📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 উত্তম গুনাহগার কে?

📄 উত্তম গুনাহগার কে?


عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ

“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—প্রত্যেক আদম সন্তানই কমবেশী গুনাহগার। আর উত্তম গুনাহগার হল ঐ ব্যক্তি যে বেশি বেশি তাওবা করে। [২৭]

টিকাঃ
[২৭] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪২৫১; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৭৬৯

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বার বার পিছলে পড়া এবং বার বার উঠে দাঁড়ানো

📄 বার বার পিছলে পড়া এবং বার বার উঠে দাঁড়ানো


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَডِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ الْمُفْتَنَ التَّوَّابَ

“হজরত আলী রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার এমন মুমিন বান্দাই পছন্দ, যে বার বার গুনাহে (শয়তানের ধোকায় পড়ে) লিপ্ত হয় এবং সে বার বার তাওবা করে। "[২৮]

তাওবা যদি বার বার ভেঙ্গে যায়, তাহলে শয়তানের এই ধোঁকায় পড়া উচিত নয় যে, কতক্ষণ পর্যন্ত স্বীয় রবের সাথে এমন ঠাট্টা করতে থাকবে। অনেক বার তো তাওবা ভেঙ্গে ফেললে। সুতরাং তাওবা ছেড়ে দাও। মূলত বিষয়টি এমন নয়, বরং বার বার তাওবা করা আল্লাহ তা'আলার অধিক প্রিয়।

টিকাঃ
[২৮] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৮১০

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবা সম্পর্কে একটি হৃদয়গ্রাহী বাণী

📄 তাওবা সম্পর্কে একটি হৃদয়গ্রাহী বাণী


সর্বদা গুনাহ থেকে পবিত্র থাকা একমাত্র ফেরেশতাদের কাজ এবং তাদের পক্ষেই সম্ভব। সর্বদা গুনাহে ডুবে থাকা এবং হকের বিরোধিতায় লিপ্ত থ াকা শয়তানের কাজ। আর এ দুটির মধ্যবর্তী থেকে গুনাহ ত্যাগ করে তাওবাকারী হওয়া এবং আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হওয়া এটা হল হজরত আদম আলাইহিস সালাম ও বনী আদমের বৈশিষ্ট্য। আর বাস্তবতা হল যে ব্যক্তি তাওবা করে অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা ও মার্জনার চেষ্টা করে, সে যেন স্বীয় পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালামের সাথেই নিজের সম্পর্ক ঠিক করে নিল। যে ব্যক্তি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গুনাহ ও অবাধ্যতার উপর অটল রইল, সে যেন শয়তানের সাথে নিজের সম্পর্ক স্থাপন করে নিল এবং এটাকেই সুদৃঢ় করতে ব্যস্ত রইল। [২৯]

টিকাঃ
[২৯] কিমিয়ায়ে সা'আদাত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবাকারী পরিশ্রমী আবেদ থেকেও অগ্রগামী

📄 তাওবাকারী পরিশ্রমী আবেদ থেকেও অগ্রগামী


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْبُقَ التَّائِبَ الْمُجْتَهِدَ فَلْيَكُفَّ عَنِ الذُّنُوْبِ

“হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—যে ব্যক্তি চায় যে সে ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রমকারী (রিয়াজাত ও মুজাহাদাকারী) আবেদের চেয়েও অগ্রগামী হবে, তার জন্য কর্তব্য হল গুনাহ থেকে বিরত থাকা। "[৩০]

আপনার আশেপাশে যদি এমন কোন ব্যক্তি থাকে যার ইবাদাত ও মুজাহাদার উপর আপনার ঈর্ষা হয় কিন্তু স্বল্প সাহসের কারণে তার মত ইবাদাতের শুধুমাত্র আকাঙ্ক্ষাই করে যাচ্ছেন, তাহলে আপনার জন্য উত্তম সুযোগ হল, সকল গুনাহ থেকে তাওবা করা এবং সন্দেহ ও সংশয় থেকেও দূরে থাকা। তাহলে আপনার উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে। তাওবা এমন এক মহৌষধ যা একজন সাধারণ মানুষকে ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রমকারী (রিয়াজাত ও মুজাহাদাকারী) আবেদের মর্যাদায় উন্নীত করে দেয়।
اللهم ارزقنا صدق النية واجعلنا من التوابين

টিকাঃ
[৩০] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৩৯ হাদিস নং ১৭৫২৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px