📄 আল্লাহ তা‘আলার আজাব থেকে নির্ভীক হওয়া উচিত নয়
আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বীয় আজাব থেকে রক্ষা করুন। আমাদের কখনোই আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকে নির্ভীক এবং “বে-পরওয়াহ” হওয়া উচিত নয়। কুরআনুল কারিম সুস্পষ্ট ঘোষণা করছে—
أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَابِمُونَ أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
"জনপদগুলোর অধিবাসীরা কি রাতের বেলা তাদের কাছে আমার আজাব এসে যাওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে? অথবা জনপদগুলোর অধিবাসীরা কি তাদের কাছে আমার আজাব এসে যাওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে যখন তারা খেলাধুলা করতে থাকবে? তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত কওম ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে আর কেউ (নিজেদেরকে) নিরাপদ মনে করে না।"
টিকাঃ
১৯. আ'রাফ- ৭: ৯৭-৯৯
📄 বরকতময় একটি দু‘আ
আমাদের আকা হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন- اللَّهُمَّ لَا تُؤْمِنَّا مَكْرَكَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে আপনার হঠাৎ আজাব থেকে নির্ভয় করবেন না। مَكْرَكَ তথা আল্লাহ তা'আলার গোপন কার্যক্রম এবং আল্লাহ তা'আলার হঠাৎ আজাব। কোন মানুষ যখন কোন গুনাহকে নেকি মনে করে কিংবা সে এ কথার উপর নির্ভীক হয়ে যায় যে, আমার উপর আল্লাহ তা'আলার আজাব আসতেই পারে না। কারণ আমি অমুক নেক কাজ করি। আল্লাহ! আল্লাহ! হজরত সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমদের দেখুন! এত উঁচু আমল করেও তারা আল্লাহ তা'আলার আজাবের ভয়ে ভীত ও কম্পমান থাকতেন। আর এ দিকে আমরা লোক দেখানো সামান্য টুটাফাটা দু-একটি নেক কাজ করেই আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকে নির্ভয় হয়ে যাই।
আমাদের তো নিজেদের গুনাহগুলোও দেখা উচিত। কেউ সালাত পরিত্যাগকারী তো কেউ সালাতের প্রতি অলসতা প্রদর্শনকারী প্রাণহীন সালাত আদায়কারী। মিথ্যা তো মুখ থেকে একদমই পড়ে না। গর্ব, অহংকার, রাগ ও লোক দেখানোর মত নোংরা কাজগুলোতে আমরা সর্বদা লিপ্ত। চেহারা এবং পোশাক সুন্নাত অনুযায়ী নেই। বিবাহ-শাদিতে সর্বপ্রকার শরীয়াতবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং বিদ'আত ও বিভিন্ন কুপ্রথার ছড়াছড়ি। প্রতিটি ঘরে বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা ও অশ্লীলতা ভরপুর। আল্লাহ তা'আলা স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পোশাক এবং একে অপরের ইজ্জত বানিয়েছেন। কিন্তু আজ প্রতিটি ঘরে এই পোশাক টুকরো টুকরো এবং এই ইজ্জত লাঞ্ছিত হচ্ছে। দৃষ্টি নির্লজ্জ। কণ্ঠ নির্লজ্জ। চেহারা নির্লজ্জ এবং চিন্তা-ভাবনা পর্যন্ত নির্লজ্জ। একটু একা হলেই প্রত্যেকে এটা ভুলে যায় যে, আমার আল্লাহ তা'আলা আমাকে দেখছেন। সুদ-ঘুষ, চুরি-ডাকাতি ও খিয়ানত, সম্মিলিত সম্পদ দ্বারা বিলাসিতা এবং অসচেতনতা। আর কারো কারো তো শুধুমাত্র দুনিয়ার ফিকির। লাইফস্টাইল তথা জীবনাচার ও ব্রাইট ফিউচার তথা উজ্জ্বল ভবিষ্যত এর বাইরে আর কিছুই যেন নেই। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করুন।
📄 হে আল্লাহ! আপনি তো আপনিই...
হজরত জাবের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, পূর্ববর্তী উম্মতের এক ব্যক্তি একটি খুপড়ি ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উক্ত খুপড়ি দেখে তার অন্তরে কিছু চিন্তা-ভাবনার উদ্রেক হল। সে বলল-
اللَّهُمَّ أَنْتَ أَنْتَ؛ وَأَنَا أَنَا أَنْتَ الْعَوَّادُ بِالْمَغْفِرَةِ ۚ وَأَنَا الْعَوَّادُ بِالذُّنُوْبِ؛ فَاغْفِرْ لِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আপনিই। আর আমি আমিই। আমি গুনাহে অভ্যস্ত আর আপনি মাগফিরাতে অভ্যস্ত। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।
এ দু'আ পাঠ করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। তাকে বলা হল তোমার মাথা উঠাও। কেননা তুমি গুনাহে অভ্যস্ত আর আমি মাগফিরাতে অভ্যস্ত। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন সে মাথা উঠালো এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
টিকাঃ
২০. জামেউল আহাদিস: হাদিস নং ২১০৮২; কানযুল উম্মাল: হাদিস নং ১০২৭৬
📄 বিশাল সুসংবাদ
হাদিস শরীফে এসেছে; এক বান্দা গুনাহ করে আরজ করল- رَبِّ أَذْنَبْتُ فَاغْفِرْ لِي فَقَالَ رَبَّهُ: عَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُبِهِ؛ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ أَصَابَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا آخَرَ؛ فَاغْفِرْ لِي فَقَالَ: عَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُبِهِ؛ قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي؛ ثُمَّ أَصَابَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا آخَرَ؛ فَاغْفِرْ لِي قَالَ: عَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُبِهِ؛ قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَا شَاءَ
অর্থাৎ হে আমার রব! আমি গুনাহ করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন; আমার বান্দা জানে তার একজন রব আছেন। যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের জন্য শাস্তিও দিতে পারেন। তাই আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঐ বান্দা আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছে তো আবার বলছে হে আমার রব! আমি আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আমার বান্দার জানা আছে- তার একজন রব আছেন। যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের জন্য শাস্তিও দিতে পারেন। তাই আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ঐ বান্দা আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছে তো আবার বলছে হে আমার রব! আমি আরও একটি গুনাহ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আমার বান্দার জানা আছে-তার একজন রব আছেন। যিনি গুনাহের জন্য ক্ষমাও করতে পারেন এবং গুনাহের জন্য শাস্তিও দিতে পারেন। তাই আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। সুতরাং সে যা ইচ্ছা করুক।
টিকাঃ
২১. মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৭৯৪৮; কানযুল উম্মাল: ৪/২০১।