📄 দ্রুত ইস্তিগফার করলে ফেরেশতারা গুনাহ লিখে না
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَّسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ صَاحِبِ الشِّمَالِ لَيَرْفَعَ الْقَلَمَ سِتَّ سَاعَاتٍ عَنِ الْعَبْدِ الْمُসْلِمِ الْمُخْطِئ أَوِ الْمُسِيئِ فَإِنْ نَدِمَ وَاسْتَغْفَرَ مِنْهَا الْقَاهَا وَإِلَّا كُتِبَتْ وَاحِدَةٌ
"হজরত আবু উমামা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- বাম দিকের ফেরেশতা ছয় ঘণ্টা গুনাহগার মুসলিম বান্দার উপর থেকে কলম উঠিয়ে রাখে এবং অপেক্ষা করে যে, হয়তো বান্দা তাওবা করে নেবে। অতঃপর যদি সে অনুতপ্ত হয় এবং উক্ত গুনাহ থেকে ইস্তিগফার করে নেয়, তাহলে সে ফেরেশতা তা না লিখে ছেড়ে দেয়। আর যদি সে তাওবা না করে, তাহলে তার একটি গুনাহ লিখা হয়। "
টিকাঃ
[৫৩] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৫৭৬
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَّسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّ صَاحِبِ الشِّمَالِ لَيَرْفَعَ الْقَلَمَ سِتَّ سَاعَاتٍ عَنِ الْعَبْدِ الْمُসْلِمِ الْمُخْطِئ أَوِ الْمُسِيئِ فَإِنْ نَدِمَ وَاسْتَغْفَرَ مِنْهَا الْقَاهَا وَإِلَّا كُتِبَتْ وَاحِدَةٌ
"হজরত আবু উমামা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— বাম দিকের ফেরেশতা ছয় ঘণ্টা গুনাহগার মুসলিম বান্দার উপর থেকে কলম উঠিয়ে রাখে এবং অপেক্ষা করে যে, হয়তো বান্দা তাওবা করে নেবে। অতঃপর যদি সে অনুতপ্ত হয় এবং উক্ত গুনাহ থেকে ইস্তিগফার করে নেয়, তাহলে সে ফেরেশতা তা না লিখে ছেড়ে দেয়। আর যদি সে তাওবা না করে, তাহলে তার একটি গুনাহ লিখা হয়। "[৫৩]
টিকাঃ
[৫৩] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৫৭৬
📄 বার বার তাওবা ভঙ্গ হলে বান্দার করণীয় কী?
যখন বার বার গুনাহ হয়, বার বার তাওবা ভঙ্গ হয়, তখনও বান্দা আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে দূরে না যাওয়া। বরং কেঁদে কেঁদে তাঁর সামনে লুটিয়ে পড়া। অজু করে মসজিদের কোনে গিয়ে বসুন। আর নেককার লোকদের সংস্পর্শ অবলম্বন করুন। আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া ব্যর্থতা। আর আল্লাহ তা'আলার দিকে ধাবিত হওয়া সৌভাগ্য। যেমন পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে— فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ । "অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও।"
অর্থাৎ গুনাহ হওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহ তা'আলার দিকে ধাবিত হও। আর বল যে, হে মহান মালিক! পুনরায় জুলুম হয়ে গেছে। আমি আমার জীবনের উপর জুলুম করে ফেলেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। শয়তান বাধা দেবে কিন্তু অভিশপ্তের কথায় পড়বেন না।
টিকাঃ
[৫৪] যারিয়াত- ৫১:৫০
যখন বার বার গুনাহ হয়, বার বার তাওবা ভঙ্গ হয়, তখনও বান্দা আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে দূরে না যাওয়া। বরং কেঁদে কেঁদে তাঁর সামনে লুটিয়ে পড়া। অজু করে মসজিদের কোনে গিয়ে বসুন। আর নেককার লোকদের সংস্পর্শ অবলম্বন করুন। আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া ব্যর্থতা। আর আল্লাহ তা'আলার দিকে ধাবিত হওয়া সৌভাগ্য। যেমন পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে— فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ । "অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও।"[৫৪]
অর্থাৎ গুনাহ হওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহ তা'আলার দিকে ধাবিত হও। আর বল যে, হে মহান মালিক! পুনরায় জুলুম হয়ে গেছে। আমি আমার জীবনের উপর জুলুম করে ফেলেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। শয়তান বাধা দেবে কিন্তু অভিশপ্তের কথায় পড়বেন না।
টিকাঃ
[৫৪] যারিয়াত- ৫১:৫০
📄 ক্ষুদ্র গুনাহসমূহ থেকেও তাওবা করুন
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِيَّاكُمْ وَ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوْبِ فَإِنَّهُنَّ يَجْتَمِعْنَ عَلَى الرَّجُلِ حَتَّى يُهْلِكْنَهُ
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-ঐ গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাক, যাকে ছোট মনে করা হয়। কেননা এমন গুনাহ জমা হতেই থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।"
টিকাঃ
[৫৫] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৪৫৯
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِيَّاكُمْ وَ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوْبِ فَإِنَّهُنَّ يَجْتَمِعْنَ عَلَى الرَّجُلِ حَتَّى يُهْلِكْنَهُ
