📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাওবার আভিধানিক অর্থ

📄 তাওবার আভিধানিক অর্থ


তাওবার মূল অর্থ হল—আল্লাহ তা'আলার দিকে ফিরে আসা এবং অন্তর থেকে মনোযোগী হওয়া। যেমন কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا
। "তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর।"[১]। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের দিকে ফিরে আসো এবং নৈকট্য অর্জন কর। [২]

والتوبة الرجوع من الذنب
তাওবা অর্থ গুনাহ থেকে ফিরে আসা তথা গুনাহকে ছেড়ে দেওয়া। [৩]

হাদিস শরিফে তাওবার অর্থ করা হয়েছে লজ্জিত হওয়া ও অনুতপ্ত হওয়াকে।

وقال الاصفهاني: التوب ترك الذنب على اجمل الوجود وهو ابلغ وجوه الاعتذار
অর্থাৎ তাওবার অর্থ হল অনেক উত্তম পদ্ধতিতে গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। আর এটাই অক্ষমতার সর্বোত্তম পন্থা।[৪]

وتاب الى الله يتوب توبا وتوبة ومتابا: اى اناب ورجع عن المعصية الى الطاعة
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা করার অর্থ হল আল্লাহ তা'আলার অভিমুখী হওয়া এবং গুনাহ থেকে নেকির দিকে ফিরে আসা। (মুসলমানের আসল মর্যাদা তো ছিল আনুগত্য। কিন্তু তারা কখনো কখনো ভুল করে গুনাহের ফাঁদে পড়ে যায়। তারপর যখন তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়, তখন এই ধ্বংসাত্মক ফাঁদ থেকে পুনরায় স্বীয় মর্যাদা তথা আনুগত্যের দিকে চলে আসে। এটাই তাওবা।)
وتاب الله عليه اى وفقه لها তথা আল্লাহ তা'আলা তার উপর তাওবা করলেন অর্থাৎ তাকে গুনাহ ছেড়ে নেকির দিকে আসার তাওফিক দান করলেন।[৫]

التواب العبد الكثير التوبة؛ وذلك بتركه كل وقت بعض الذنوب على الترتيب حتى يصيرتار كالجميعة
তাওয়াব অর্থ হল—অধিক তাওবাকারী বান্দা। আর তাকে এজন্য তাওয়াব বলা হয় যে, সে সর্বদা গুনাহ থেকে বাঁচতে চেষ্টা করে থাকে। এমনকি সে সকল গুনাহ ছেড়ে দেয়।

وقد يقال ذلك الله تعالى لكثرة قبوله توية العباد حالا بعد حال
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলাকেও তাওয়াব বলা হয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বার বার স্বীয় বান্দাদের তাওবা কবুল করে থাকেন।

তাওবার অর্থ দুটি:
পবিত্র কুরআনুল কারিমে তাওবা শব্দটি সাধারণত দুটি অর্থে এসেছে। যথা—
ক. কোন বান্দা গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। যেমন ইরশাদ হয়েছে—
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى
“আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ইমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে।” [৬]

খ. আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবাকে কবুল করা। যেমন ইরশাদ হয়েছে—
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَبِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
“তবে তাদেরকে ব্যতীত যারা তাওবা করেছে, শুধরে নিয়েছে এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। অতএব, আমি তাদের তাওবা কবুল করব। আর আমি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” [৭]

বান্দা যখন খাঁটি অন্তরে তাওবা করে, অর্থাৎ গুনাহ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা'আলাও তখন তার উপর তাওবা করেন, অর্থাৎ তার ফিরে আসাকে কবুল করে নেন। সুতরাং বিলম্ব কিসের? আমাদের সকলের দ্রুত তাওবা করা উচিত এবং ক্ষমার পরিপূর্ণ বিশ্বাসের সাথে তাওবা করা উচিত। আমরা কেন নিজের উপর রহমতের দরজা বন্ধ করব এবং এটা ভাবব যে, আমার ক্ষমা পাওয়া অসম্ভব। আস্তাগফিরুল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! এমন ভাবনা অনেক খারাপ কথা। কেননা আল্লাহ তা'আলার জন্য তো কোন কাজই কঠিন নয়।

