📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 হজরত আদম আলাইহিস সালামকে শিক্ষা দেওয়া ইস্তিগফার

📄 হজরত আদম আলাইহিস সালামকে শিক্ষা দেওয়া ইস্তিগফার


হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, সুরাবাকারার ৩৭ নং আয়াত- ফَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
এর তাফসীরে বলেন, এ আয়াতে বর্ণিত কালিমা হল-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ عَمِلْتُ سُوا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْلِ إِنَّكَ أَنْتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ؛ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ عَمِلْتُ سُوا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ؛ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ عَمِلْتُ سُوا وَظَلَمْتُ نَفْسِي فَتُبْ عَلَى إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অর্থ: হে আল্লাহ আপনি পবিত্র। আমি আপনার প্রশংসা করছি। আমি অপরাধ করেছি এবং নিজের উপর জুলুম করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি সকল ক্ষমাকারীর মধ্যে সর্বোত্তম। আপনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আপনি প্রশংসার যোগ্য। আমি অপরাধ করেছি, নিজেই নিজের উপর জুলুম করেছি। আমার উপর অনুগ্রহ করুন। কেননা আপনি সকল অনুগ্রহকারীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী। আপনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র প্রশংসার যোগ্য। আমি অপরাধ করেছি, নিজেই নিজের উপর জুলুম করেছি। আমার তাওবা কবুল করুন। বাস্তবতা হল-আপনি বার বার তাওবা কবুলকারী ও অতি দয়ালু।
হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু এটা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মুহাদ্দিসিনে এতে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

টিকাঃ
১১. বায়হাকী; তারগীব ওয়াত তারহীব

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 তাসবিহ, হামদ ও ইস্তিগফার

📄 তাসবিহ, হামদ ও ইস্তিগফার


হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যখন— إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ অবতীর্ণ হল, তখন থেকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এটা পড়তেন, তখন অধিকাংশ সময় রুকুর মধ্যে এ দু'আ পাঠ করতেন— سُبْحَانَكَ اللهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْلِي إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অর্থ: হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি পবিত্র এবং প্রশংসার উপযুক্ত। হে আল্লাহ! আমাকে মাগফিরাত দান করুন। নিশ্চয় আপনি বার বার তাওবা কবুলকারী ও পুরোপুরি অনুগ্রহকারী।

টিকাঃ
১৩. মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২৫৯২৮

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক থেকে হেফাজতের দু‘আ

📄 পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক থেকে হেফাজতের দু‘আ


বর্তমানে পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক একটি মারাত্মক রোগ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রোগ থেকে হেফাজতের আমল বর্ণনা করেছেন। হজরত কাবিসা ইবনুল মুখারিক রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন—আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি। আমার শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। আপনি আমাকে এমন কোন দু'আ শিখিয়ে দিন, যার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা আমাকে উপকৃত করেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন—ফজরের পরে তিন বার এ দু'আটি পাঠ করলে তুমি অন্ধত্ব, কুষ্ঠ ও পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক থেকে বেঁচে থাকবে।
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ
আর তুমি এ বাক্য দ্বারা দু'আ করবে— اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَلُكَ مِمَّا عِنْدَكَ وَأَفِضْ عَلَيَّ مِنْ فَضْلِكَ وَانْشُرْ عَلَى مِنْ بَرَكَاتِكَ
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট ঐ সকল নি'আমত কামনা করছি, যা আপনার নিকট রয়েছে। আমার উপর অনুগ্রহ করুন এবং আমার উপর আপনার বরকত নাজিল করুন।
হাদিসটির সনদ তো বুঝাই যায় যে, সনদটি তেমন মজবুত নয়। তবে আমি অনেক উলামায়ে কেরামকে এই অজিফা বলতে শুনেছি এবং আমাদের এক সম্মানিত উস্তাদ বলতেন যে, মিয়া এই দু'আটি ফজরের পর তিনবার পড়। দু'আটি হল—
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَবিِحَمْدِهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِي الْعَظِيمِ
এই দু'আটি পড়লে ইন শা' আল্লাহ চলাফেরা অবস্থায় এ পৃথিবী থেকে বিদায় হবে। পরবর্তীতে আমরা দেখেছি যে, তার ইন্তেকাল চলাফেরা অবস্থায়ই হয়েছে। মা'জুর হয়ে কারো উপর মুখাপেক্ষী হতে হয়নি। বাস্তবেই মানুষ কারো মুখাপেক্ষী না হওয়া অনেক বড় নি'আমত। বিশেষ করে বর্তমানে যেখানে মানুষের খিদমতের প্রেরণা ও বড়দের সম্মান ও মর্যাদা অনেক কমে গিয়েছে এবং অধিকাংশ লোকদের সন্তান-সন্তুতিই অযোগ্য ও অবাধ্য। হায়! যদি সন্তান-সন্ততিদের মাতা-পিতার হকের অনুভূতি হয়ে যেত, তাহলে তারা নিজেদের অবস্থার উপর লজ্জিত হত এবং তাওবার দিকে প্রত্যাবর্তন করত।

