📄 পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক থেকে হেফাজতের দু‘আ
বর্তমানে পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক একটি মারাত্মক রোগ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রোগ থেকে হেফাজতের আমল বর্ণনা করেছেন। হজরত কাবিসা ইবনুল মুখারিক রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন—আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। আমার শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। আপনি আমাকে এমন কোন দু'আ শিখিয়ে দিন, যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা আমাকে উপকৃত করেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন—ফজরের পরে তিন বার এ দু'আটি পাঠ করলে তুমি অন্ধত্ব, কুষ্ঠ ও পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক থেকে বেঁচে থাকবে।
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
আর তুমি এ বাক্য দ্বারা দু'আ করবে— اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ مِمَّا عِنْدَكَ وَأَفِضْ عَلَيَّ مِنْ فَضْلِكَ وَانْشُرْ عَلَى مِنْ بَرَكَاتِكَ
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট ঐ সকল নি'আমত কামনা করছি, যা আপনার নিকট রয়েছে। আমার উপর অনুগ্রহ করুন এবং আমার উপর আপনার বরকত নাজিল করুন।
হাদিসটির সনদ তো বুঝাই যায় যে, সনদটি তেমন মজবুত নয়। তবে আমি অনেক উলামায়ে কেরামকে এই অজিফা বলতে শুনেছি এবং আমাদের এক সম্মানিত উস্তাদ বলতেন যে, মিয়া এই দু'আটি ফজরের পর তিনবার পড়। দু'আটি হল—
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَবিِحَمْدِهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِي الْعَظِيمِ
এই দু'আটি পড়লে ইন শা' আল্লাহ চলাফেরা অবস্থায় এ পৃথিবী থেকে বিদায় হবে। পরবর্তীতে আমরা দেখেছি যে, তার ইন্তেকাল চলাফেরা অবস্থায়ই হয়েছে। মা'জুর হয়ে কারো উপর মুখাপেক্ষী হতে হয়নি। বাস্তবেই মানুষ কারো মুখাপেক্ষী না হওয়া অনেক বড় নি'আমত। বিশেষ করে বর্তমানে যেখানে মানুষের খিদমতের প্রেরণা ও বড়দের সম্মান ও মর্যাদা অনেক কমে গিয়েছে এবং অধিকাংশ লোকদের সন্তান-সন্তুতিই অযোগ্য ও অবাধ্য। হায়! যদি সন্তান-সন্ততিদের মাতা-পিতার হকের অনুভূতি হয়ে যেত, তাহলে তারা নিজেদের অবস্থার উপর লজ্জিত হত এবং তাওবার দিকে প্রত্যাবর্তন করত।
টিকাঃ
১৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২০৫০২
📄 আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও মর্যাদা
আল্লাহু আকবার! আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আপনি সূর্যকে দূর থেকে দেখলে সূর্যকে অনেক ক্ষুদ্র মনে হয়। এক-দুই ফুট। হ্যাঁ! আমাদের নিকট সূর্যকে নিজের থেকেও ছোট মনে হয়। কেননা আমরা সূর্যের দিকে ভ্রমণ করে যত সূর্যের নিকটবর্তী হব, তত সূর্য বড় হবে এবং আমরা ছোট হব। আর যদি আমরা সূর্যের একদম নিকটে চলে যাই, তাহলে কি হবে? তখন আমাদের নিকট নিজেদেরকে এর বিপরীতে একটি বিন্দুর পরিমাণও মনে হবে না। কেননা সূর্য জমিন থেকে অনেকগুণ বড়। আর আমরা তো শুধু জমিন নয়, বরং জমিনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক বস্তুর চেয়েও ছোট। ঠিক তদ্রুপ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা থেকে যত দূরে, সে আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদা কীভাবে বুঝবে। সে তো নিজেকে এবং নিজের নফসকে বড় মনে করে।
