📄 বান্দার তাওবায় আল্লাহ তা‘আলা কেমন খুশি হন?
اللهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ التَّائِبِ مِنَ الظَّمْآنِ الْوَارِدِ؛ وَমِنَ الْعَقِيْمِ الْوَالِدِ وَমِنَ الضَّالِ الْوَاجِدِ؛ فَمَنْ تَابَ إِلَى اللَّهِ تَوْبَةٌ نَصُوْحًا اَنْسَى اللَّهُ حَافِظَيْهِ وَجَوارِحَهُ وَبِقَاعَ الْاَرْضِ كُلَّهَا خَطَايَاهَ وَذُنُوْبَهُ
“আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীর তাওবার দ্বারা পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি পেলে ও নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান লাভ করলে এবং কোন বস্তু হারানো ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়া বস্তু পেলে যেমন খুশি হন, তারচেয়েও অধিক খুশি হন। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নিকট খাঁটি তাওবা করে, আল্লাহ তা'আলা তার ভুল-ত্রুটি ও গুনাহসমূহ তাঁর দুই ফেরেশতা ও গুনাহকারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ এবং জমিনের সকল অংশকে ভুলিয়ে দেন।”[১১]
অর্থাৎ একজন পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি পেলে যেমন খুশি হয় অথবা কোন নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান লাভ করলে যেমন খুশি হয় কিংবা কোন বস্তু হারানো ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়া বস্তু ফিরে পেলে যেমন খুশি হন, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দার তাওবার উপর এরচেয়েও অধিক খুশি হন।
টিকাঃ
[১১] আবুল আব্বাস
📄 কতক্ষণ পর্যন্ত তাওবা কবুল হবে?
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
"হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবা কবুল করে থাকেন বান্দার গড়গড়া তথা মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। (মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু হওয়ার পর আর তাওবা কবুল হবে না।)"[১২]
টিকাঃ
[১২] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৫৩৭: সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪২৫৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৬১৬০
📄 তাওবা একমাত্র আল্লাহর জন্য
عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أُتِيَ بِأَسِيرٍ فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَتُوْبُ إِلَيْكَ وَلَا أَتُوْبُ إِلَى مُحَمَّدٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ عَرَفَ الْحَقَّ لِأَهْلِهِ
“হজরত আসওয়াদ ইবনে সারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এক বন্দিকে আনা হল, যে বলেছে হে আল্লাহ! আমি আপনার দরবারে তাওবা করছি। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে নয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা শুনে বললেন—عَرَفَ الْحَقَّ لِأَهْلِهِ অর্থাৎ সে হকদারের হককে সঠিকভাবে বুঝেছে। "[১৩]
টিকাঃ
[১৩] মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৫৫৮৭
📄 তাওবা কবুল হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত
মনে রাখবেন কবিরা গুনাহ হোক আর সগিরা গুনাহ হোক, তাওবার দরজা সর্বদাই উন্মুক্ত। সুতরাং তাওবা করতে বিলম্ব করা একদমই উচিত নয়। সাথে সাথেই খাঁটি তাওবা ও বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উচিত। খাঁটি তাওবার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। যথা—
প্রথম শর্ত: الاخلاص لله تعالى তথা তাওবা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ভয়ে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য হওয়া। এ ছাড়া অন্য কারো ভয়ে কিংবা দুনিয়াবী ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য না হওয়া। সুতরাং শুধু এই চিন্তা করা যে, আমি আমার মহান রব ও মালিকের বিরুদ্ধাচরণ করেছি। এখন আমি তাঁকে সন্তষ্টি করব। তাঁর আজাব থেকে বাঁচব এবং তাঁর প্রতিদান লাভ করব।
দ্বিতীয় শর্ত: الندم على فعل الذنب তথা নিজ গুনাহের উপর অনুতপ্ত হওয়া। হায় হায় আমার থেকে এই ভুল এবং গুনাহ কেন হয়ে গেল? লজ্জিত হওয়া, আফসোস করা ও অনুতপ্ত হওয়া। কেননা যদি অনুতপ্ত না হয়, তাহলে এটা হল স্বীয় গুনাহের উপর সন্তুষ্ট হওয়ার লক্ষণ।
তৃতীয় শর্ত: الاقلاع عن الذنب তথা যে গুনাহের জন্য তাওবা করা হচ্ছে, উক্ত গুনাহ পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দেওয়া। উক্ত গুনাহের সম্পর্ক যদি কোন কাজের সাথে হয়, যেমন: চুরি করা, মাদক গ্রহণ করা, মিথ্যা কথা বলা ইত্যাদি তাহলে উক্ত কাজ পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দেওয়া। আর যদি উক্ত গুনাহের সম্পর্ক শরীয়াতের কোন ফরজ-ওয়াজিব বিধানের প্রতি অলসতা প্রদর্শন হয়, তাহলে তা আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
চতুর্থ শর্ত: العزم على ان لا يعود اليه তথা ভবিষ্যতে আর কখনো এই গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।
পঞ্চম শর্ত: ان تكون التوبة في الوقت المسموح তথা তাওবা এমন সময়ের মধ্যে হওয়া, যে সময়ে তাওবা কবুল করা হবে। আর যদি সে সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে ফিরআউনের মত তার তাওবাও কবুল হবে না। তাওবার সময় হল গড়গড়া তথা মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু হওয়া আগ পর্যন্ত। মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু হওয়ার পর আর তাওবা কবুল হবে না। এমনিভাবে যেদিন সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে, সেদিন তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। আর এটা হবে কিয়ামতের পূর্বে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা পশ্চিম দিগন্তে তাওবার জন্য একটি দরজা স্থাপন করেছেন। যার প্রশ্বস্ততা সত্তর বছরের দূরত্বের সমান। আর এই দরজা খোলা থাকবে পশ্চিম দিকে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত।