📄 মুমিনের উপমা
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: مَثَلُ الْمُؤْمِنِ وَمَثَلُ الْإِيْمَانِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ فِي آخِيَّتِهِ يَجُولُ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى آخِيَّতِهِ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَنْسَى ثُمَّ يَرْجِعُ؛ فَأَطْعِمُوا طَعَامَكُمُ الْأَنْقِيَاءَ؛ وَأَوْلُوْا مَعْرُوْفَكُمُ الْمُؤْمِنِينَ
“হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—মুমিন ও ইমানের উপমা হল এমন, যেমন ঐ ঘোড়া যাকে কোন খুটিতে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর সে ঘুরাফেরা করে পুনরায় স্বীয় খুটির নিকট ফিরে আসে। (রশি তাকে দূরে যেতে ও চড়তে দেয় না) মুমিনের উপমাও ঠিক এমন। সে ভুলে যায় (গুনাহ করে ফেলে) পুনরায় ফিরে আসে...। এজন্য নিজের খানা নেককারদেরকে খাওয়াও এবং নিজের অনুগ্রহ মুমিনদের সাথে কর। "[৩৪]
টিকাঃ
[৩৪] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১৩৩৩
📄 বার বার তাওবা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَلَهُ ذَنْبٌ يَعْتَادُهُ الْفَيْنَةَ بَعْدَ الْفَيْنَةِ أَوْ ذَنْبٌ هُوَ مُقِيمٌ عَلَيْهِ لَا يُفَارِقُهُ حَتَّى يُفَارِقَ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ خُلِقَ مُفْتَنًا تَوَّابًا نَسَّاءً إِذَا ذُكِرَ ذَكَرَ
"হজরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—প্রত্যেক মুমিনেরই বিভিন্ন সময় কিছু গুনাহ হয়ে থাকে অথবা কিছু সে করে থাকে এবং তা ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়তে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়া না ছাড়ে। বাস্তবতা হল—মুমিনকে সৃষ্টিই করা হয়েছে এমনভাবে যে, সে বার বার গুনাহে লিপ্ত হয় এবং বার বার তাওবা করে। বার বার ভুলে যায়। যখন তাকে তাওবার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা গ্রহণ করে। (অথবা তাকে আল্লাহ তা'আলা স্বরণ করিয়ে দেয়, তখন সেও আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করে অর্থাৎ তাওবার দিকে অনুগামী হয়ে যায়)।[৩৫]
টিকাঃ
[৩৫] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৪১ হাদিস নং ১৭৫৩৩
📄 মৃত্যু কামনা নয় বরং তাওবা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ، وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যু কামনা করো না। কেননা সে যদি নেককার হয় তাহলে হয়তো তার নেক বৃদ্ধি পাবে। আর যদি সে গুনাহগার হয়, তাহলে হয়তো সে তাওবা করে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন করবে।”[৩৬]
টিকাঃ
[৩৬] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৭২৩৫
📄 স্বর্ণের পাহাড় চাই না, চাই তাওবার দরজা
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَتْ قُرَيْشٌ لِلنَّبِيِّ ﷺ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يَجْعَلْ لَنَا الصَّفَا ذَهَبًا فَإِنْ أَصْبَحَ ذَهَبًا اتَّبَعْنَاكَ فَدَعَا رَبَّهُ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ: إِنَّ رَبَّكَ يُقْرِئُكَ السَّلَامَ وَيَقُوْلُ لَكَ إِنْ شِئْتَ أَصْبَحَ لَهُمُ الصَّفَا ذَهَبًا فَمَنْ كَفَرَ مِنْهُمْ عَذَّبْتُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ وَإِنْ شِئْتَ فَتَحْتُ لَهُمْ بَابَ التَّوْبَةِ وَ الرَّحْمَةِ قَالَ: بَلْ بَابُ التَّوْبَةِ وَ الرَّحْمَةِ
“হজরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, কুরাইশরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন— আপনার রবের নিকট দু'আ করুন, তিনি যেন সাফা পাহাড়কে আমাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেন। তিনি যদি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা আপনার কথা মেনে নেব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু তাদের ইমানের অনেক বেশি প্রত্যাশী ছিলেন এজন্য নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু'আ করা শুরু করলেন। হজরত জিবারঈল আলাইহিস সালাম হাজির হলেন এবং আরজ করলেন— আপনার রব আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাকে বলেছেন যে, আপনি যদি চান তাহলে আমি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানিয়ে দেব। কিন্তু এরপরে যদি কেউ কুফরী করে, তাহলে তাকে এমন শাস্তি দিবেন যে, এমন শাস্তি এর পূর্বে আর কাউকে দেননি। আর যদি আপনি চান তাহলে আমি তাদের জন্য তাওবা এবং রহমতের দরজা খুলে দেব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— আমি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণ বানানো নয় বরং তাওবা এবং রহমতের দরজা চাই। "[৩৭]
টিকাঃ
[৩৭] তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ১৭৪৯২