এজন্য আল্লাহ তা'আলার হুকুম ও আল্লাহ তা'আলার নামের উপর সে দাঁড়ায় না। তবে যখন কোন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যশীল হয়ে যায়, তখন তার অন্তরে আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আর তাঁর সম্মান ও মর্যাদার তো কোন সীমা-পরিসীমা নেই। সূর্য তো অনেক ক্ষুদ্র। আল্লাহু আকবার! আল্লাহ তা'আলা সকল বস্তুর চেয়ে বড়। এজন্য যখন প্রেম-ভালোবাসায় ডুবে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম আবেদন করলেন যে, হে আমার রব! আমাকে আপনার সাক্ষাত দান করুন। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- لَنْ تَرَانِی হে মুসা! তুমি আমাকে দেখতে পারবে না। দুনিয়ার চক্ষু তো একটি পাহাড়কেও সম্পূর্ণভাবে দেখতে পারে না। একটি সমুদ্রের শেষ সীমা দৃষ্টিগোচর করতে পারে না। আর আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদার সামনে তো এ সকল বস্তু কিছুই না। দুনিয়ার চক্ষুর সেই শক্তি কোথায় যে, আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পারে? আল্লাহ তা'আলা তো দেহ থেকে পবিত্র। দিক বা পার্শ্ব থেকে পবিত্র এবং কোন প্রকার উপমা থেকেও পবিত্র। তাঁর মত আর কেউই নেই যে, উক্ত বস্তুর কল্পনা করে অনুমান করতে পারে। তবে হ্যাঁ! পরকালে জান্নাতের বাসিন্দাদেরকে এমন চক্ষু দেওয়া হবে, যা দিয়ে তারা "আল্লাহ তা'আলাকে দেখার" মহান নি'আমত লাভ করতে পারবে। এমন মহান রবের হক কে আদায় করতে পারে? আর এজন্যই রয়েছে ইস্তিগফার। এমন মহান রবের নাফরমানী? তাওবা তাওবা। এজন্যই রয়েছে তাওবা। আর ঐ দিকে এমন সম্মান ও মর্যাদা সত্ত্বেও এত রহমত যে, প্রত্যেক গুনাহের জন্য তাওবার দরজা খোলা। বরং স্বীয় বান্দাদেরকে ডাকছেন যে, আসো! আসো! তাওবা করে নাও। আর তারপরে ক্ষমাও এত দ্রুত যা কল্পনারও বাহিরে।
📄 আল্লাহ তা‘আলার ভয়
আল্লাহ তা'আলার গোলামী ও দাসত্ব অবলম্বনকারীগণ কখনো ব্যর্থ হয় না। অন্তরের গভীর থেকে ঘোষণা করুন-
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
হে আল্লাহ! আমরা একমাত্র আপনারই গোলামী ও দাসত্ব অবলম্বন করি এবং একমাত্র আপনার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি।
হজরত জা'ফর ইবনে মুহাম্মাদ রাহি. বলেন-
من خاف الله خاف منه كل شئ ولم يخف الله اخاف الله من كل شئ
অর্থাৎ যে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে, সকল বস্তু তাকে ভয় করে। আর যে আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করে না, আল্লাহ তা'আলা তাকে সকল বস্তু দিয়ে ভীত রাখেন। অর্থাৎ তার অন্তরে সকল বস্তুর ভয় সৃষ্টি হয়ে যায়।
📄 আল্লাহ তা‘আলার ভয় সকল কল্যাণের মূল
ইস্তিগফার ও তাওবা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করার সৌভাগ্য দান করে। আল্লাহ তা'আলার ভয় লাভ করা অনেক বড় কল্যাণের বিষয়। বরং এটাই সকল কল্যাণের মূল। এমন মূল, যা সুদৃঢ় হয়ে গেলে, তা থেকে উপকার ও কল্যাণ এবং নেকির ডালপালা গজায়।
ইমাম গাজালী রাহি. লিখেন—
জনৈক ব্যক্তি হজরত আবু সাঈদ খুদুরী রাদিআল্লাহু আনহুর নিকট আবেদন করল যে, আমাকে ওসিয়াত করুন। তিনি বললেন—আল্লাহ তা'আলার ভয়কে নিজের উপর অত্যাবশ্যক করে নাও। এটাই সকল কল্যাণের মূল। আর জিহাদ-কিতাল করাকে নিজের উপর অত্যাবশ্যক করে নাও। কারণ এটাকেই ইসলামের সন্যাসিতু বা দুনিয়াবিমুখতা বলা হয়। আর সর্বদা কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত কর। কেননা এটা দুনিয়াবাসীর মধ্যে তোমার জন্য নুর বা আলো হবে এবং আসমানবাসীর মধ্যে তোমার স্মরণ করা হবে। আর উত্তম কথা ব্যতীত নীরবতাকে অবলম্বন কর। এর ফলে তুমি শয়তানের উপর বিজয়ী হবে।
কোন এক ব্যক্তি আবু হাজেম রাহি. কে বলল যে, আমাকে ওসিয়াত করুন। তিনি বললেন—যদি কোন কাজ এমন হয় যে, অবশ্যই উক্ত কাজে তোমার মৃত্যু এসে যাবে এবং এ কাজে মৃত্যুবরণ করা ভাল মনে হয়, তাহলে এমন কাজ অবশ্যই করবে। আর যদি কোন কাজ এমন হয় যে, হয়তো উক্ত কাজে লিপ্ত অবস্থায় মৃত্যু এসে গেলে উক্ত মৃত্যুবরণটা মুসিবাত তথা খারাপ মনে হয়, তাহলে এমন কাজ থেকে বেঁচে থাক।
অর্থাৎ উত্তম মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করা এবং খারাপ মৃত্যুর ভয় সবসময় অন্তরে বদ্ধমূল থাকা আবশ্যক।
টিকাঃ
১৫. এহইয়াউল উলুম
১৬. প্রাগুক্ত