📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গ্রহণযোগ্য, রোগ মুক্তি ও মাগফেরাত

📄 গ্রহণযোগ্য, রোগ মুক্তি ও মাগফেরাত


তাফসিরে দুররে মানসুরে মুসতাদরাকে হাকেমের বর্ণনায় হজরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার পবিত্র নাম বলব না? তা হল- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

যে কোন মুসলমান চল্লিশ বার এর মাধ্যমে স্বীয় রবের নিকট দু'আ করবে, অতঃপর উক্ত রোগে যদি সে মৃত্যুবরণ করে, যে রোগে সে এ দু'আ করেছিল। তাহলে তাকে শহীদের সাওয়াব দেওয়া হবে। আর যদি সে সুস্থ হয়ে যায় (অর্থাৎ যদি সে সুস্থ হয়ে যায়) তাহলে এমতাবস্থায় সুস্থ হবে যে, তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।

টিকাঃ
৫. আনওয়ারুল বয়ান: ৬/১৬১

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 দু‘আটি প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই

📄 দু‘আটি প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই


দু'আটি প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই হজরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-মাছওয়ালা তথা হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম যখন মাছের পেটে ছিলেন, তখন তিনি যে দু'আটি করেছিলেন, তা ছিল এই-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

যে কোন মুসলমান নিজের কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এ কালিমাসমূহ পাঠ করে দু'আ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার দু'আ অবশ্যই কবুল করবেন। ইমাম হাকেম রাহি. বলেন যে, এ হাদিসটির সনদ সহিহ এবং তিনি অন্য আরও একটি সনদে এ বর্ণনায় নিম্নের বাক্যসমূহও উল্লেখ করেছেন- এক ব্যক্তি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসুল! এ দু'আটি কি শুধুমাত্র হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের সাথে সুনির্দিষ্ট নাকি সকল মুমিনের জন্য ব্যাপক? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন- তুমি কি আল্লাহ তা'আলার বাণী শুনোনি-
فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ
"অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং দুশ্চিন্তা থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি।"

অর্থাৎ এ দু'আটি এবং তার কার্যকারিতা সকল মুসলমানের জন্যে।

টিকাঃ
৬. সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৫০৫
৭. আম্বিয়া- ২১: ৮৮
৮. আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব: ২/৩২০

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 প্রিয় এবং কার্যকারী

📄 প্রিয় এবং কার্যকারী


প্রিয় এবং কার্যকারী একটি দু'আ
হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-যখন আল্লাহর নবি হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটের মধ্যে এ কালিমাসমূহের দ্বারা দু'আ করলেন- لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

তখন তার দু'আ আরশ পর্যন্ত পৌছেছে। ফেরেশতারা আরজ করলেন, এটি একটি দুর্বল এবং জানাশোনা আওয়াজ অপরিচিত কোন স্থান থেকে আসছে। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-তোমরা কি তাকে চিনো না? ফেরেশতারা আরজ করলেন, হে আমাদের রব! এটা কে? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-এটা তো আমার বান্দা ইউনুস। ফেরেশতারা আরজ করলেন, আপনার সেই বান্দা ইউনুস, যার প্রিয় আমল ও গ্রহণযোগ্য দু'আসমূহ সর্বদা আপনি পর্যন্ত পৌঁছতো। হে আমাদের রব! সে তো সুখের সময় আমল করত। তাহলে আপনি কি তার উপর অনুগ্রহ করবেন না? তার বিপদের সময়ে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন না? আল্লাহ তা'আলা বলেন-কেন নয়! অতঃপর আল্লাহ তা'আলা মাছকে নির্দেশ দিলেন। মাছ তখন তাকে বমি করে দিল।

হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটে কত দিন ছিলেন এই নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যথা-
১. চল্লিশ দিন। (সাঈদ বিন আবুল হাসান আল-বসরী রাহি.)
২. সাত দিন। (জাফর সাদেক রাহি.)
৩. তিন দিন। (হজরত কাতাদাহ রাহি.)
৪. মাত্র কয়েক ঘণ্টা। দুপরের দিকে গিলেছে এবং সন্ধ্যার সময় বমি করে দিয়েছে। (শাবীরাহি.)

টিকাঃ
৯. তাফসীরে ইবনে কাসীর; তাফসীরে রুহুল মা'আনী
১০. তাফসীরে ইবনে কাসীর
১১. তাফসীরে রুহুল মা'আনী
১২. প্রাগুক্ত
১৩. প্রাগুক্ত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইমাম আলূসী বাগদাদি রাহি. এর সাক্ষ্য

📄 ইমাম আলূসী বাগদাদি রাহি. এর সাক্ষ্য


প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থ তাফসীরে রুহুল মা'আনীর লেখক আল্লামা সাইয়্যেদ মাহমুদ আলুসী বাগদাদী রাহি. এই আয়াতের তাফসীরে লিখেন—
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُবْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
যখন আল্লাহ তা'আলার এক ওলী মুসাফির আমাকে এ দু'আটির নির্দেশ দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ! তখন আমি নিজেই এ দু'আটির কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ করেছি। ঐ সময় আমার উপর এমন পরীক্ষা এসেছিল, যা একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জানেন। (অর্থাৎ অনেক কঠিন পরীক্ষা ও বিপদ এসেছিল। যা এ দু'আর বরকতে আল্লাহ তা'আলা দূর করে দিয়েছেন।)

টিকাঃ
[১৪] তাফসীরে রুহুল মা'আনী

ফন্ট সাইজ
15px
17px