📄 বিলম্ব করবেন না
তাওবা থেকে বিরতি দেওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। হজরত হাজবেরী রাহি, লিখেন- জনৈক বুজুর্গ বর্ণনা করেন যে, আমি সত্তরবার তাওবা করেছি কিন্তু প্রত্যেকবার তাওবার পরেই আমার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে। অতঃপর একাত্তরবার তাওবা করার পর আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার উপর দৃঢ়তা দান করেছেন।
হজরত হাজবেরী রাহি, এ কথাও বুঝিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি যদি একবার গুনাহ ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তাওবা করে, তারপর সেই তাওবার উপর অটল থাকতে পারেনি, তাহলেও সে তার পেছনের তাওবার প্রতিদান ও সাওয়াব পাবে।
প্রিয় পাঠক! তাওবা থেকে বিরত হওয়া উচিত নয়। তবে গুনাহ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা চাই। শয়তান আমাদেরকে গুনাহ করানো থেকে বিরত হয় না, তাহলে আমরা খাঁটি তাওবা করা থেকে বিরত হব কেন? কোন কোন লোক গুনাহ করার পর এই বলে নেক আমল ছেড়ে দেয় যে, আমি এখন এর উপযুক্ত নই। অথবা এই বলে নেককার বুজুর্গদের সংশ্রব ছেড়ে দেয় যে, আমি তাকে মুখ দেখাব কীভাবে। হে আল্লাহর বান্দা! গুনাহের পরে তো নেক আমল বৃদ্ধি করা উচিত এবং নেককার লোকদের সংশ্রবে আরও অধিক পরিমাণে যাওয়া উচিত। যেন গুনাহের মন্দ প্রভাব ধ্বংস হয়ে যায়। এক ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করেছে কিন্তু কিছুদিন পরে তা ভেঙ্গে ফেলেছে এবং গুনাহ করে ফেলেছে। আর তখন তার অন্তরে অত্যন্ত অনুশোচনা তৈরি হয়েছে। সে মনে মনে ভাবছে যে, এখন আমি কীভাবে আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাওবার জন্য হাজির হব? কোন মুখে আমি তাওবা করব? আমার তো গুনাহই ছুটে না। তখন গায়েব থেকে একটি আওয়াজ আসল-
“হে আমার বান্দা! তুমি তো আমার আনুগত্য করেছ। (অর্থাৎ তাওবা করেছ।) আমি তোমার তাওবা কবুল করেছি। অতঃপর তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছ। (অর্থাৎ গুনাহ করে ফেলেছ।) তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি। অর্থাৎ সাথে সাথে আজাবে নিক্ষেপ করে দেইনি। এখনও যদি তুমি আমার নিকট ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব।"
টিকাঃ
[৫৮] কাশফুল মাহজুব
[৫৯] প্রাগুক্ত
তাওবা থেকে বিরতি দেওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। হজরত হাজবেরী রাহি, লিখেন— জনৈক বুজুর্গ বর্ণনা করেন যে, আমি সত্তরবার তাওবা করেছি কিন্তু প্রত্যেকবার তাওবার পরেই আমার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে। অতঃপর একাত্তরবার তাওবা করার পর আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার উপর দৃঢ়তা দান করেছেন। [৫৮]
হজরত হাজবেরী রাহি, এ কথাও বুঝিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি যদি একবার গুনাহ ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তাওবা করে, তারপর সেই তাওবার উপর অটল থাকতে পারেনি, তাহলেও সে তার পেছনের তাওবার প্রতিদান ও সাওয়াবপাবে। [৫৯]
প্রিয় পাঠক! তাওবা থেকে বিরত হওয়া উচিত নয়। তবে গুনাহ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা চাই। শয়তান আমাদেরকে গুনাহ করানো থেকে বিরত হয় না, তাহলে আমরা খাঁটি তাওবা করা থেকে বিরত হব কেন? কোন কোন লোক গুনাহ করার পর এই বলে নেক আমল ছেড়ে দেয় যে, আমি এখন এর উপযুক্ত নই। অথবা এই বলে নেককার বুজুর্গদের সংশ্রব ছেড়ে দেয় যে, আমি তাকে মুখ দেখাব কীভাবে। হে আল্লাহর বান্দা! গুনাহের পরে তো নেক আমল বৃদ্ধি করা উচিত এবং নেককার লোকদের সংশ্রবে আরও অধিক পরিমাণে যাওয়া উচিত। যেন গুনাহের মন্দ প্রভাব ধ্বংস হয়ে যায়। এক ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করেছে কিন্তু কিছুদিন পরে তা ভেঙ্গে ফেলেছে এবং গুনাহ করে ফেলেছে। আর তখন তার অন্তরে অত্যন্ত অনুশোচনা তৈরি হয়েছে। সে মনে মনে ভাবছে যে, এখন আমি কীভাবে আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাওবার জন্য হাজির হব? কোন মুখে আমি তাওবা করব? আমার তো গুনাহই ছুটে না। তখন গায়েব থেকে একটি আওয়াজ আসল—
“হে আমার বান্দা! তুমি তো আমার আনুগত্য করেছ। (অর্থাৎ তাওবা করেছ।) আমি তোমার তাওবা কবুল করেছি। অতঃপর তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছ। (অর্থাৎ গুনাহ করে ফেলেছ।) তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি। অর্থাৎ সাথে সাথে আজাবে নিক্ষেপ করে দেইনি। এখনও যদি তুমি আমার নিকট ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব।"
টিকাঃ
[৫৮] কাশফুল মাহজুব
[৫৯] প্রাগুক্ত
📄 যৌবনকালের তাওবা
