📄 তাওবা হল একটি নূর
তাওবার শুরুটা হল অন্তরে একটি মারেফাতের নুর সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ একটি আলো নসিব হয় এবং উক্ত নুরের আলোতে তাকে দেখানো হয় যে, গুনাহ হল একটি জীবন বিধ্বংসী বিষ। আর এই বিষ সে অনেক বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলেছে। তাই দুনিয়াতে যেমন বিষ পানকারী ব্যক্তি কিংবা কোন বিষাক্ত সাপে দংশনকারী ব্যক্তি পেরেশান ও আতঙ্কিত হয়ে বাঁচার চেষ্টা করে থাকে এবং তার প্রচণ্ড ইচ্ছা হয় যেন কোন না কোনভাবে এই বিষের ক্রিয়া ধ্বংস হয়ে যায় এবং সে ধ্বংস থেকে বেঁচে যায়। ঠিক এমনিভাবে তাওবার অনুগামী ব্যক্তিও যখন এটা অনুভব করে যে, আমার সকল প্রবৃত্তি পূজা মূলত ঐ মধুর ন্যায় ছিল, যার মধ্যে বিষ মেশানো ছিল। খাওয়ার সময় তো খুব সুস্বাদু এবং অত্যন্ত মিষ্টি মনে হয়েছে কিন্তু শেষ পরিণাম সাপের দংশনের ন্যায় বিষে ভরপুর ছিল। এখন যদি সেই বিষকে সে নিজের সাথে নিয়ে মারা যায়, তাহলে ধ্বংস ও আজাবের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে। তাই ঐ সময় গুনাহের পেরেশানি ও অনুতপ্ততা তাকে ঘিরে ধরে এবং তার ভেতরে অস্থিরতার এক আগুন লেগে যায় এবং নিজের কৃত গুনাহের ক্ষমা ও ক্ষতি পূরণের ইচ্ছা অন্তরে জাগ্রত হয়ে যায় এবং বার বার তার কন্ঠে এ বাক্যই উচ্চারিত হতে থাকে যে, হে আল্লাহ! আমি আর কখনো গুনাহের কাছেও যাব না। তখন তার সকল চলাফেরায় একটি বিপ্লব সাধিত হয়ে যায়। সে জুলুম ও বাড়াবাড়ি ছেড়ে পবিত্র ও বিশ্বস্ততার পথে চলে আসে। পূর্বে সে গর্ব-অহংকার, গাফলত ও অলসতার মূর্তপ্রতীক ছিল। আর এখন অনুতপ্তের অশ্রু তাকে বিষণ্ণ ও চিন্তার মূর্তি বানিয়ে দেয়। পূর্বে গাফেল লোকদের সংশ্রব তার পছন্দনীয় ছিল। আর এখন আল্লাহওয়ালাদের সংশ্রব তার অন্তরের পছন্দনীয় হয়ে যায় এবং খারাপ সংশ্রবের প্রতি তার রাগ ও ঘৃণা লাগে। সুতরাং এই পেরেশানি, এই অনুতপ্ততা ও এই অস্থিরতাই প্রকৃত তাওবা। আর এর মূল হল ঐ নুর যাকে নুরে ইমান অথবা নুরে মারেফাত নাম দেওয়া হয়। [৪৬]
টিকাঃ
[৪৬] কিমিয়ায়ে সা'আদাত
📄 রাত-দিন তাওবা ও অনুতপ্ততা
তাল্লাক বিন হাবীব রাহি. বলেন—
আল্লাহ তা'আলার হক আদায় করা মানুষের জন্য কীভাবে সম্ভব! সে তো অসহায়। তবে হ্যাঁ! হয়তো এটা কাজে আসতে পারে যে, সকালে উঠবে তো তাওবার সাথে উঠবে এবং রাতে ঘুমাবে তো তাওবার সাথে ঘুমাবে। হাবীব বিন সাবিত বলেন যে, বান্দার সকল গুনাহ একটি একটি করে তাকে দেখানো হবে। একেকটি গুনাহ দেখে সে নিজের অজান্তেই চিৎকার করে উঠবে যে, আহ! হে নির্লজ্জ! আমি তোকেই সর্বদা ভয় করে আসছি। এই ভয়ের প্রকাশই আল্লাহ তা'আলার পছন্দ হয়ে যাবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
ঐ গুনাহ মানুষের জন্য জান্নাতে যাওয়ার উসিলা হয়ে যাবে, যে গুনাহের উপর মানুষ মৃত্যু পর্যন্ত অনুতপ্ত থাকে এবং আফসোস করতে থাকে।
📄 আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রিয় আওয়াজ
