📄 তাওবা সম্পর্কে একটি হৃদয়গ্রাহী বাণী
সর্বদা গুনাহ থেকে পবিত্র থাকা একমাত্র ফেরেশতাদের কাজ এবং তাদের পক্ষেই সম্ভব। সর্বদা গুনাহে ডুবে থাকা এবং হকের বিরোধিতায় লিপ্ত থ াকা শয়তানের কাজ। আর এ দুটির মধ্যবর্তী থেকে গুনাহ ত্যাগ করে তাওবাকারী হওয়া এবং আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হওয়া এটা হল হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও বনী আদমের বৈশিষ্ট্য। আর বাস্তবতা হল যে ব্যক্তি তাওবা করে অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা ও মার্জনার চেষ্টা করে, সে যেন স্বীয় পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালামের সাথেই নিজের সম্পর্ক ঠিক করে নিল। যে ব্যক্তি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গুনাহ ও অবাধ্যতার উপর অটল রইল, সে যেন শয়তানের সাথে নিজের সম্পর্ক স্থাপন করে নিল এবং এটাকেই সুদৃঢ় করতে ব্যস্ত রইল। [২৯]
টিকাঃ
[২৯] কিমিয়ায়ে সা'আদাত
📄 তাওবাকারী পরিশ্রমী আবেদ থেকেও অগ্রগামী
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْبُقَ التَّائِبَ الْمُجْتَهِدَ فَلْيَكُفَّ عَنِ الذُّنُوْبِ
“হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—যে ব্যক্তি চায় যে সে ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রমকারী (রিয়াজাত ও মুজাহাদাকারী) আবেদের চেয়েও অগ্রগামী হবে, তার জন্য কর্তব্য হল গুনাহ থেকে বিরত থাকা। "[৩০]
আপনার আশেপাশে যদি এমন কোন ব্যক্তি থাকে যার ইবাদাত ও মুজাহাদার উপর আপনার ঈর্ষা হয় কিন্তু স্বল্প সাহসের কারণে তার মত ইবাদাতের শুধুমাত্র আকাঙ্ক্ষাই করে যাচ্ছেন, তাহলে আপনার জন্য উত্তম সুযোগ হল, সকল গুনাহ থেকে তাওবা করা এবং সন্দেহ ও সংশয় থেকেও দূরে থাকা। তাহলে আপনার উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে। তাওবা এমন এক মহৌষধ যা একজন সাধারণ মানুষকে ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রমকারী (রিয়াজাত ও মুজাহাদাকারী) আবেদের মর্যাদায় উন্নীত করে দেয়।
اللهم ارزقنا صدق النية واجعلنا من التوابين
টিকাঃ
[৩০] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৩৯ হাদিস নং ১৭৫২৮
📄 তাওবার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত
হে মুসলমানেরা! তাওবার দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত। আমাদের মহান রব আল্লাহ তা'আলা নিজেই আমাদের সকলকে তাওবার জন্য ডাকছেন। চাই কোন ডাকাত কিংবা চোর হোক, কোন মাদকাসক্ত কিংবা ব্যভিচারী হোক, কোন মিথ্যাবাদী কিংবা ধোঁকাবাজ হোক, কোন খিয়ানতকারী কিংবা হত্যাকারী হোক, কোন জুয়ারী কিংবা নেশাগ্রস্ত হোক। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“বল, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[৩১]
সুবহানাল্লাহ! কারও জন্য তাওবার দরজা বন্ধ নয়। না কোন মুশরিকের জন্য, না কোন কাফিরের জন্য। তারাও তাওবা করে ইমান গ্রহণ করতে পারে। আর না কোন কবিরা গুনাহকারী মুসলমানের জন্য। আসুন! সকলে চলে আসুন। রবের রহমতের দিকে। রবের মাগফিরাতের দিকে এবং রবের জান্নাতের দিকে। হে আল্লাহ আমাদের সকলকে সত্যিকারের তাওবা করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সকলকে তাওবাকে কবুল করুন এবং আমাদের সকলকে তাওয়্যাবীন তথা তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন!
يَا غَفَّارُ يَا غَفُوْرُ يَا تَوَّাবُ يَا عَفُو يَا رَءُوْفُ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
আসুন! এ আয়াতটির উপর বরকতময় একটি বাণীও পাঠ করে নিই। হজরত শাহ আবদুল কাদের রাহি. এর তাফসির। শাহ আবদুল কাদের রাহি. বলেন—
"আল্লাহ তা'আলা যখন ইসলামকে বিজয়ী করলেন, তখন যে সকল কাফিররা ইসলামের শত্রুতায় লিপ্ত ছিল, তারা মনে করতে লাগল যে, নিশ্চয় ঐ দিকে (ইসলামের পক্ষে) আল্লাহ আছেন। এটা মনে করে তারা তাদের ভুল থেকে সরে গেল কিন্তু চক্ষু লজ্জায় মুসলমান হল না। বলতে লাগল যে, এখন কি আর আমাদের মুসলমানি কবুল হবে? ইসলামের বিরুদ্ধে শত্রুতা করেছি, লড়াই করেছি এবং কত আল্লাহ পূজারীকে হত্যা করেছি। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন— এমন কোন গুনাহ নেই, যার তাওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। হতাশ হয়ো না। তাওবা কর এবং ফিরে আসো। ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তবে মাথার উপর যখন আজাব চলে আসবে কিংবা মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু হয়ে যাবে, তখন আর তাওবা কবুল করা হবে না।"[৩২]
আমরা মুসলমানদের নিকট পরাজয় বরণকারী সোভিয়েত সৈন্য ও শাসকদেরকে এবং ইরাক ও আফগানিস্তানে আমাদের মুসলমানদের হাতে পরাজয় বরণ করে ফেরত যাওয়া সম্মিলিত বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আয়াতকে কাজে লাগাতে পারি। তাদেরকে দাওয়াত দিতে পারি যে, তাওবা করে ইমান গ্রহণ করে নাও। তারা তো নিজ চোখেই দেখেছে যে, আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদের সাথে আছেন। আর না হয় এমন বিশাল সামরিক শক্তি এমন নিরীহ-দুর্বল মুজাহিদদের সামনে এভাবে অসহায় মনে হত না।
টিকাঃ
[৩১] যুমার- ৩৯: ৫৩
[৩২] তাফসীরে উসমানী
📄 তাওবার দরজা কত বড়?
عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ لِلتَّوْبَةِ بَابًا عَرْضُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا يُغْلَقُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَّغْرِبِهَا
"হজরত সাফওয়ান ইবনে আস্সাল রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— তাওবার একটি দরজা রয়েছে। যার উভয় কপাটের মাঝে দূরত্ব হল পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্বের সমান। এ দরজা ঐ সময় পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতক্ষণ সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত না হবে।"[৩৩]
টিকাঃ
[৩৩] কানযুল উম্মাল: হাদিস নং ১০১৮৯