📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মৃত্যু কামনা নয় বরং তাওবা

📄 মৃত্যু কামনা নয় বরং তাওবা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ، وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ

“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যু কামনা করো না। কেননা সে যদি নেককার হয় তাহলে হয়তো তার নেক বৃদ্ধি পাবে। আর যদি সে গুনাহগার হয়, তাহলে হয়তো সে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন করবে।”[৩৬]

টিকাঃ
[৩৬] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৭২৩৫

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 স্বর্ণের পাহাড় চাই না, চাই তাওবার দরজা

📄 স্বর্ণের পাহাড় চাই না, চাই তাওবার দরজা


عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَتْ قُرَيْشٌ لِلنَّبِيِّ ﷺ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يَجْعَلْ لَنَا الصَّفَا ذَهَبًا فَإِنْ أَصْبَحَ ذَهَبًا اتَّبَعْنَاكَ فَدَعَا رَبَّهُ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: إِنَّ رَبَّكَ يُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَيَقُوْلُ لَكَ إِنْ شِئْتَ أَصْبَحَ لَهُمُ الصَّفَا ذَهَبًا فَمَنْ كَفَرَ مِنْهُمْ عَذَّبْتُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ وَإِنْ شِئْتَ فَتَحْتُ لَهُمْ بَابَ التَّوْبَةِ وَ الرَّحْمَةِ قَالَ: بَلْ بَابُ التَّوْبَةِ وَ الرَّحْمَةِ

“হজরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, কুরাইশরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন— আপনার রবের নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন সাফা পাহাড়কে আমাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেন। তিনি যদি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা আপনার কথা মেনে নেব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু তাদের ইমানের অনেক বেশি প্রত্যাশী ছিলেন এজন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু'আ করা শুরু করলেন। হজরত জিবারঈল আলাইহিস সালাম হাজির হলেন এবং আরজ করলেন— আপনার রব আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন যে, আপনি যদি চান তাহলে আমি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানিয়ে দেব। কিন্তু এরপরে যদি কেউ কুফরী করে, তাহলে তাকে এমন শাস্তি দিবেন যে, এমন শাস্তি এর পূর্বে আর কাউকে দেননি। আর যদি আপনি চান তাহলে আমি তাদের জন্য তাওবা এবং রহমতের দরজা খুলে দেব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— আমি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানানো নয় বরং তাওবা এবং রহমতের দরজা চাই। "[৩৭]

টিকাঃ
[৩৭] তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৪৯২

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইস্তিগফার ও তাওবা পুরো জীবনের জন্য

📄 ইস্তিগফার ও তাওবা পুরো জীবনের জন্য


১. কেউ যদি কাফির ও মুশরিক হয়, তাহলে কুফর ও শিরক থেকে তাওবা করে নিতে হবে। এটা তার জন্য কর্তব্য। আর না হয় চিরদিনের জন্য ব্যর্থতায় পতিত হবে।

২. যে ব্যক্তি শুধুমাত্র নামে মুসলমান। যেমন: মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েছে কিন্তু তার অন্তর উদাসীন এবং সে নিজেও দীন ও ইমান সম্পর্কে জাহেল। তাহলে তার জন্য কর্তব্য হল এই গাফলত এবং জাহালাত থেকে তাওবা করা। আর এ তাওবার জন্য জরুরি হল ইমানের অর্থ এবং করণীয় সম্পর্কে জানা। অতঃপর কর্তব্য হল— তার অন্তরে ইমানের বাদশাহকে বিজয়ী করা এবং ইমানের এই রাজত্ব তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চালু করা এবং শয়তানের রাজত্ব ও শক্তিকে পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস করা। যখন গুনাহ হয় তখন পরিপূর্ণভাবে ইমান থাকে না। কেননা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
"যে ব্যক্তি যিনা করে কিংবা চুরিতে লিপ্ত হয়, তখন ঐ অবস্থায় তার অন্তর মুমিন থাকে না।"

৩. কাফির যদি কুফর থেকে তাওবা করে নেয়, উদাসীন মুসলমান যদি উদাসীনতা এবং জাহালাত থেকে তাওবা করে নেয়, তাহলে এখন তার মোকাবিলা হবে বাতেনী তথা গোপন গুনাহসমূহের উৎসের সাথে। যেমন: খানার লোভ, খ্যাতির লোভ, ধন-সম্পদের লোভ, হিংসা ও রাগের জোশ, অহংকার ও গর্বের লোভ ও লৌকিকতার অভ্যাস ইত্যাদি। এগুলোই হল ঐ উৎস এগুলো থেকে সকল গুনাহর জন্ম হয়। তাই এগুলো থেকেও তাওবা করতে হবে।

