📄 কাল নয়, আজই তাওবা করুন
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: التَّسْوِيفُ شِعَارُ الشَّيْطَانِ يُلْقِيْهِ فِي قُلُوْبِ الْمُؤْمِنِينَ
"হজরত আবদুর রহমান বিন আউফ রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তাওবা ও নেক আমলকে বিলম্ব করা শয়তানের তরিকা। যা সে ইমানদারদের অন্তরে জাগ্রত করে।"[২৫]
তাওবার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা উচিত নয়। কারণ মৃত্যুর তো কোন ঠিক নেই কখন এসে গ্রাস করে। “কাল তাওবা করব, কাল তাওবা করব” এটা হল শয়তানের ধোঁকা। যা সে মুমিনদের অন্তরে জাগ্রত করে থাকে। সুতরাং ইমানদারদের শয়তানের আনুগত্য করা উচিত নয়।
টিকাঃ
[২৫] ফিরদাউসে দায়লামী
📄 খারাপ দিন কোনটি?
আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে খারাপ দিন এবং খারাপ রাতসমূহ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আপনারা কি জানেন যে, খারাপ দিন কোনটি? হ্যাঁ! খারাপ দিন হল সেদিন সেদিন মানুষের কোন গুনাহ হয়ে যায়, জুলুম হয়ে যায় এবং তাওবার তাওফিক হয় না। আমরা তো মনে করি যেদিন আমাদের নিকট কোন টাকা-পয়সা না থাকে কিংবা কোন বিপদাপদ আসে, সেদিনটি হল খারাপ দিন। আসলে এমনটি নয়। এক বর্ণনায় এসেছে—মৃত্যু হল গণিমত আর গুনাহ হল মুসিবত। অভাব- অনটন হল শান্তি আর প্রাচুর্য হল শাস্তি তথা পরীক্ষা। বিবেক হল আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে উপহার আর মূর্খতা হল পথভ্রষ্টতা। জুলুম হল লজ্জা আর আল্লাহ তা'আলার অনুগত্য হল চোখের শীতলতা। আল্লাহ তা'আলার ভয়ে কাঁদা হল জাহান্নাম থেকে মুক্তি আর হাসি হল শরীরের ধ্বংস। আর গুনাহসমূহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি হল ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কোন গুনাহ নেই। [২৬]
টিকাঃ
[২৬] বায়হাকী
📄 উত্তম গুনাহগার কে?
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ : كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—প্রত্যেক আদম সন্তানই কমবেশী গুনাহগার। আর উত্তম গুনাহগার হল ঐ ব্যক্তি যে বেশি বেশি তাওবা করে। [২৭]
টিকাঃ
[২৭] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪২৫১; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ২৭৬৯
📄 বার বার পিছলে পড়া এবং বার বার উঠে দাঁড়ানো
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَডِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ الْمُفْتَنَ التَّوَّابَ
“হজরত আলী রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার এমন মুমিন বান্দাই পছন্দ, যে বার বার গুনাহে (শয়তানের ধোকায় পড়ে) লিপ্ত হয় এবং সে বার বার তাওবা করে। "[২৮]
তাওবা যদি বার বার ভেঙ্গে যায়, তাহলে শয়তানের এই ধোঁকায় পড়া উচিত নয় যে, কতক্ষণ পর্যন্ত স্বীয় রবের সাথে এমন ঠাট্টা করতে থাকবে। অনেক বার তো তাওবা ভেঙ্গে ফেললে। সুতরাং তাওবা ছেড়ে দাও। মূলত বিষয়টি এমন নয়, বরং বার বার তাওবা করা আল্লাহ তা'আলার অধিক প্রিয়।
টিকাঃ
[২৮] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৮১০