📄 ইস্তিগফার জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়
হজরত আবু বারযা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হজরত আদম আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের সাথে কথা বলে সান্ত্বনা লাভ করতেন। যখন তাকে ফেরেশতাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করা হল, তখন হজরত আদম আলাইহিস সালাম জান্নাতে যাওয়ার জন্য একশত বছর কেঁদেছেন। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন— হে আদম! কোন বস্তু তোমাকে এমন পেরেশান করে রেখেছে? হজরত আদম আলাইহিস সালাম তখন উত্তরে বললেন যে, আমি কেন পেরেশান হব না, যেখানে আপনি আমাকে জান্নাত থেকে নামিয়ে জমিনে নিয়ে এসেছেন। আমার তো জানা নেই যে, পুনরায় আমি জান্নাতে যেতে পারব কিনা? তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, হে আদম তুমি এ দু'আটি পাঠ কর—
اللَّهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ رَبِّ إِنِّي عَمِلْتُ سُوْءًا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
হে আল্লাহ! আপনি এক। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনার কোন শরিক নেই। হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং প্রশংসার উপযুক্ত। হে আমার রব! নিশ্চয় আমি খারাপ কাজ করেছি এবং নিজের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি সর্বাধিক দয়ালু।
দ্বিতীয়ত এ দু'আটি পাঠ করবে—
اللَّهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ سُبْحَانَكَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
হে আল্লাহ! আপনি এক। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনার কোন শরিক নেই। হে আল্লাহ আপনি পবিত্র। হে আমার রব! আমি নিজের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি সর্বাধিক দয়ালু।
তৃতীয় এ দু'আটি পাঠ করবে—
اللَّهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ لَا شَرِيكَ لَكَ رَبِّ عَمِلْتُ سُوْءًا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
অর্থ-হে আল্লাহ! আপনি এক। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং প্রশংসার উপযুক্ত। আপনার কোন শরিক নেই। হে আমার রব! আমি খারাপ কাজ করেছি এবং নিজের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি সর্বাধিক দয়ালু। [৪২]
এ কালিমাসমূহ আল্লাহ তা'আলা আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরও অবতীর্ণ করেছেন। নিম্নের আয়াতে যার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে—
فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُৱَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
"অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী পেল, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী, অতি দয়ালু।"[৪৩]
টিকাঃ
[৪২] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৩৭৫৩
[৪৩] বাকারা- ২: ৩৭
📄 দুনিয়াতে ভয় পরকালে নিরাপত্তা
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ التَّوْبَةَ تَغْسِلُ الْحَوْبَةَ وَإِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ وَإِذَا ذَكَرَ الْعَبْدُ رَبَّهُ فِي الرِّجَاءِ أَنْجَاهُ الْبَلَاءِ؛ وَذَالِكَ لِأَنَّ يَقُولُ: لَا أَجْمَعُ لِعَبْدِي أَبَدًا أَمَنَيْنِ وَلَا أَجْمَعُ لَهُ خَوْفَيْنِ إِنْ هُৱَ آمَنَنِي فِي الدُّنْيَا خَافَنِي يَوْمَ أَجْمَعُ فِيْهِ عِبَادِى، وَإِنْ هُৱَ خَافَنِيْ فِي الدُّنْيَا أَمَّنْتُهُ يَوْمَ اجْمَعُ فِيْهِ عِبَادِي فِي حَضِيْرَةِ القُدْسِ فَيَدُومُ لَهَ آمَنُهُ وَلَا أَمْحَقُهُ فِيمَنْ أَمْחَقَ