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : مَا مِنْ صَوْتٍ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ صَوْتٍ عَبْدٍ لُهْفَانٍ عَبْدٌ أَصَابَ ذَنْبًا فَكُلَّمَا ذَكَرَ ذَنْبَهُ امْتَلَأ قَلْبُهُ فَرْقًا مِنَ اللَّهِ فَقَالَ: يَارَبَّاهُ
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- (গুনাহের উপর অনুতপ্ত হওয়ার কারণে) আল্লাহ তা'আলার নিকট পেরেশান ব্যক্তির আওয়াজ থেকে অধিক প্রিয় কোন আওয়াজ নেই। যে বান্দা, যখনই সে নিজের গুনাহকে স্বরণ করে, তখনই তার অন্তর আল্লাহ তা'আলার ভয়ে কম্পিত হয়ে উঠে এবং সে বলে হায় আমার রব।”
টিকাঃ
[৪৭] হিলইয়াতুল আউলিয়া
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : مَا مِنْ صَوْتٍ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ صَوْতٍ عَبْدٍ لُهْفَانٍ عَبْدٌ أَصَابَ ذَنْبًا فَكُلَّمَا ذَكَرَ ذَنْبَهُ امْتَلَأ قَلْبُهُ فَرْقًا مِنَ اللَّهِ فَقَالَ: يَارَبَّاهُ
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— (গুনাহের উপর অনুতপ্ত হওয়ার কারণে) আল্লাহ তা'আলার নিকট পেরেশান ব্যক্তির আওয়াজ থেকে অধিক প্রিয় কোন আওয়াজ নেই। যে বান্দা, যখনই সে নিজের গুনাহকে স্মরণ করে, তখনই তার অন্তর আল্লাহ তা'আলার ভয়ে কম্পিত হয়ে উঠে এবং সে বলে হায় আমার রব।”[৪৭]
টিকাঃ
[৪৭] হিলইয়াতুল আউলিয়া
📄 তাওবার আরও কিছু উপকারিতা
তাওবা মূলত আত্মিক পবিত্রতার নাম। এটা মানুষের ভেতরের ময়লা-আবর্জনা ও অপবিত্রতাকে দূর করে দেয়। তাওবার দরজা চব্বিশ ঘণ্টা খোলা। যতক্ষণ মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু না হবে ততক্ষণ মানুষের তাওবা কবুল হয়ে থাকে। তাওবার অনেক উপকারিতা রয়েছে। যথা-
১. তাওবাকারীর আল্লাহ তা'আলার মহব্বত লাভ হয়।
২. তাওবা করলে গুনাহ মিটে যায়। গুনাহের প্রভাব ধ্বংস হয়ে যায় এবং অধিকাংশ সময় উক্ত গুনাহগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দেওয়া হয়।
৩. তাওবার দ্বারা মানুষের সমূহ কল্যাণ ও সফলতা লাভ হয়।
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। "
টিকাঃ
[৪৮] নূর- ২৪: ৩১
তাওবা মূলত আত্মিক পবিত্রতার নাম। এটা মানুষের ভেতরের ময়লা-আবর্জনা ও অপবিত্রতাকে দূর করে দেয়। তাওবার দরজা চব্বিশ ঘণ্টা খোলা। যতক্ষণ মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু না হবে ততক্ষণ মানুষের তাওবা কবুল হয়ে থাকে। তাওবার অনেক উপকারিতা রয়েছে। যথা—
১. তাওবাকারীর আল্লাহ তা'আলার মহব্বত লাভ হয়।
২. তাওবা করলে গুনাহ মিটে যায়। গুনাহের প্রভাব ধ্বংস হয়ে যায় এবং অধিকাংশ সময় উক্ত গুনাহগুলোকে নেকিতে পরিণত করে দেওয়া হয়।
৩. তাওবার দ্বারা মানুষের সমূহ কল্যাণ ও সফলতা লাভ হয়।
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। "[৪৮]
টিকাঃ
[৪৮] নূর- ২৪: ৩১