📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত

📄 তাওবার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত


হে মুসলমানেরা! তাওবার দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত। আমাদের মহান রব আল্লাহ তা'আলা নিজেই আমাদের সকলকে তাওবার জন্য ডাকছেন। চাই কোন ডাকাত কিংবা চোর হোক, কোন মাদকাসক্ত কিংবা ব্যভিচারী হোক, কোন মিথ্যাবাদী কিংবা ধোঁকাবাজ হোক, কোন খিয়ানতকারী কিংবা হত্যাকারী হোক, কোন জুয়ারী কিংবা নেশাগ্রস্ত হোক। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[৩১]

সুবহানাল্লাহ! কারও জন্য তাওবার দরজা বন্ধ নয়। না কোন মুশরিকের জন্য, না কোন কাফিরের জন্য। তারাও তাওবা করে ইমান গ্রহণ করতে পারে। আর না কোন কবিরা গুনাহকারী মুসলমানের জন্য। আসুন! সকলে চলে আসুন। রবের রহমতের দিকে। রবের মাগফিরাতের দিকে এবং রবের জান্নাতের দিকে। হে আল্লাহ আমাদের সকলকে সত্যিকারের তাওবা করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সকলকে তাওবাকে কবুল করুন এবং আমাদের সকলকে তাওয়্যাবীন তথা তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন!

يَا غَفَّارُ يَا غَفُوْرُ يَا تَوَّাবُ يَا عَفُو يَا رَءُوْفُ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

আসুন! এ আয়াতটির উপর বরকতময় একটি বাণীও পাঠ করে নিই। হজরত শাহ আবদুল কাদের রাহি. এর তাফসির। শাহ আবদুল কাদের রাহি. বলেন—
"আল্লাহ তা'আলা যখন ইসলামকে বিজয়ী করলেন, তখন যে সকল কাফিররা ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত ছিল, তারা মনে করতে লাগল যে, নিশ্চয় ঐ দিকে (ইসলামের পক্ষে) আল্লাহ আছেন। এটা মনে করে তারা তাদের ভুল থেকে সরে গেল কিন্তু চক্ষু লজ্জায় মুসলমান হল না। বলতে লাগল যে, এখন কি আর আমাদের মুসলমানি কবুল হবে? ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা করেছি, লড়াই করেছি এবং কত আল্লাহ পূজারীকে হত্যা করেছি। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন— এমন কোন গুনাহ নেই, যার তাওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। হতাশ হয়ো না। তাওবা কর এবং ফিরে আসো। ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তবে মাথার উপর যখন আজাব চলে আসবে কিংবা মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু হয়ে যাবে, তখন আর তাওবা কবুল করা হবে না।"[৩২]

আমরা মুসলমানদের নিকট পরাজয় বরণকারী সোভিয়েত সৈন্য ও শাসকদেরকে এবং ইরাক ও আফগানিস্তানে আমাদের মুসলমানদের হাতে পরাজয় বরণ করে ফেরত যাওয়া সম্মিলিত বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আয়াতকে কাজে লাগাতে পারি। তাদেরকে দাওয়াত দিতে পারি যে, তাওবা করে ইমান গ্রহণ করে নাও। তারা তো নিজ চোখেই দেখেছে যে, আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদের সাথে আছেন। আর না হয় এমন বিশাল সামরিক শক্তি এমন নিরীহ-দুর্বল মুজাহিদদের সামনে এভাবে অসহায় মনে হত না।

টিকাঃ
[৩১] যুমার- ৩৯: ৫৩
[৩২] তাফসীরে উসমানী

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবার দরজা কত বড়?

📄 তাওবার দরজা কত বড়?


عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ لِلتَّوْبَةِ بَابًا عَرْضُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا يُغْلَقُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَّغْرِبِهَا

"হজরত সাফওয়ান ইবনে আস্সাল রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— তাওবার একটি দরজা রয়েছে। যার উভয় কপাটের মাঝে দূরত্ব হল পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্বের সমান। এ দরজা ঐ সময় পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতক্ষণ সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত না হবে।"[৩৩]

টিকাঃ
[৩৩] কানযুল উম্মাল: হাদিস নং ১০১৮৯

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 মুমিনের উপমা

📄 মুমিনের উপমা


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: مَثَلُ الْمُؤْمِنِ وَمَثَلُ الْإِيْمَانِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ فِي آخِيَّتِهِ يَجُولُ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى آخِيَّতِهِ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ يَنْسَى ثُمَّ يَرْجِعُ؛ فَأَطْعِمُوا طَعَامَكُمُ الْأَنْقِيَاءَ؛ وَأَوْلُوْا مَعْرُوْفَكُمُ الْمُؤْمِنِينَ

“হজরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—মুমিন ও ইমানের উপমা হল এমন, যেমন ঐ ঘোড়া যাকে কোন খুটিতে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর সে ঘুরাফেরা করে পুনরায় স্বীয় খুটির নিকট ফিরে আসে। (রশি তাকে দূরে যেতে ও চড়তে দেয় না) মুমিনের উপমাও ঠিক এমন। সে ভুলে যায় (গুনাহ করে ফেলে) পুনরায় ফিরে আসে...। এজন্য নিজের খানা নেককারদেরকে খাওয়াও এবং নিজের অনুগ্রহ মুমিনদের সাথে কর। "[৩৪]

টিকাঃ
[৩৪] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১৩৩৩

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বার বার তাওবা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য

📄 বার বার তাওবা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য


عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ إِلَّا وَلَهُ ذَنْبٌ يَعْتَادُهُ الْفَيْنَةَ بَعْدَ الْفَيْنَةِ أَوْ ذَنْبٌ هُوَ مُقِيمٌ عَلَيْهِ لَا يُفَارِقُهُ حَتَّى يُفَارِقَ وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ خُلِقَ مُفْتَنًا تَوَّابًا نَسَّاءً إِذَا ذُكِرَ ذَكَرَ

"হজরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—প্রত্যেক মুমিনেরই বিভিন্ন সময় কিছু গুনাহ হয়ে থাকে অথবা কিছু সে করে থাকে এবং তা ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়তে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়া না ছাড়ে। বাস্তবতা হল—মুমিনকে সৃষ্টিই করা হয়েছে এমনভাবে যে, সে বার বার গুনাহে লিপ্ত হয় এবং বার বার তাওবা করে। বার বার ভুলে যায়। যখন তাকে তাওবার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা গ্রহণ করে। (অথবা তাকে আল্লাহ তা'আলা স্বরণ করিয়ে দেয়, তখন সেও আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করে অর্থাৎ তাওবার দিকে অনুগামী হয়ে যায়)।[৩৫]

টিকাঃ
[৩৫] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৪১ হাদিস নং ১৭৫৩৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px