"হজরত শাদ্দাদ বিন আউস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তাওবা গুনাহকে ধুয়ে দেয় এবং নেক কাজ মন্দ কাজকে নিঃশেষ করে দেয়। আর বান্দা যখন স্বীয় রবকে খুশি ও ভয়ের সময় স্মরণ রাখে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে পরীক্ষার সময়ে মুক্তি দান করেন। আর সেটা এজন্য যে, আল্লাহ তা'আলা বলেন— আমি কখনোই স্বীয় বান্দার জন্য দুটি নিরাপত্তা ও দুটি ভয় একত্রিত করব না। সে যদি দুনিয়াতে আমার প্রতি নির্ভয় থাকে তাহলে সেদিন আমাকে ভয় করবে, যেদিন আমি স্বীয় বান্দাদেরকে একত্রিত করব। আর যদি সে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে তাহলে আমি সেদিন তাকে নিরাপত্তা দান করব, যেদিন আমি আমার বান্দাদেরকে "হাজিরাতুল কুদসে" একত্রিত করব। তখন তার নিরাপত্তা তার জন্য স্থায়ী হবে এবং আমি তাকে ধ্বংসপ্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস করে দেব না। "[৪৪]
টিকাঃ
[৪৪] হিলইয়াতুল আউলিয়া
📄 জান্নাতের একটি দরজা শুধুমাত্র তাওবার জন্য
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: لِلْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ سَبْعَةٌ مُغَلَّقَةٌ، وَبَابٌ مَفْتُوْحُ لِلتَّوْبَةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَّغْرِبِهَا
“হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। সাতটি দরজা বন্ধ রয়েছে আর একটি দরজা তাওবার জন্য ঐ সময় পর্যন্ত খোলা, যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হবে।"[৪৫]
টিকাঃ
[৪৫] আবু ইয়ালা; তাবরানী
📄 তাওবা হল একটি নূর
তাওবার শুরুটা হল অন্তরে একটি মারেফাতের নুর সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ একটি আলো নসিব হয় এবং উক্ত নুরের আলোতে তাকে দেখানো হয় যে, গুনাহ হল একটি জীবন বিধ্বংসী বিষ। আর এই বিষ সে অনেক বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলেছে। তাই দুনিয়াতে যেমন বিষ পানকারী ব্যক্তি কিংবা কোন বিষাক্ত সাপে দংশনকারী ব্যক্তি পেরেশান ও আতঙ্কিত হয়ে বাঁচার চেষ্টা করে থাকে এবং তার প্রচণ্ড ইচ্ছা হয় যেন কোন না কোনভাবে এই বিষের ক্রিয়া ধ্বংস হয়ে যায় এবং সে ধ্বংস থেকে বেঁচে যায়। ঠিক এমনিভাবে তাওবার অনুগামী ব্যক্তিও যখন এটা অনুভব করে যে, আমার সকল প্রবৃত্তি পূজা মূলত ঐ মধুর ন্যায় ছিল, যার মধ্যে বিষ মেশানো ছিল। খাওয়ার সময় তো খুব সুস্বাদু এবং অত্যন্ত মিষ্টি মনে হয়েছে কিন্তু শেষ পরিণাম সাপের দংশনের ন্যায় বিষে ভরপুর ছিল। এখন যদি সেই বিষকে সে নিজের সাথে নিয়ে মারা যায়, তাহলে ধ্বংস ও আজাবের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে। তাই ঐ সময় গুনাহের পেরেশানি ও অনুতপ্ততা তাকে ঘিরে ধরে এবং তার ভেতরে অস্থিরতার এক আগুন লেগে যায় এবং নিজের কৃত গুনাহের ক্ষমা ও ক্ষতি পূরণের ইচ্ছা অন্তরে জাগ্রত হয়ে যায় এবং বার বার তার কন্ঠে এ বাক্যই উচ্চারিত হতে থাকে যে, হে আল্লাহ! আমি আর কখনো গুনাহের কাছেও যাব না। তখন তার সকল চলাফেরায় একটি বিপ্লব সাধিত হয়ে যায়। সে জুলুম ও বাড়াবাড়ি ছেড়ে পবিত্র ও বিশ্বস্ততার পথে চলে আসে। পূর্বে সে গর্ব-অহংকার, গাফলত ও অলসতার মূর্তপ্রতীক ছিল। আর এখন অনুতপ্তের অশ্রু তাকে বিষণ্ণ ও চিন্তার মূর্তি বানিয়ে দেয়। পূর্বে গাফেল লোকদের সংশ্রব তার পছন্দনীয় ছিল। আর এখন আল্লাহওয়ালাদের সংশ্রব তার অন্তরের পছন্দনীয় হয়ে যায় এবং খারাপ সংশ্রবের প্রতি তার রাগ ও ঘৃণা লাগে। সুতরাং এই পেরেশানি, এই অনুতপ্ততা ও এই অস্থিরতাই প্রকৃত তাওবা। আর এর মূল হল ঐ নুর যাকে নুরে ইমান অথবা নুরে মারেফাত নাম দেওয়া হয়। [৪৬]
টিকাঃ
[৪৬] কিমিয়ায়ে সা'আদাত