📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ঈমান হল ভয় এবং আশার নাম

📄 ঈমান হল ভয় এবং আশার নাম


ভয় এবং আশার নামই তো ইমান। এমন ভয় যার শেষ ফল হতাশা নয় বরং আশা। আর এমন আশা যার শেষ ফল অলসতা নয় বরং ভয়। এ অবস্থা যার অর্জন হয়ে যাবে, সে ধন্যবাদের উপযুক্ত। জালিম শয়তান হয়তো হতাশার মধ্যে নিক্ষেপ করে, না হয় অলসতার সাগরে ঢুবিয়ে দেয়।

তবে শয়তান ঐ সকল মুসলিমদের থেকে অনেক দূরে থাকে, যারা কোন অবস্থাতেই তাওবা-ইস্তিগফার করা ছাড়ে না। শয়তান তাদেরকে দিয়ে গুনাহ করায় আর এরা তাওবা করে উক্ত গুনাহকে নেকিতে পরিণত করে নেয়। শয়তান এটা বুঝায় যে, তুমি নষ্ট হয়ে গেছ। খিয়ানতকারী হয়ে গেছ। অপবিত্র হয়ে গেছ। সুতরাং এখন কিসের তাওবা! গুনাহ করতে থাক। কিন্তু আল্লাহর বান্দাগণ তারপরও স্বীয় রবের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে। ক্ষমা চাই মালিক ক্ষমা চাই। তাওবা করছি মালিক, তোমার নিকট তাওবা করছি। তখন শয়তান কাঁদে। আফসোস করে বলে, হায়! আমি যদি তাকে দিয়ে গুনাহই না করাতাম সেটাই ভাল ছিল।

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- আমার রব আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য হতে ৭০ হাজার ব্যক্তিকে বিনা হিসাব ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তারপর আবার প্রত্যেক হাজারের সাথে ৭০ হাজার এবং আমার রবের মুষ্ঠিতে তিন মুষ্ঠি।

সুবহানাল্লাহ! প্রত্যেক হাজারের সাথে ৭০ হাজার এবং আল্লাহ তা'আলার মুষ্ঠিতে তিন মুষ্ঠি বলা হয়েছে এটা বুঝানোর জন্য যে, প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের হাত অনুপাতেই মুষ্ঠি ভরে থাকে। যে যত বড় তার মুষ্ঠিও তত বড়। আল্লাহ তা'আলা শরীর ও সাদৃশ্যতা থেকে পবিত্র। এখানে বুঝার বিষয় হল- দুনিয়াতে যখন কেউ কারো প্রতি খুশি হয়, তখন মুষ্ঠি ভরে ভরে সম্পদ দান করে। আল্লাহ তা'আলাও রহমতের হাতসমূহ দিয়ে ভরে ভরে এই উম্মতের অনেক ব্যক্তিকে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। বিনা হিসাবে জান্নাত। এ বাক্যটি পাঠ করতেই অন্তরে প্রশান্তি চলে আসে। হে আল্লাহ! আমাদেরকেও আপনার স্বীয় রহমতে এদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন।

টিকাঃ
১৭. সুনানে তিরমিজি; সুনানে ইবনে মাজাহ; মুসনাদে আহমাদ

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 অন্তরের মোহর

📄 অন্তরের মোহর


হজরত মুজাহিদ রাহি বলেন যে, অন্তরের উপমা হল হাতের তালুর মত। মানুষ যখন গুনাহ করে, তখন একটি আঙ্গুল বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি (গুনাহ করতে করতে) সকল আঙ্গুল বন্ধ হয়ে যায়। আর অন্তর যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন এটাই হয়ে যায় অন্তরের তালা। আর হজরত হাসান রাহি. এর অভিমত হল—বান্দা ও আল্লাহ তা'আলার মধ্যে গুনাহের একটি সীমানা রয়েছে। বান্দা যখন উক্ত সীমানায় পৌঁছে যায় (এবং তাওবা না করে) তখন আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেন এবং আর কখনো তাকে কোন নেক কাজের তাওফিক দেন না।
কোন কোন আকাবির বলেন—কোন বান্দা যখন গুনাহ করে, তখন জমিনের যে স্থানে গুনাহ করে, সেই জমিন আল্লাহ তা'আলার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে যে, হে আল্লাহ! আমাকে যদি অনুমতি দেন, তাহলে আমি তাকে ধসিয়ে দেব। তার মাথার উপরের আসমান অনুমতি প্রার্থনা করে যে, হে আল্লাহ! আমাকে যদি অনুমতি দেন, তাহলে আমি তার উপর ফেটে পড়ব। আল্লাহ তা'আলা এদের দু'জনকেই বলেন যে, আমার বান্দার থেকে বিরত থাক। হয়তো সে তাওবা করবে এবং আমি তাকে মাফ করে দেব অথবা তার গুনাহের পরিবর্তে কোন নেক আমল করবে আর আমি এর পরিবর্তে উক্ত গুনাহকেও নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেব।

