📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 দুনিয়াতে ভয় পরকালে নিরাপত্তা

📄 দুনিয়াতে ভয় পরকালে নিরাপত্তা


عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ التَّوْبَةَ تَغْسِلُ الْحَوْبَةَ وَإِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ وَإِذَا ذَكَرَ الْعَبْدُ رَبَّهُ فِي الرِّجَاءِ أَنْجَاهُ الْبَلَاءِ؛ وَذَالِكَ لِأَنَّ يَقُولُ: لَا أَجْمَعُ لِعَبْدِي أَبَدًا أَمَنَيْنِ وَلَا أَجْمَعُ لَهُ خَوْفَيْنِ إِنْ هُৱَ آمَنَنِي فِي الدُّنْيَا خَافَنِي يَوْمَ أَجْمَعُ فِيْهِ عِبَادِى، وَإِنْ هُৱَ خَافَنِيْ فِي الدُّنْيَا أَمَّنْتُهُ يَوْمَ اجْمَعُ فِيْهِ عِبَادِي فِي حَضِيْرَةِ القُدْسِ فَيَدُومُ لَهَ آمَنُهُ وَلَا أَمْحَقُهُ فِيمَنْ أَمْחَقَ

"হজরত শাদ্দাদ বিন আউস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তাওবা গুনাহকে ধুয়ে দেয় এবং নেক কাজ মন্দ কাজকে নিঃশেষ করে দেয়। আর বান্দা যখন স্বীয় রবকে খুশি ও ভয়ের সময় স্মরণ রাখে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে পরীক্ষার সময়ে মুক্তি দান করেন। আর সেটা এজন্য যে, আল্লাহ তা'আলা বলেন— আমি কখনোই স্বীয় বান্দার জন্য দুটি নিরাপত্তা ও দুটি ভয় একত্রিত করব না। সে যদি দুনিয়াতে আমার প্রতি নির্ভয় থাকে তাহলে সেদিন আমাকে ভয় করবে, যেদিন আমি স্বীয় বান্দাদেরকে একত্রিত করব। আর যদি সে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে তাহলে আমি সেদিন তাকে নিরাপত্তা দান করব, যেদিন আমি আমার বান্দাদেরকে "হাজিরাতুল কুদসে" একত্রিত করব। তখন তার নিরাপত্তা তার জন্য স্থায়ী হবে এবং আমি তাকে ধ্বংসপ্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস করে দেব না। "[৪৪]

টিকাঃ
[৪৪] হিলইয়াতুল আউলিয়া

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 জান্নাতের একটি দরজা শুধুমাত্র তাওবার জন্য

📄 জান্নাতের একটি দরজা শুধুমাত্র তাওবার জন্য


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: لِلْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ سَبْعَةٌ مُغَلَّقَةٌ، وَبَابٌ مَفْتُوْحُ لِلتَّوْبَةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَّغْرِبِهَا

“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। সাতটি দরজা বন্ধ রয়েছে আর একটি দরজা তাওবার জন্য ঐ সময় পর্যন্ত খোলা, যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হবে।"[৪৫]

