📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবার আশ্চর্য ফজিলত

📄 তাওবার আশ্চর্য ফজিলত


এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি তাওবা ও ইস্তিগফার করে—
১. আল্লাহ তা'আলার হিকমতে গুনাহ লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতা তার গুনাহ লিখতে ভুলে যায়।
২. ঐ ব্যক্তির হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও উক্ত গুনাহকে ভুলে যায়, যে অঙ্গের দ্বারা সে উক্ত গুনাহ করেছে।
৩. ঐ স্থানও উক্ত গুনাহকে ভুলে যায়, যেখানে সে উক্ত গুনাহে লিপ্ত হয়েছিল। তাহলে যেন গুনাহগার যখন (যে তাওবা করেছে) আল্লাহ তা'আলার নিকট পৌছেবে, তখন তার বিরুদ্ধে কোন সাক্ষীই বিদ্যমান না থাকে।

হজরত উমর রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন—তাওবা কর তাওবা। আমি নিজেও প্রতিদিন একশত বার তাওবা করে থাকি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—ঐ ব্যক্তি কে, যে গুনাহগার নয়? কিন্তু এই গুনাহগারদের মধ্যে সর্বোত্তম হল সে, যে তাওবা করে নেয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন—গুনাহগার তাওবা করে নিলে এমন হয়ে যায় যে, মনে হয় যেন সে কখনো গুনাহই করেনি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন—গুনাহ থেকে তাওবা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হল— পুনরায় উক্ত গুনাহের নাম পর্যন্ত না নেওয়া। [৪০]

টিকাঃ
[৪০] কিমিয়ায়ে সা'আদাত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা হজরত আদম আলাইহিস সালামের উত্তরাধিকার

📄 তাওবা হজরত আদম আলাইহিস সালামের উত্তরাধিকার


হজরত হাসান বসরী রাহি. থেকে বর্ণিত আছে—
আল্লাহ তা'আলা যখন হজরত আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল করলেন, তখন তাকে ফেরেশতারা ধন্যবাদ দিয়েছেন এবং হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম ও মিকাইল আলাইহিস সালাম তার নিকট আগমন করলেন এবং বললেন—
হে আদম! আল্লাহ তা'আলা যখন আপনার তাওবা কবুল করেছেন, তখন আপনার কলিজা ঠাণ্ডা হয়েছে। হজরত আদম আলাইহিস সালাম উত্তর দিলেন—হে জিবরাইল! তাওবা কবুল হওয়ার পরেও যদি আমাকে জবাবদিহি করতে হয়, তাহলে পুনরায় আমার ঠিকানা কোথায়? ঐ সময় তার উপর ওহী আসল যে, হে আদম! আপনি আপনার সন্তানদের জন্য উত্তরাধিকার হিসেবে দুঃখ-কষ্ট রেখে যাচ্ছেন এবং তাওবাও রেখে যাচ্ছেন। তাই যে কেউ এগুলোর মধ্যে আমাকে ডাকবে আমি তা শুনব, যেমনটি আপনার ডাক শুনেছি এবং যে কেউ ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তার উপর কৃপণতা করব না। কেননা আমার নাম “কারীবুন” তথা নিকটবর্তী এবং "মুজীবুন” তথা জবাবদাতা। হে আদম! তাওবাকারীদেরকে কবর থেকে হাসি-খুশি অবস্থায় সুসংবাদপ্রাপ্ত হিসেবে উঠাব। [৪১]

টিকাঃ
[৪১] এহইয়াউল উলুম

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইস্তিগফার জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়

📄 ইস্তিগফার জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়


হজরত আবু বারযা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হজরত আদম আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদের সাথে কথা বলে সান্ত্বনা লাভ করতেন। যখন তাকে ফেরেশতাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করা হল, তখন হজরত আদম আলাইহিস সালাম জান্নাতে যাওয়ার জন্য একশত বছর কেঁদেছেন। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন— হে আদম! কোন বস্তু তোমাকে এমন পেরেশান করে রেখেছে? হজরত আদম আলাইহিস সালাম তখন উত্তরে বললেন যে, আমি কেন পেরেশান হব না, যেখানে আপনি আমাকে জান্নাত থেকে নামিয়ে জমিনে নিয়ে এসেছেন। আমার তো জানা নেই যে, পুনরায় আমি জান্নাতে যেতে পারব কিনা? তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, হে আদম তুমি এ দু'আটি পাঠ কর—
اللَّهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ رَبِّ إِنِّي عَمِلْتُ سُوْءًا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! আপনি এক। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনার কোন শরিক নেই। হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং প্রশংসার উপযুক্ত। হে আমার রব! নিশ্চয় আমি খারাপ কাজ করেছি এবং নিজের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি সর্বাধিক দয়ালু।