টিকাঃ
১৮. এহইয়াউল উলুম

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহ তা‘আলার আজাব থেকে নির্ভীক হওয়া উচিত নয়

📄 আল্লাহ তা‘আলার আজাব থেকে নির্ভীক হওয়া উচিত নয়


আল্লাহ তা'আলা আমাকে এবং আপনাদের সকলকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বীয় আজাব থেকে রক্ষা করুন। আমাদের কখনোই আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকে নির্ভীক এবং “বে-পরওয়াহ” হওয়া উচিত নয়। কুরআনুল কারিম সুস্পষ্ট ঘোষণা করছে—
أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَابِمُونَ أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
"জনপদগুলোর অধিবাসীরা কি রাতের বেলা তাদের কাছে আমার আজাব এসে যাওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে? অথবা জনপদগুলোর অধিবাসীরা কি তাদের কাছে আমার আজাব এসে যাওয়া থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে যখন তারা খেলাধুলা করতে থাকবে? তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত কওম ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে আর কেউ (নিজেদেরকে) নিরাপদ মনে করে না।"

টিকাঃ
১৯. আ'রাফ- ৭: ৯৭-৯৯

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বরকতময় একটি দু‘আ

📄 বরকতময় একটি দু‘আ


আমাদের আকা হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন- اللَّهُمَّ لَا تُؤْمِنَّا مَكْرَكَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে আপনার হঠাৎ আজাব থেকে নির্ভয় করবেন না। مَكْرَكَ তথা আল্লাহ তা'আলার গোপন কার্যক্রম এবং আল্লাহ তা'আলার হঠাৎ আজাব। কোন মানুষ যখন কোন গুনাহকে নেকি মনে করে কিংবা সে এ কথার উপর নির্ভীক হয়ে যায় যে, আমার উপর আল্লাহ তা'আলার আজাব আসতেই পারে না। কারণ আমি অমুক নেক কাজ করি। আল্লাহ! আল্লাহ! হজরত সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমদের দেখুন! এত উঁচু আমল করেও তারা আল্লাহ তা'আলার আজাবের ভয়ে ভীত ও কম্পমান থাকতেন। আর এ দিকে আমরা লোক দেখানো সামান্য টুটাফাটা দু-একটি নেক কাজ করেই আল্লাহ তা'আলার আজাব থেকে নির্ভয় হয়ে যাই।

আমাদের তো নিজেদের গুনাহগুলোও দেখা উচিত। কেউ সালাত পরিত্যাগকারী তো কেউ সালাতের প্রতি অলসতা প্রদর্শনকারী প্রাণহীন সালাত আদায়কারী। মিথ্যা তো মুখ থেকে একদমই পড়ে না। গর্ব, অহংকার, রাগ ও লোক দেখানোর মত নোংরা কাজগুলোতে আমরা সর্বদা লিপ্ত। চেহারা এবং পোশাক সুন্নাত অনুযায়ী নেই। বিবাহ-শাদিতে সর্বপ্রকার শরীয়াতবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং বিদ'আত ও বিভিন্ন কুপ্রথার ছড়াছড়ি। প্রতিটি ঘরে বেহায়াপনা, বেলেল্লাপনা ও অশ্লীলতা ভরপুর। আল্লাহ তা'আলা স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পোশাক এবং একে অপরের ইজ্জত বানিয়েছেন। কিন্তু আজ প্রতিটি ঘরে এই পোশাক টুকরো টুকরো এবং এই ইজ্জত লাঞ্ছিত হচ্ছে। দৃষ্টি নির্লজ্জ। কণ্ঠ নির্লজ্জ। চেহারা নির্লজ্জ এবং চিন্তা-ভাবনা পর্যন্ত নির্লজ্জ। একটু একা হলেই প্রত্যেকে এটা ভুলে যায় যে, আমার আল্লাহ তা'আলা আমাকে দেখছেন। সুদ-ঘুষ, চুরি-ডাকাতি ও খিয়ানত, সম্মিলিত সম্পদ দ্বারা বিলাসিতা এবং অসচেতনতা। আর কারো কারো তো শুধুমাত্র দুনিয়ার ফিকির। লাইফস্টাইল তথা জীবনাচার ও ব্রাইট ফিউচার তথা উজ্জ্বল ভবিষ্যত এর বাইরে আর কিছুই যেন নেই। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে ক্ষমা করুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px