টিকাঃ
[৪৫] আবু ইয়ালা; তাবরানী

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা হল একটি নূর

📄 তাওবা হল একটি নূর


তাওবার শুরুটা হল অন্তরে একটি মারেফাতের নুর সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ একটি আলো নসিব হয় এবং উক্ত নুরের আলোতে তাকে দেখানো হয় যে, গুনাহ হল একটি জীবন বিধ্বংসী বিষ। আর এই বিষ সে অনেক বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলেছে। তাই দুনিয়াতে যেমন বিষ পানকারী ব্যক্তি কিংবা কোন বিষাক্ত সাপে দংশনকারী ব্যক্তি পেরেশান ও আতঙ্কিত হয়ে বাঁচার চেষ্টা করে থাকে এবং তার প্রচণ্ড ইচ্ছা হয় যেন কোন না কোনভাবে এই বিষের ক্রিয়া ধ্বংস হয়ে যায় এবং সে ধ্বংস থেকে বেঁচে যায়। ঠিক এমনিভাবে তাওবার অনুগামী ব্যক্তিও যখন এটা অনুভব করে যে, আমার সকল প্রবৃত্তি পূজা মূলত ঐ মধুর ন্যায় ছিল, যার মধ্যে বিষ মেশানো ছিল। খাওয়ার সময় তো খুব সুস্বাদু এবং অত্যন্ত মিষ্টি মনে হয়েছে কিন্তু শেষ পরিণাম সাপের দংশনের ন্যায় বিষে ভরপুর ছিল। এখন যদি সেই বিষকে সে নিজের সাথে নিয়ে মারা যায়, তাহলে ধ্বংস ও আজাবের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে। তাই ঐ সময় গুনাহের পেরেশানি ও অনুতপ্ততা তাকে ঘিরে ধরে এবং তার ভেতরে অস্থিরতার এক আগুন লেগে যায় এবং নিজের কৃত গুনাহের ক্ষমা ও ক্ষতি পূরণের ইচ্ছা অন্তরে জাগ্রত হয়ে যায় এবং বার বার তার কন্ঠে এ বাক্যই উচ্চারিত হতে থাকে যে, হে আল্লাহ! আমি আর কখনো গুনাহের কাছেও যাব না। তখন তার সকল চলাফেরায় একটি বিপ্লব সাধিত হয়ে যায়। সে জুলুম ও বাড়াবাড়ি ছেড়ে পবিত্র ও বিশ্বস্ততার পথে চলে আসে। পূর্বে সে গর্ব-অহংকার, গাফলত ও অলসতার মূর্তপ্রতীক ছিল। আর এখন অনুতপ্তের অশ্রু তাকে বিষণ্ণ ও চিন্তার মূর্তি বানিয়ে দেয়। পূর্বে গাফেল লোকদের সংশ্রব তার পছন্দনীয় ছিল। আর এখন আল্লাহওয়ালাদের সংশ্রব তার অন্তরের পছন্দনীয় হয়ে যায় এবং খারাপ সংশ্রবের প্রতি তার রাগ ও ঘৃণা লাগে। সুতরাং এই পেরেশানি, এই অনুতপ্ততা ও এই অস্থিরতাই প্রকৃত তাওবা। আর এর মূল হল ঐ নুর যাকে নুরে ইমান অথবা নুরে মারেফাত নাম দেওয়া হয়। [৪৬]

টিকাঃ
[৪৬] কিমিয়ায়ে সা'আদাত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 রাত-দিন তাওবা ও অনুতপ্ততা

📄 রাত-দিন তাওবা ও অনুতপ্ততা


তাল্লাক বিন হাবীব রাহি. বলেন—
আল্লাহ তা'আলার হক আদায় করা মানুষের জন্য কীভাবে সম্ভব! সে তো অসহায়। তবে হ্যাঁ! হয়তো এটা কাজে আসতে পারে যে, সকালে উঠবে তো তাওবার সাথে উঠবে এবং রাতে ঘুমাবে তো তাওবার সাথে ঘুমাবে। হাবীব বিন সাবিত বলেন যে, বান্দার সকল গুনাহ একটি একটি করে তাকে দেখানো হবে। একেকটি গুনাহ দেখে সে নিজের অজান্তেই চিৎকার করে উঠবে যে, আহ! হে নির্লজ্জ! আমি তোকেই সর্বদা ভয় করে আসছি। এই ভয়ের প্রকাশই আল্লাহ তা'আলার পছন্দ হয়ে যাবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

ঐ গুনাহ মানুষের জন্য জান্নাতে যাওয়ার উসিলা হয়ে যাবে, যে গুনাহের উপর মানুষ মৃত্যু পর্যন্ত অনুতপ্ত থাকে এবং আফসোস করতে থাকে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px