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الشَّابَ التَّابِب
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারী যুবককে ভালোবাসেন।"
টিকাঃ
[৬০] কানযুল উম্মাল: হাদিস নং ১০১৮১; জামেউস সগীর: হাদিস নং ১৮৬৬
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الشَّابَ التَّائِبَ
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারী যুবককে ভালোবাসেন।"[৬০]
টিকাঃ
[৬০] কানযুল উম্মাল: হাদিস নং ১০১৮১; জামেউস সগীর: হাদিস নং ১৮৬৬
📄 ফিরে এসো, কবুল করে নেব
হজরত ইবরাহিম বিন শাইবান রাহি. বলেন, আমাদের সাথে একজন বিশ বছরের যুবক ছিল। একবার শয়তান তার নিকট এসে বলতে লাগল-হে যুবক! তুমি তাওবা করার ক্ষেত্রে অনেক দ্রুত করে ফেলেছ। আগে কিছু দিন দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণ করে নাও। তাওবা তো তোমার হাতেই রয়েছে। আগে কিছু যৌবন উপভোগ করে নাও। তারপর তাওবা করে নিও। সে তখন শয়তানের কথা শুনে পুনরায় গুনাহে ঢুবে যায়। কিন্তু স্বভাব ও ভাগ্য ভাল ছিল। কিছু দিনের গাফলতের পরে তার হুঁশ ফিরে আসলো। সে নির্জনে গিয়ে বসল এবং নেককাজের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগল। সেই দিনগুলো কত প্রিয় দিন ছিল। আর বলতে লাগল যে, এখন তো জানা নেই যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে কবুল করবেন কিনা? হঠাৎ করে কানে একটি আওয়াজ আসল- হে অমুক! তুমি যখন আমার ইবাদাত করেছ, তখন আমি তোমার মূল্যায়ন করেছি। তারপর তুমি যখন আমার নাফরমানী করেছ, তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি এবং এখন যদি তুমি আবার ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব।
টিকাঃ
[৬১] বায়হাকী
হজরত ইবরাহিম বিন শাইবান রাহি. বলেন, আমাদের সাথে একজন বিশ বছরের যুবক ছিল। একবার শয়তান তার নিকট এসে বলতে লাগল—হে যুবক! তুমি তাওবা করার ক্ষেত্রে অনেক দ্রুত করে ফেলেছ। আগে কিছু দিন দুনিয়ার স্বাদ গ্রহণ করে নাও। তাওবা তো তোমার হাতেই রয়েছে। আগে কিছু যৌবন উপভোগ করে নাও। তারপর তাওবা করে নিও। সে তখন শয়তানের কথা শুনে পুনরায় গুনাহে ঢুবে যায়। কিন্তু স্বভাব ও ভাগ্য ভাল ছিল। কিছু দিনের গাফলতের পরে তার হুঁশ ফিরে আসলো। সে নির্জনে গিয়ে বসল এবং নেককাজের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগল। সেই দিনগুলো কত প্রিয় দিন ছিল। আর বলতে লাগল যে, এখন তো জানা নেই যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে কবুল করবেন কিনা? হঠাৎ করে কানে একটি আওয়াজ আসল— হে অমুক! তুমি যখন আমার ইবাদাত করেছ, তখন আমি তোমার মূল্যায়ন করেছি। তারপর তুমি যখন আমার নাফরমানী করেছ, তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি এবং এখন যদি তুমি আবার ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব। [৬১]
টিকাঃ
[৬১] বায়হাকী
📄 হে আমার মালিক! আমি আসছি
হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামের কোন গুনাহ নেই তবুও তারা কত বেশি তাওবা করতেন। আসুন আমরাও অজু করে দ্রুত গতিতে মসজিদের দিকে অথবা রণাঙ্গনের দিকে রওয়ানা করি আর বলি, হে আমার আল্লাহ! হে আমার মালিক! আমি আসছি। গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য আসছি। নিজের বিপদাপদের কথা ভাবুন যে, আমার সাথে যা কিছু হচ্ছে, তা আমার গুনাহের শাস্তি থেকে অনেক কম। আল্লাহ তা'আলা যদি শাস্তি দিতে চান তাহলে আমি একটি নিঃশ্বাসও নিতে পারব না। আমরা চিন্তা করি আমাদের উপর এই বিপদ, এই পেরেশানী। বস্তুত আমাদের উপর আল্লাহ তা'আলার রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষিত হচ্ছে। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটের বিপদের সময় বলেছিলেন যে, হে আল্লাহ! যা কিছু হয়েছে তা ঠিকই হয়েছে। ভুল আমারই হয়েছে। আপনি তো “সুবহান” তথা পবিত্র।
হজরত আম্বিয়া আলাইহিস সালামের কোন গুনাহ নেই তবুও তারা কত বেশি তাওবা করতেন। আসুন আমরাও অজু করে দ্রুত গতিতে মসজিদের দিকে অথবা রণাঙ্গনের দিকে রওয়ানা করি আর বলি, হে আমার আল্লাহ! হে আমার মালিক! আমি আসছি। গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য আসছি। নিজের বিপদাপদের কথা ভাবুন যে, আমার সাথে যা কিছু হচ্ছে, তা আমার গুনাহের শাস্তি থেকে অনেক কম। আল্লাহ তা'আলা যদি শাস্তি দিতে চান তাহলে আমি একটি নিঃশ্বাসও নিতে পারব না। আমরা চিন্তা করি আমাদের উপর এই বিপদ, এই পেরেশানী। বস্তুত আমাদের উপর আল্লাহ তা'আলার রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষিত হচ্ছে। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটের বিপদের সময় বলেছিলেন যে, হে আল্লাহ! যা কিছু হয়েছে তা ঠিকই হয়েছে। ভুল আমারই হয়েছে। আপনি তো “সুবহান” তথা পবিত্র।