টিকাঃ
[১] নূর- ২৪: ৩১
[২] তাহযীবুল লুগাহ
[৩] লিসানুল আরব
[৪] মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন
[৫] লিসানুল আরব
[৬] ত্ব-হা- ২০: ৮২
[৭] বাকারা- ২: ১৬০

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইনাবাত অর্থ তাওবা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা

📄 ইনাবাত অর্থ তাওবা এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা


প্রসিদ্ধ আরবী অভিধান লিসানুল আরবে লিখেন—
ناب فلان الى الله تعالى واناب اليه انابة فهو منيب: اقبل وتاب ورجع الى الطاعة
অর্থাৎ ناب এবং اناب الى الله অর্থ হল অভিমুখী হওয়া। তাওবা করা এবং আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা। যেমন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন—
وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ
"আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের উপর আজাব আসার পূর্বেই তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর।"[৮]

এক বর্ণনা মতে এই আয়াতটি ঐ ব্যক্তিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যাদেরকে ইসলাম গ্রহণের কারণে মক্কায় অনেক জুলুম-নির্যাতন করা হয়েছে। যার ফলে তারা কুফুরী বাক্য বলে ফেলেছে। তখন তাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছিল যে, এ লোকেরা যদি এখন দ্বিতীয় বার মুসলমান হয়ও তথাপিও তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করলেন যে, তারা যদি তাওবা করে নেয় এবং ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। [৯]

আরও একটি প্রসিদ্ধ অভিধান "আস-সিহাহ” গ্রন্থে এসেছে—
واناب الى الله اي اقبل وتاب
অর্থাৎ ইনাবাত ইলাল্লাহ অর্থ হল—অভিমুখী হওয়া ও তাওবা করা। [১০]

টিকাঃ
[৮] যুমার- ৩৯: ৫৪
[৯] লিসানুল আরব: ১৪/৩১৯
[১০] আস-সিহাহ: ১/২২৯

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বান্দার তাওবায় আল্লাহ তা‘আলা কেমন খুশি হন?

📄 বান্দার তাওবায় আল্লাহ তা‘আলা কেমন খুশি হন?


اللهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ التَّائِبِ مِنَ الظَّمْآنِ الْوَارِدِ؛ وَমِنَ الْعَقِيْمِ الْوَالِدِ وَমِنَ الضَّالِ الْوَاجِدِ؛ فَمَنْ تَابَ إِلَى اللَّهِ تَوْبَةٌ نَصُوْحًا اَنْسَى اللَّهُ حَافِظَيْهِ وَجَوارِحَهُ وَبِقَاعَ الْاَرْضِ كُلَّهَا خَطَايَاهَ وَذُنُوْبَهُ

“আল্লাহ তা'আলা তাওবাকারীর তাওবার দ্বারা পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি পেলে ও নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান লাভ করলে এবং কোন বস্তু হারানো ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়া বস্তু পেলে যেমন খুশি হন, তারচেয়েও অধিক খুশি হন। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নিকট খাঁটি তাওবা করে, আল্লাহ তা'আলা তার ভুল-ত্রুটি ও গুনাহসমূহ তাঁর দুই ফেরেশতা ও গুনাহকারীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ এবং জমিনের সকল অংশকে ভুলিয়ে দেন।”[১১]

অর্থাৎ একজন পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি পেলে যেমন খুশি হয় অথবা কোন নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান লাভ করলে যেমন খুশি হয় কিংবা কোন বস্তু হারানো ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়া বস্তু ফিরে পেলে যেমন খুশি হন, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দার তাওবার উপর এরচেয়েও অধিক খুশি হন।

টিকাঃ
[১১] আবুল আব্বাস

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 কতক্ষণ পর্যন্ত তাওবা কবুল হবে?

📄 কতক্ষণ পর্যন্ত তাওবা কবুল হবে?


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ

"হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন— আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবা কবুল করে থাকেন বান্দার গড়গড়া তথা মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। (মৃত্যুর বিভীষিকা শুরু হওয়ার পর আর তাওবা কবুল হবে না।)"[১২]

টিকাঃ
[১২] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৫৩৭: সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪২৫৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৬১৬০

ফন্ট সাইজ
15px
17px