দ্বিতীয়ত এ দু'আটি পাঠ করবে—
اللَّهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ سُبْحَانَكَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

হে আল্লাহ! আপনি এক। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনার কোন শরিক নেই। হে আল্লাহ আপনি পবিত্র। হে আমার রব! আমি নিজের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি সর্বাধিক দয়ালু।

তৃতীয় এ দু'আটি পাঠ করবে—
اللَّهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ لَا شَرِيكَ لَكَ رَبِّ عَمِلْتُ سُوْءًا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

অর্থ-হে আল্লাহ! আপনি এক। আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। হে আল্লাহ আপনি পবিত্র এবং প্রশংসার উপযুক্ত। আপনার কোন শরিক নেই। হে আমার রব! আমি খারাপ কাজ করেছি এবং নিজের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি সর্বাধিক দয়ালু। [৪২]

এ কালিমাসমূহ আল্লাহ তা'আলা আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরও অবতীর্ণ করেছেন। নিম্নের আয়াতে যার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে—

فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُৱَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
"অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী পেল, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী, অতি দয়ালু।"[৪৩]

টিকাঃ
[৪২] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৩৭৫৩
[৪৩] বাকারা- ২: ৩৭

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 দুনিয়াতে ভয় পরকালে নিরাপত্তা

📄 দুনিয়াতে ভয় পরকালে নিরাপত্তা


عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ التَّوْبَةَ تَغْسِلُ الْحَوْبَةَ وَإِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ وَإِذَا ذَكَرَ الْعَبْدُ رَبَّهُ فِي الرِّجَاءِ أَنْجَاهُ الْبَلَاءِ؛ وَذَالِكَ لِأَنَّ يَقُولُ: لَا أَجْمَعُ لِعَبْدِي أَبَدًا أَمَنَيْنِ وَلَا أَجْمَعُ لَهُ خَوْفَيْنِ إِنْ هُৱَ آمَنَنِي فِي الدُّنْيَا خَافَنِي يَوْمَ أَجْمَعُ فِيْهِ عِبَادِى، وَإِنْ هُৱَ خَافَنِيْ فِي الدُّنْيَا أَمَّنْتُهُ يَوْمَ اجْمَعُ فِيْهِ عِبَادِي فِي حَضِيْرَةِ القُدْسِ فَيَدُومُ لَهَ آمَنُهُ وَلَا أَمْحَقُهُ فِيمَنْ أَمْחَقَ

"হজরত শাদ্দাদ বিন আউস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তাওবা গুনাহকে ধুয়ে দেয় এবং নেক কাজ মন্দ কাজকে নিঃশেষ করে দেয়। আর বান্দা যখন স্বীয় রবকে খুশি ও ভয়ের সময় স্মরণ রাখে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে পরীক্ষার সময়ে মুক্তি দান করেন। আর সেটা এজন্য যে, আল্লাহ তা'আলা বলেন— আমি কখনোই স্বীয় বান্দার জন্য দুটি নিরাপত্তা ও দুটি ভয় একত্রিত করব না। সে যদি দুনিয়াতে আমার প্রতি নির্ভয় থাকে তাহলে সেদিন আমাকে ভয় করবে, যেদিন আমি স্বীয় বান্দাদেরকে একত্রিত করব। আর যদি সে দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে তাহলে আমি সেদিন তাকে নিরাপত্তা দান করব, যেদিন আমি আমার বান্দাদেরকে "হাজিরাতুল কুদসে" একত্রিত করব। তখন তার নিরাপত্তা তার জন্য স্থায়ী হবে এবং আমি তাকে ধ্বংসপ্রাপ্তদের সাথে ধ্বংস করে দেব না। "[৪৪]

টিকাঃ
[৪৪] হিলইয়াতুল আউলিয়া

ফন্ট সাইজ
15px
17px