📄 তাওবা কবুল হওয়ার নিদর্শন
কোন বান্দা যখন খাঁটি অন্তরে তাওবা করে, আল্লাহ তা'আলা এমন তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। যেমন কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ
। “নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালবাসেন। "[২২]
যে ব্যক্তির তাওবা কবুল হয়ে যায়, আল্লাহ তা'আলার ভালোবাসার বরকতে তার কয়েকটি নিদর্শন লাভ হয়। যথা—
ক. নেককার ও ইমানদারদের সংশ্রবের আগ্রহ এবং খারাপ বন্ধু-বান্ধব এবং মন্দ লোকদের সংশ্রব থেকে বেঁচে থাকা।
খ. গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং নেক কাজের আগ্রহ।
গ. অন্তর থেকে দুনিয়ার মহব্বত ও ভালোবাসা বের হয়ে যাওয়া। দুনিয়া তার হাতে থাকবে, কিন্তু অন্তরে প্রবেশ করবে না। সে তার দুনিয়াকেও দীন অনুযায়ী চালাবে এবং খরচ করবে।
ঘ. আল্লাহ তা'আলার বিধানসমূহ এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতসমূহের অনুসরণের আগ্রহ। [২৩]
টিকাঃ
[২২] বাকারা- ২: ২২২
[২৩] আল-হুব্বু ওয়াল-বুগদু ফিল-কুরআন
📄 অনুতপ্ত হলেই মাগফিরাত
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَنْ أَصَابَ ذَنْبًا فَنَدِمَ غَفَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ ذَالِكَ الذَّنْبَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَسْتَغْفِرَهُ
"হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—কোন ব্যক্তি যদি গুনাহ করে অনুতপ্ত হয়, তাহলে ঐ ব্যক্তি উক্ত গুনাহ থেকে তাওবা করার পূর্বেই আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেন। "[২৪]
টিকাঃ
[২৪] মু'জামুল আওসাত লিত-তাবরানী
📄 কাল নয়, আজই তাওবা করুন
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: التَّسْوِيفُ شِعَارُ الشَّيْطَانِ يُلْقِيْهِ فِي قُلُوْبِ الْمُؤْمِنِينَ
"হজরত আবদুর রহমান বিন আউফ রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—তাওবা ও নেক আমলকে বিলম্ব করা শয়তানের তরিকা। যা সে ইমানদারদের অন্তরে জাগ্রত করে।"[২৫]
তাওবার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা উচিত নয়। কারণ মৃত্যুর তো কোন ঠিক নেই কখন এসে গ্রাস করে। “কাল তাওবা করব, কাল তাওবা করব” এটা হল শয়তানের ধোঁকা। যা সে মুমিনদের অন্তরে জাগ্রত করে থাকে। সুতরাং ইমানদারদের শয়তানের আনুগত্য করা উচিত নয়।
টিকাঃ
[২৫] ফিরদাউসে দায়লামী
📄 খারাপ দিন কোনটি?
আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে খারাপ দিন এবং খারাপ রাতসমূহ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আপনারা কি জানেন যে, খারাপ দিন কোনটি? হ্যাঁ! খারাপ দিন হল সেদিন সেদিন মানুষের কোন গুনাহ হয়ে যায়, জুলুম হয়ে যায় এবং তাওবার তাওফিক হয় না। আমরা তো মনে করি যেদিন আমাদের নিকট কোন টাকা-পয়সা না থাকে কিংবা কোন বিপদাপদ আসে, সেদিনটি হল খারাপ দিন। আসলে এমনটি নয়। এক বর্ণনায় এসেছে—মৃত্যু হল গণিমত আর গুনাহ হল মুসিবত। অভাব- অনটন হল শান্তি আর প্রাচুর্য হল শাস্তি তথা পরীক্ষা। বিবেক হল আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে উপহার আর মূর্খতা হল পথভ্রষ্টতা। জুলুম হল লজ্জা আর আল্লাহ তা'আলার অনুগত্য হল চোখের শীতলতা। আল্লাহ তা'আলার ভয়ে কাঁদা হল জাহান্নাম থেকে মুক্তি আর হাসি হল শরীরের ধ্বংস। আর গুনাহসমূহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি হল ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কোন গুনাহ নেই। [২৬]
টিকাঃ
[২৬] বায়হাকী