📄 বিশাল সুসংবাদ
হাদিস শরীফে এসেছে; এক বান্দা গুনাহ করে আরজ করল- رَبِّ أَذْنَبْتُ فَاغْفِرْ لِي فَقَالَ رَبَّهُ: عَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُبِهِ؛ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ أَصَابَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا آخَرَ؛ فَاغْفِرْ لِي فَقَالَ: عَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُبِهِ؛ قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي؛ ثُمَّ أَصَابَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا آخَرَ؛ فَاغْفِرْ لِي قَالَ: عَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُبِهِ؛ قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَا شَاءَ
অর্থাৎ হে আমার রব! আমি গুনাহ করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন; আমার বান্দা জানে তার একজন রব আছেন। যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের জন্য শাস্তিও দিতে পারেন। তাই আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঐ বান্দা আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছে তো আবার বলছে হে আমার রব! আমি আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আমার বান্দার জানা আছে- তার একজন রব আছেন। যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের জন্য শাস্তিও দিতে পারেন। তাই আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঐ বান্দা আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছে তো আবার বলছে হে আমার রব! আমি আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আমার বান্দার জানা আছে-তার একজন রব আছেন। যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের জন্য শাস্তিও দিতে পারেন। তাই আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। সুতরাং সে যা ইচ্ছা করুক।
টিকাঃ
২১. মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৭৯৪৮; কানযুল উম্মাল: ৪/২০১।
📄 অত্যন্ত মূল্যবান একটি দু‘আ
হজরত জাবের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হলাম। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-হে জাবের! ঘরে এগারোটি বকরী আছে। এগুলো তোমার পছন্দ নাকি ঐ কালিমাসমূহ তোমার পছন্দ, যা এখনই হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমাকে শিখিয়ে গিয়েছেন। যে কালিমাসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতের সমূহ কল্যাণকে তোমার জন্য একত্রিত করবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কসম! আমি দরিদ্র এবং এই কালিমাসমূহ আমার নিকট এগারোটি বকরি থেকে অধিক পছন্দ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন; তুমি বল-
اللَّهُمَّ أَنْتَ الْخَلَّاقُ الْعَظِيمُ اللَّهُمَّ إِنَّكَ سَمِيعٌ عَلِيمٍ؛ اللَّهُمَّ إِنَّكَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمِ اللَّهُمَّ إِنَّكَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمُ اللَّهُمَّ إِنَّكَ أَنْتَ الْجَوَাদُ الْكَرِيمُ؛ فَاغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَا فِنِي وَارْزُقْنِي وَاسْتُرْنِي وَاجْبُرْنِي وَارْفَعْنِي وَاهْدِنِي؛ وَلَا تُضِلَّنِي وَأَدْখِلْنِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمِ الرَّاحِمِينَ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি প্রতিটি বস্তুকে পুরোপুরি সৃষ্টিকারী এবং মহান। হে আল্লাহ আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাত। হে আল্লাহ আপনি বার বার ক্ষমাকারী এবং অত্যন্ত দয়ালু। হে আল্লাহ আপনি মহান আরশের রব। হে আল্লাহ আপনি অত্যন্ত দানশীল এবং দয়ালু। আমাকে ক্ষমা করুন। আমার উপর অনুগ্রহ করুন। আমাকে নিরাপত্তা দান করুন। আমাকে রিজিক দান করুন। আমার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন। আমাকে ভাল বানিয়ে দিন। আমাকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমাকে হিদায়াত দান করুন এবং আমাকে পথভ্রষ্ট করবেন না। হে আরহামুর রাহিমীন আমাকে আপনার স্বীয় রহমতে আপনার জান্নাতে প্রবেশ করান।
টিকাঃ
২২. ইবনে আসাকির: ১১/২৩১; জামেউল আহাদিস: পৃষ্ঠা- ৩৬৮৭১; কানযুল উম্মাল: পৃষ্ঠা- ৫১০৮
📄 ইস্তিগফারের একটি অজিফা
আমাদের আকা হজরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে অনেক গুরুত্বের সাথে "ইস্তিগফার" এর নির্দেশ দিয়েছেন। এতেই অনুমান করা যায় যে, এটা কতটা উপকারী এবং জরুরি আমল।
অধম আপনাদেরকে একটি মহান এবং অনেক পরীক্ষিত আমল আরজ করছি। এমন আমল যার উপকার আপনারা আমল করার পর নিজেরাই দেখতে পারবেন ইন শা'আল্লাহ। মাত্র একদিন গল্প ও আড্ডার কুরবানী। অধিক ঘুম ও মোবাইল ব্যবহার করার কুরবানী। এমন উপকারী আমলটি হল- আজ ফজরের সালাত থেকে মাগরিব পর্যন্ত ত্রিশ হাজার বার নিম্নের বাক্যসমূহ দিয়ে তাওবা ও ইস্তিগফার করবে—
اسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
এটা সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার আমল। সুবহানাল্লাহ! আমলনামায় ত্রিশ হাজার তাওবা ও ইস্তিগফার। এক বৈঠকে করতে পারলে সোনায় সোহাগা। আর না হয় যেভাবে সম্ভব সেভাবেই করবে। অজুর সাথে করবে। মাঝে কোন কথাবার্তা না বলে করলে উত্তম। আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে আজ এই নি'আমত নসিব করুন এবং শয়তানের আক্রমণ ও নফসের অলসতা থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমিন।
📄 ইস্তিগফারের আরও একটি উপকারী অজিফা
ইমাম গাজালী রাহি. এহইয়াউল উলূমে লিখেন- হজরত আলকামা রাহি ও হজরত আসওয়াদ রাহি, বলেন যে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন- কুরআনুল কারিমে এমন দুটি আয়াত রয়েছে-যেকোন বান্দা যদি কোন গুনাহ করে এ আয়াত দুটি পাঠ করে ইস্তিগফার করে, তাহলে তার এমন কোন গুনাহ নেই যা ক্ষমা করা হবে না। আয়াত দুটি হল-
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً অَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْফَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
"আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়।"
وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا
"আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
টিকাঃ
১. আলে-ইমরান- ৩: ১৩৫
২. নিসা- ৪: ১১০