📄 প্রিয় এবং কার্যকারী
প্রিয় এবং কার্যকারী একটি দু'আ
হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-যখন আল্লাহর নবি হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটের মধ্যে এ কালিমাসমূহের দ্বারা দু'আ করলেন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
তখন তার দু'আ আরশ পর্যন্ত পৌছেছে। ফেরেশতারা আরজ করলেন, এটি একটি দুর্বল এবং জানাশোনা আওয়াজ অপরিচিত কোন স্থান থেকে আসছে। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-তোমরা কি তাকে চিনো না? ফেরেশতারা আরজ করলেন, হে আমাদের রব! এটা কে? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-এটা তো আমার বান্দা ইউনুস। ফেরেশতারা আরজ করলেন, আপনার সেই বান্দা ইউনুস, যার প্রিয় আমল ও গ্রহণযোগ্য দু'আসমূহ সর্বদা আপনি পর্যন্ত পৌঁছতো। হে আমাদের রব! সে তো সুখের সময় আমল করত। তাহলে আপনি কি তার উপর অনুগ্রহ করবেন না? তার বিপদের সময়ে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন না? আল্লাহ তা'আলা বলেন-কেন নয়! অতঃপর আল্লাহ তা'আলা মাছকে নির্দেশ দিলেন। মাছ তখন তাকে বমি করে দিল।
হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটে কত দিন ছিলেন এই নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যথা-
১. চল্লিশ দিন। (সাঈদ বিন আবুল হাসান আল-বসরী রাহি.)
২. সাত দিন। (জাফর সাদেক রাহি.)
৩. তিন দিন। (হজরত কাতাদাহ রাহি.)
৪. মাত্র কয়েক ঘণ্টা। দুপরের দিকে গিলেছে এবং সন্ধ্যার সময় বমি করে দিয়েছে। (শাবীরাহি.)
টিকাঃ
৯. তাফসীরে ইবনে কাসীর; তাফসীরে রুহুল মা'আনী
১০. তাফসীরে ইবনে কাসীর
১১. তাফসীরে রুহুল মা'আনী
১২. প্রাগুক্ত
১৩. প্রাগুক্ত
📄 ইমাম আলূসী বাগদাদি রাহি. এর সাক্ষ্য
প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থ তাফসীরে রুহুল মা'আনীর লেখক আল্লামা সাইয়্যেদ মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রাহি. এই আয়াতের তাফসীরে লিখেন—
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُবْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
যখন আল্লাহ তা'আলার এক ওলী মুসাফির আমাকে এ দু'আটির নির্দেশ দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ! তখন আমি নিজেই এ দু'আটির কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ করেছি। ঐ সময় আমার উপর এমন পরীক্ষা এসেছিল, যা একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জানেন। (অর্থাৎ অনেক কঠিন পরীক্ষা ও বিপদ এসেছিল। যা এ দু'আর বরকতে আল্লাহ তা'আলা দূর করে দিয়েছেন।)
টিকাঃ
[১৪] তাফসীরে রুহুল মা'আনী
📄 উম্মতে মুহাম্মাদির উপর আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য অনুগ্রহ
উম্মাতে মুহাম্মাদির উপর আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য অনুগ্রহ। এই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার টিকিট হল-
لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدُ الرَّসُوْলُ اللَّهِ
আর সালাত এবং জিহাদ হল এই কালিমার সত্যায়নের দলীল। বাস্তবেই আমরা অন্তর থেকে কালিমা পড়েছি। এক বর্ণনায় তো এমনও এসেছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা হাসতে হাসতে তাওয়াজ্জুহ দেবেন আর বলবেন- হে মুসলমানেরা! আমি তোমাদের প্রত্যেকের পরিবর্তে জাহান্নামে তার স্থানে কোন ইহুদি কিংবা খ্রিস্টানকে নিক্ষেপ করে দিয়েছি। আল্লাহ তা'আলা যখন মাখলুককে সৃষ্টি করেছেন, তখন একটি কথা লিখেছেন এবং তা আল্লাহ তা'আলার নিকট আরশের উপরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। আর