📄 বার বার তাওবা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَلَهُ ذَنْبٌ يَعْتَادُهُ الْفَيْنَةَ بَعْدَ الْفَيْنَةِ أَوْ ذَنْبٌ هُوَ مُقِيمٌ عَلَيْهِ لَا يُفَارِقُهُ حَتَّى يُفَارِقَ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ خُلِقَ مُفْتَنًا تَوَّابًا نَسَّاءً إِذَا ذُكِرَ ذَكَرَ
"হজরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—প্রত্যেক মুমিনেরই বিভিন্ন সময় কিছু গুনাহ হয়ে থাকে অথবা কিছু সে করে থাকে এবং তা ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়তে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়া না ছাড়ে। বাস্তবতা হল—মুমিনকে সৃষ্টিই করা হয়েছে এমনভাবে যে, সে বার বার গুনাহে লিপ্ত হয় এবং বার বার তাওবা করে। বার বার ভুলে যায়। যখন তাকে তাওবার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা গ্রহণ করে। (অথবা তাকে আল্লাহ তা'আলা স্বরণ করিয়ে দেয়, তখন সেও আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করে অর্থাৎ তাওবার দিকে অনুগামী হয়ে যায়)।[৩৫]
টিকাঃ
[৩৫] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৪১ হাদিস নং ১৭৫৩৩
📄 মৃত্যু কামনা নয় বরং তাওবা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ، وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যু কামনা করো না। কেননা সে যদি নেককার হয় তাহলে হয়তো তার নেক বৃদ্ধি পাবে। আর যদি সে গুনাহগার হয়, তাহলে হয়তো সে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন করবে।”[৩৬]
টিকাঃ
[৩৬] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৭২৩৫
📄 স্বর্ণের পাহাড় চাই না, চাই তাওবার দরজা
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَتْ قُرَيْشٌ لِلنَّبِيِّ ﷺ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يَجْعَلْ لَنَا الصَّفَا ذَهَبًا فَإِنْ أَصْبَحَ ذَهَبًا اتَّبَعْنَاكَ فَدَعَا رَبَّهُ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: إِنَّ رَبَّكَ يُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَيَقُوْلُ لَكَ إِنْ شِئْتَ أَصْبَحَ لَهُمُ الصَّفَا ذَهَبًا فَمَنْ كَفَرَ مِنْهُمْ عَذَّبْتُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ وَإِنْ شِئْتَ فَتَحْتُ لَهُمْ بَابَ التَّوْبَةِ وَ الرَّحْمَةِ قَالَ: بَلْ بَابُ التَّوْبَةِ وَ الرَّحْمَةِ
“হজরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, কুরাইশরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন— আপনার রবের নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন সাফা পাহাড়কে আমাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেন। তিনি যদি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা আপনার কথা মেনে নেব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু তাদের ইমানের অনেক বেশি প্রত্যাশী ছিলেন এজন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু'আ করা শুরু করলেন। হজরত জিবারঈল আলাইহিস সালাম হাজির হলেন এবং আরজ করলেন— আপনার রব আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন যে, আপনি যদি চান তাহলে আমি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানিয়ে দেব। কিন্তু এরপরে যদি কেউ কুফরী করে, তাহলে তাকে এমন শাস্তি দিবেন যে, এমন শাস্তি এর পূর্বে আর কাউকে দেননি। আর যদি আপনি চান তাহলে আমি তাদের জন্য তাওবা এবং রহমতের দরজা খুলে দেব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— আমি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানানো নয় বরং তাওবা এবং রহমতের দরজা চাই। "[৩৭]
টিকাঃ
[৩৭] তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৪৯২
📄 ইস্তিগফার ও তাওবা পুরো জীবনের জন্য
১. কেউ যদি কাফির ও মুশরিক হয়, তাহলে কুফর ও শিরক থেকে তাওবা করে নিতে হবে। এটা তার জন্য কর্তব্য। আর না হয় চিরদিনের জন্য ব্যর্থতায় পতিত হবে।
২. যে ব্যক্তি শুধুমাত্র নামে মুসলমান। যেমন: মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েছে কিন্তু তার অন্তর উদাসীন এবং সে নিজেও দীন ও ইমান সম্পর্কে জাহেল। তাহলে তার জন্য কর্তব্য হল এই গাফলত এবং জাহালাত থেকে তাওবা করা। আর এ তাওবার জন্য জরুরি হল ইমানের অর্থ এবং করণীয় সম্পর্কে জানা। অতঃপর কর্তব্য হল— তার অন্তরে ইমানের বাদশাহকে বিজয়ী করা এবং ইমানের এই রাজত্ব তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চালু করা এবং শয়তানের রাজত্ব ও শক্তিকে পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস করা। যখন গুনাহ হয় তখন পরিপূর্ণভাবে ইমান থাকে না। কেননা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
"যে ব্যক্তি যিনা করে কিংবা চুরিতে লিপ্ত হয়, তখন ঐ অবস্থায় তার অন্তর মুমিন থাকে না।"
৩. কাফির যদি কুফর থেকে তাওবা করে নেয়, উদাসীন মুসলমান যদি উদাসীনতা এবং জাহালাত থেকে তাওবা করে নেয়, তাহলে এখন তার মোকাবিলা হবে বাতেনী তথা গোপন গুনাহসমূহের উৎসের সাথে। যেমন: খানার লোভ, খ্যাতির লোভ, ধন-সম্পদের লোভ, হিংসা ও রাগের জোশ, অহংকার ও গর্বের লোভ ও লৌকিকতার অভ্যাস ইত্যাদি। এগুলোই হল ঐ উৎস এগুলো থেকে সকল গুনাহর জন্ম হয়। তাই এগুলো থেকেও তাওবা করতে হবে।
৪. যদি এ সকল কামনা-বাসনার উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ হয়ে যায়, তাহলে এখন শুরু হবে ওয়াসওয়াসার আক্রমণ। নফসের অন্যায় আবেদন ও অবৈধ জল্পনা-কল্পনা। তাই এগুলো থেকেও তাওবা করতে হবে। যেন এগুলো ভুল পথে নিক্ষেপ করতে না পারে।
৫. এগুলো থেকেও যদি মুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে গাফলতের অবস্থা থেকে তাওবার স্তর শুরু হবে।
৬. এগুলো থেকেও যদি মুক্তি পাওয়া যায়, তাহলে কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যের সামনের স্তর পেছনের স্তর থেকে উচ্চ পর্যায়ের হবে। এমন উচ্চ পর্যায়ের হবে যে, যখন সামনের স্তরে পৌঁছবে তখন পেছনের স্তরের জন্য লজ্জিত হবে। আর তখন তাওবা করবে। সুতরাং প্রতিটি মানুষ সর্বদা ও সর্বাবস্থায় তাওবার মুখাপেক্ষী। [৩৮]
টিকাঃ
[৩৮] কিমিয়ায়ে সা'আদাত