টিকাঃ
১৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২০৫০২

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও মর্যাদা

📄 আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও মর্যাদা


আল্লাহু আকবার! আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আপনি সূর্যকে দূর থেকে দেখলে সূর্যকে অনেক ক্ষুদ্র মনে হয়। এক-দুই ফুট। হ্যাঁ! আমাদের নিকট সূর্যকে নিজের থেকেও ছোট মনে হয়। কেননা আমরা সূর্যের দিকে ভ্রমণ করে যত সূর্যের নিকটবর্তী হব, তত সূর্য বড় হবে এবং আমরা ছোট হব। আর যদি আমরা সূর্যের একদম নিকটে চলে যাই, তাহলে কি হবে? তখন আমাদের নিকট নিজেদেরকে এর বিপরীতে একটি বিন্দুর পরিমাণও মনে হবে না। কেননা সূর্য জমিন থেকে অনেকগুণ বড়। আর আমরা তো শুধু জমিন নয়, বরং জমিনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক বস্তুর চেয়েও ছোট। ঠিক তদ্রুপ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা থেকে যত দূরে, সে আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদা কীভাবে বুঝবে। সে তো নিজেকে এবং নিজের নফসকে বড় মনে করে।

এজন্য আল্লাহ তা'আলার হুকুম ও আল্লাহ তা'আলার নামের উপর সে দাঁড়ায় না। তবে যখন কোন ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যশীল হয়ে যায়, তখন তার অন্তরে আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আর তাঁর সম্মান ও মর্যাদার তো কোন সীমা-পরিসীমা নেই। সূর্য তো অনেক ক্ষুদ্র। আল্লাহু আকবার! আল্লাহ তা'আলা সকল বস্তুর চেয়ে বড়। এজন্য যখন প্রেম-ভালোবাসায় ডুবে হজরত মূসা আলাইহিস সালাম আবেদন করলেন যে, হে আমার রব! আমাকে আপনার সাক্ষাত দান করুন। তখন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- لَنْ تَرَانِی হে মুসা! তুমি আমাকে দেখতে পারবে না। দুনিয়ার চক্ষু তো একটি পাহাড়কেও সম্পূর্ণভাবে দেখতে পারে না। একটি সমুদ্রের শেষ সীমা দৃষ্টিগোচর করতে পারে না। আর আল্লাহ তা'আলার সম্মান ও মর্যাদার সামনে তো এ সকল বস্তু কিছুই না। দুনিয়ার চক্ষুর সেই শক্তি কোথায় যে, আল্লাহ তা'আলাকে দেখতে পারে? আল্লাহ তা'আলা তো দেহ থেকে পবিত্র। দিক বা পার্শ্ব থেকে পবিত্র এবং কোন প্রকার উপমা থেকেও পবিত্র। তাঁর মত আর কেউই নেই যে, উক্ত বস্তুর কল্পনা করে অনুমান করতে পারে। তবে হ্যাঁ! পরকালে জান্নাতের বাসিন্দাদেরকে এমন চক্ষু দেওয়া হবে, যা দিয়ে তারা "আল্লাহ তা'আলাকে দেখার" মহান নি'আমত লাভ করতে পারবে। এমন মহান রবের হক কে আদায় করতে পারে? আর এজন্যই রয়েছে ইস্তিগফার। এমন মহান রবের নাফরমানী? তাওবা তাওবা। এজন্যই রয়েছে তাওবা। আর ঐ দিকে এমন সম্মান ও মর্যাদা সত্ত্বেও এত রহমত যে, প্রত্যেক গুনাহের জন্য তাওবার দরজা খোলা। বরং স্বীয় বান্দাদেরকে ডাকছেন যে, আসো! আসো! তাওবা করে নাও। আর তারপরে ক্ষমাও এত দ্রুত যা কল্পনারও বাহিরে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px