তা হল- নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গজবের উপর অগ্রগামী। আল্লাহু আকবার কাবীরা! এই রহমতও এ উম্মতের ব্যক্তিদের উপরই করা হবে। তবে হ্যাঁ! এটাও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, এই উম্মতের এমনও অনেক ব্যক্তিকে গুনাহের কারণে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। যেখানে শাস্তি ভোগ করে তারপর জান্নাতে আসবে। হে আল্লাহ! জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! রহমত চাই রহমত। জাহান্নাম বড় ভয়াবহ স্থান। অনেক কঠিন ও অনেক মুশকিল।
اللَّهُمَّ أَজِرْنَا مِنَ النَّارِ
। “হে আল্লাহ! আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।"
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে-যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে এমতাবস্থায় মিলিত হল যে, সে দুনিয়াতে কাউকে আল্লাহ তা'আলার সমকক্ষ মনে করত না। অতঃপর যদি তার পাহাড় পরিমাণ গুনাহও হয়ে যায়, তাহলেও তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
হে মুসলমানেরা! ঘোষণা করে দাও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার মত আর কেউ নেই। তিনি স্বীয় সত্তার দিক থেকেও একক, স্বীয় গুণাবলীর দিক থেকেও একক। স্বীয় আনুগত্যের দিক থেকেও একক। না তাঁর কোন শরিক আছে। না কেউ তাঁর প্রতিপক্ষ আছে। না তাঁর সমমর্যাদার কেউ আছে। ইবাদাত একমাত্র তাঁর জন্যই। জীবন-মরণ শুধুমাত্র তাঁরই জন্য। কুরবানী একমাত্র তাঁরই জন্য। তিনিই একমাত্র সকল সমস্যা সমাধানকারী। তিনিই একমাত্র সকল প্রয়োজন পূরণকারী। আমরা তাঁকেই ভয় করি। তাঁর মত আর কাউকে ভয় করি না। আমরা তাঁকে ভালোবাসি। তাঁর মত আর কাউকে ভালোবাসি না। আমাদের অন্তরও তাঁরই জন্য। আমাদের জীবনও তাঁরই জন্য। আর তিনিও দয়ালু। অনেক দয়ালু। সীমাহীন দয়ালু। অনেক মেহেরবান।
আমার সামনে আমার মহান রবের রহমত বর্ণনা করার অনেক হাদিস ঝলমল করছে। আর তারচেয়েও অধিক পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াত রয়েছে। যেগুলোতে অনেক আশা ও রহমতের সুস্পষ্ট বার্তা রয়েছে। হে মুসলিমগণ! ইস্তিগফার অনেক বড় নি'আমত। এটা মানুষকে নিম্নস্তর থেকে উঠিয়ে উচ্চ মর্যাদায় নিয়ে যায় এবং মন্দ কাজ থেকে বাঁচিয়ে আল্লাহ তা'আলার প্রিয় আমলসমূহে লাগিয়ে দেয় এবং টুটাফাটা আমলকে পরিপূর্ণ আমলে পরিণত করে।
আল্লাহ তা'আলার রহমত অন্তরে বসান এবং ইন শা'আল্লাহ সকাল-বিকাল, রাত-দিন এবং সাহরীর সময় অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করুন। সম্মিলিত ও ব্যক্তিগত সমস্যাবলীও সমাধান হয়ে যাবে এবং ইন শা' আল্লাহ আমরা আমাদের মহান রবের রহমতের উপযুক্ত হয়ে যাব।
اسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
টিকাঃ
[১৫] বায়হাকী
📄 দু’টি নিরাপত্তা
হজরত আবু মূসা আশ'আরী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলা আমার উপর আমার উম্মতের জন্য দু'টি নিরাপত্তা অবতীর্ণ করেছেন।
وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
"আর আল্লাহ এমন নন যে, তাদেরকে আজাব দেবেন এ অবস্থায় যে, তুমি তাদের মাঝে বিদ্যমান এবং আল্লাহ তাদেরকে আজাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে।"
আর আমি যখন চলে যাব তখন কিয়ামত পর্যন্ত তাদের মধ্যে ইস্তিগফার রেখে গেলাম। (অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইস্তিগফার করতে থাকবে, ততক্ষণ আজাব আসবে না। আর এই বিধানটি কিয়ামত পর্যন্ত কার্যকর।)
টিকাঃ
[১৬] আনফাল- ৮: ৩৩
[১৭] সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩০৮২