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—ঐ গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাক, যাকে ছোট মনে করা হয়। কেননা এমন গুনাহ জমা হতেই থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।"[৫৫]
টিকাঃ
[৫৫] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৪৫৯
📄 বিলম্ব করবেন না
তাওবা থেকে বিরতি দেওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। হজরত হাজবেরী রাহি, লিখেন- জনৈক বুজুর্গ বর্ণনা করেন যে, আমি সত্তরবার তাওবা করেছি কিন্তু প্রত্যেকবার তাওবার পরেই আমার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে। অতঃপর একাত্তরবার তাওবা করার পর আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার উপর দৃঢ়তা দান করেছেন।
হজরত হাজবেরী রাহি, এ কথাও বুঝিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি যদি একবার গুনাহ ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তাওবা করে, তারপর সেই তাওবার উপর অটল থাকতে পারেনি, তাহলেও সে তার পেছনের তাওবার প্রতিদান ও সাওয়াব পাবে।
প্রিয় পাঠক! তাওবা থেকে বিরত হওয়া উচিত নয়। তবে গুনাহ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা চাই। শয়তান আমাদেরকে গুনাহ করানো থেকে বিরত হয় না, তাহলে আমরা খাঁটি তাওবা করা থেকে বিরত হব কেন? কোন কোন লোক গুনাহ করার পর এই বলে নেক আমল ছেড়ে দেয় যে, আমি এখন এর উপযুক্ত নই। অথবা এই বলে নেককার বুজুর্গদের সংশ্রব ছেড়ে দেয় যে, আমি তাকে মুখ দেখাব কীভাবে। হে আল্লাহর বান্দা! গুনাহের পরে তো নেক আমল বৃদ্ধি করা উচিত এবং নেককার লোকদের সংশ্রবে আরও অধিক পরিমাণে যাওয়া উচিত। যেন গুনাহের মন্দ প্রভাব ধ্বংস হয়ে যায়। এক ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করেছে কিন্তু কিছুদিন পরে তা ভেঙ্গে ফেলেছে এবং গুনাহ করে ফেলেছে। আর তখন তার অন্তরে অত্যন্ত অনুশোচনা তৈরি হয়েছে। সে মনে মনে ভাবছে যে, এখন আমি কীভাবে আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাওবার জন্য হাজির হব? কোন মুখে আমি তাওবা করব? আমার তো গুনাহই ছুটে না। তখন গায়েব থেকে একটি আওয়াজ আসল-
“হে আমার বান্দা! তুমি তো আমার আনুগত্য করেছ। (অর্থাৎ তাওবা করেছ।) আমি তোমার তাওবা কবুল করেছি। অতঃপর তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছ। (অর্থাৎ গুনাহ করে ফেলেছ।) তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি। অর্থাৎ সাথে সাথে আজাবে নিক্ষেপ করে দেইনি। এখনও যদি তুমি আমার নিকট ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব।"
টিকাঃ
[৫৮] কাশফুল মাহজুব
[৫৯] প্রাগুক্ত
তাওবা থেকে বিরতি দেওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। হজরত হাজবেরী রাহি, লিখেন— জনৈক বুজুর্গ বর্ণনা করেন যে, আমি সত্তরবার তাওবা করেছি কিন্তু প্রত্যেকবার তাওবার পরেই আমার দ্বারা গুনাহ হয়ে গেছে। অতঃপর একাত্তরবার তাওবা করার পর আল্লাহ তা'আলা আমাকে তার উপর দৃঢ়তা দান করেছেন। [৫৮]
হজরত হাজবেরী রাহি, এ কথাও বুঝিয়েছেন যে, কোন ব্যক্তি যদি একবার গুনাহ ত্যাগ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তাওবা করে, তারপর সেই তাওবার উপর অটল থাকতে পারেনি, তাহলেও সে তার পেছনের তাওবার প্রতিদান ও সাওয়াবপাবে। [৫৯]
প্রিয় পাঠক! তাওবা থেকে বিরত হওয়া উচিত নয়। তবে গুনাহ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা চাই। শয়তান আমাদেরকে গুনাহ করানো থেকে বিরত হয় না, তাহলে আমরা খাঁটি তাওবা করা থেকে বিরত হব কেন? কোন কোন লোক গুনাহ করার পর এই বলে নেক আমল ছেড়ে দেয় যে, আমি এখন এর উপযুক্ত নই। অথবা এই বলে নেককার বুজুর্গদের সংশ্রব ছেড়ে দেয় যে, আমি তাকে মুখ দেখাব কীভাবে। হে আল্লাহর বান্দা! গুনাহের পরে তো নেক আমল বৃদ্ধি করা উচিত এবং নেককার লোকদের সংশ্রবে আরও অধিক পরিমাণে যাওয়া উচিত। যেন গুনাহের মন্দ প্রভাব ধ্বংস হয়ে যায়। এক ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করেছে কিন্তু কিছুদিন পরে তা ভেঙ্গে ফেলেছে এবং গুনাহ করে ফেলেছে। আর তখন তার অন্তরে অত্যন্ত অনুশোচনা তৈরি হয়েছে। সে মনে মনে ভাবছে যে, এখন আমি কীভাবে আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাওবার জন্য হাজির হব? কোন মুখে আমি তাওবা করব? আমার তো গুনাহই ছুটে না। তখন গায়েব থেকে একটি আওয়াজ আসল—
“হে আমার বান্দা! তুমি তো আমার আনুগত্য করেছ। (অর্থাৎ তাওবা করেছ।) আমি তোমার তাওবা কবুল করেছি। অতঃপর তুমি আমাকে ছেড়ে দিয়েছ। (অর্থাৎ গুনাহ করে ফেলেছ।) তখন আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েছি। অর্থাৎ সাথে সাথে আজাবে নিক্ষেপ করে দেইনি। এখনও যদি তুমি আমার নিকট ফিরে আসো, তাহলে আমি তোমাকে কবুল করে নেব।"
টিকাঃ
[৫৮] কাশফুল মাহজুব
[৫৯] প্রাগুক্ত