্যু আসা পর্যন্ত তাওবার দরজা খোলা আছে। আল্লাহু আকবার! এমন বিশাল ও ভয়াবহ গুনাহের উপর যদি এমন উদারতাপূর্ণ ঘোষণা হয়, তাহলে যারা মুসলমান তাদের ভয় পাওয়ার এবং নিরাশ হওয়ার কি প্রয়োজন? সুতরাং অন্তরে যখন আল্লাহ তা'আলার মহব্বত ও ইখলাস সৃষ্টি করবে, তখন সকল স্থানই সহজ। আর মনে রাখবেন, আল্লাহ তা'আলার একনিষ্ঠ বান্দারা তাওবা করতে বিলম্ব ও অলসতা করে না। সুতরাং আমরাও বিলম্ব করব না।

টিকাঃ
[৬২] যুমার- ৩৯: ৫৩

পবিত্র রমজানের পরিবেশ যখন শেষ হয়ে যায়, শয়তান তখন আহত সাপের ন্যায় ফনা তুলে ময়দানে অবতীর্ণ হয়। সে তাওবাকারীদের তাওবা ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এজন্যই বলেছি যে, আমরা তাওবা ভঙ্গ হতে দেব না। আর যদি ভেঙ্গেও যায়, তাহলে পুনরায় জোড়া লাগাতে বিলম্ব করব না। পবিত্র রমজানে তো অনেক তিলাওয়াত হয়েছে।

এখনও তিলাওয়াত বন্ধ করব না। নফলেরও যথাসম্ভব গুরত্বারোপ করব এবং সকল দীনী কাজসমূহে কোন বিরতি ও ছুটি ব্যতীত নিজেকে উক্ত কাজের মুখাপেক্ষী মনে করে পুরোপুরিভাবে উক্ত কাজে মগ্ন থাকব। পবিত্র রমজানের পরে পনেরো দিন পর্যন্ত অধিক মেহনতের প্রয়োজন হয়। কেননা নফস ও শয়তান অনেক বেশি জোর দিয়ে থাকে। সুপ্রিয় পাঠক! আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُৱَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

"বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"[৬২]

হজরত লাহোরী রাহি. বলেন—যে সকল মুসলিমের আল্লাহ তা'আলার সাথে ইখলাস তথা একনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তাদের জন্য নিজের গুনাহের কারণে মাগফিরাত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়।

হজরত শাহ আবদুল কাদের রাহি. বলেন—এ আয়াত ঐ সকল কাফিরদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা লজ্জিত হয়েছে যে, আমরা তো মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এবং আমরা কুফরী করেছি। সুতরাং আমাদের তাওবা কীভাবে কবুল হবে? তখন তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে, মৃত্যু আসা পর্যন্ত তাওবার দরজা খোলা আছে। আল্লাহু আকবার! এমন বিশাল ও ভয়াবহ গুনাহের উপর যদি এমন উদারতাপূর্ণ ঘোষণা হয়, তাহলে যারা মুসলমান তাদের ভয় পাওয়ার এবং নিরাশ হওয়ার কি প্রয়োজন? সুতরাং অন্তরে যখন আল্লাহ তা'আলার মহব্বত ও ইখলাস সৃষ্টি করবে, তখন সকল স্থানই সহজ। আর মনে রাখবেন, আল্লাহ তা'আলার একনিষ্ঠ বান্দারা তাওবা করতে বিলম্ব ও অলসতা করে না। সুতরাং আমরাও বিলম্ব করব না।

টিকাঃ
[৬২] যুমার- ৩৯: ৫৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px