৪. যদি এ সকল কামনা-বাসনার উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ হয়ে যায়, তাহলে এখন শুরু হবে ওয়াসওয়াসার আক্রমণ। নফসের অন্যায় আবেদন ও অবৈধ জল্পনা-কল্পনা। তাই এগুলো থেকেও তাওবা করতে হবে। যেন এগুলো ভুল পথে নিক্ষেপ করতে না পারে।

৫. এগুলো থেকেও যদি মুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে গাফলতের অবস্থা থেকে তাওবার স্তর শুরু হবে।

৬. এগুলো থেকেও যদি মুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যের সামনের স্তর পেছনের স্তর থেকে উচ্চ পর্যায়ের হবে। এমন উচ্চ পর্যায়ের হবে যে, যখন সামনের স্তরে পৌঁছবে তখন পেছনের স্তরের জন্য লজ্জিত হবে। আর তখন তাওবা করবে। সুতরাং প্রতিটি মানুষ সর্বদা ও সর্বাবস্থায় তাওবার মুখাপেক্ষী। [৩৮]

টিকাঃ
[৩৮] কিমিয়ায়ে সা'আদাত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইস্তিগফার ও তাওবার মধ্যে পার্থক্য কী?

📄 ইস্তিগফার ও তাওবার মধ্যে পার্থক্য কী?


কয়েকটি কথা বুঝে নিন—
১. ইস্তিগফারের উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা'আলার নিকট মাগফিরাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। গুনাহের অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে বাঁচার আবেদন করা।

২. তাওবার উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হওয়া। স্বীয় গুনাহের উপর অনুতপ্ত হওয়া। গুনাহকে ছেড়ে ভবিষ্যতে আর কখনো না করার দৃঢ় সংকল্প করে আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা।

৩. তাওবা ইস্তিগফার ব্যতীত হয় না। অর্থাৎ তাওবার মধ্যে ইস্তিগফার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং পরিপূর্ণ ইস্তিগফার তাওবা ব্যতীত অর্জন হয় না। এ হিসেবে উভয়টির অর্থ একই। আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। স্বীয় গুনাহের উপর অনুতপ্ত হওয়া। গুনাহকে ত্যাগ করা। ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা। এটাকে ইস্তিগফারও বলা হয় এবং তাওবাও বলা হয়।

৪. উভয়টির মাঝে কিছু পার্থক্যও হতে পারে। যখন তাওবা ব্যতীত ইস্তিগফার করা হয়। অর্থাৎ ইস্তিগফারের উদ্দেশ্য হল নিজের গুনাহের উপর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও মাগফিরাত কামনা করা। কিন্তু পরিপূর্ণভাবে গুনাহ ত্যাগ করেনি। তখন ইস্তিগফার হল একটি দু'আ। আর দু'আ হল ইবাদাত। মাগফিরাতের এই দু'আ কখনো কবুল হয়ে যায় আবার কখনো কবুল হয় না।

৫. ইস্তিগফার ও তাওবার মধ্যে এটাও একটা পার্থক্য বর্ণনা করা হয় যে, ইস্তিগফারের উদ্দেশ্য হল অতীতে যা কিছু হয়েছে সেগুলোর ক্ষতি থেকে বাঁচার আবেদন করা আর তাওবার উদ্দেশ্য হল ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতের মন্দ আমল এবং এর ক্ষতি থেকে বাঁচার আবেদন করা। এজন্য ইস্তিগফার ও তাওবা উভয়টিই করা উচিত।

اسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

৬. আল্লাহ তা'আলা বান্দার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে থাকেন। কখনো তাওবা তথা গুনাহ ত্যাগ করার দ্বারা এবং অনুতপ্ত হওয়ার দ্বারা। আর কখনো নেক কাজের প্রতিদানে। কখনো বিপদাপদের প্রতিদানে। আর কখনো শুধুমাত্র ইস্তিগফার তথা ক্ষমা ও মাগফিরাতের দু'আ করার দ্বারা। এ বর্ণনা থেকেও ইস্তিগফার ও তাওবার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়।

মোটকথা হল, কখনো ইস্তিগফার ও তাওবা উভয়টি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর কখনো উভয়টির অর্থের মধ্যে সামান্য পার্থক্য হয়ে থাকে। ইস্তিগফারের অর্থ হল অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর তাওবার অর্থ হল গুনাহ ত্যাগ করে নেকির দিকে ফিরে আসা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px