📄 সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার
হজরত শাদ্দাদ ইবন আউস রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন-নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার তথা শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার হল-
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَى، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْফِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
“হে আল্লাহ আপনিই আমার রব, আপনাকে ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে করা প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গিকারের উপর রয়েছি। আমি আমার সকল কৃতকর্মের কুফল থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই। আপনি আমার প্রতি আপনার যে নিয়ামত দান করেছেন তা স্বীকার করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।
টিকাঃ
১. সহিহ বুখারী: হাদিস নং ৬৩০৩; সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ৫০৭০; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৩; সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ৫৫২২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৩৮৭২; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১৭১১১
📄 সর্বোত্তম দু‘আ কোনটি?
عَنْ عَلِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدُّعَاءِ الاسْتِغْفَارُ وَ خَيْرُ الْعِبَادَةِ قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
“হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, শ্রেষ্ঠ দু'আ হল-ইস্তিগফার করা এবং সর্বোত্তম ইবাদাত হল—লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করা।"
মানুষের দীনি ও দুনিয়াবী প্রয়োজনসমূহ অসংখ্য। ধন-সম্পদ, স্ত্রী-সন্তান, সুখ-শান্তি, সুস্থতা, মেধা, জ্ঞান-বুদ্ধি, ইবাদাতের তাওফিক ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে মানুষের যে বস্তুর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তা হল—গুনাহসমূহ ক্ষমা পাওয়া। আল্লাহ তা'আলার গজব এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচা।
টিকাঃ
২. তারীখে হাকেম।
📄 ইস্তিগফারের একটি অতি উপকারী ও মর্যাদাপূর্ণ কুরআনী অজিফা
আসুন! একটি উপকারী অজিফা শিখে নেই। পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত। এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়াতে শয়তান অনেক কেঁদেছে। অনেক চিৎকার করেছে। এই দুঃখে সে তার নিজেই নিজের মাথায় মাটি নিক্ষেপ করেছে এবং চিৎকার করে করে তার সকল চ্যালাচামুণ্ডাকে একত্রিত করেছে। যে সমুদ্রে ছিল সেও একত্রিত হয়েছে এবং যে স্থলে ছিল সেও এসেছে। অর্থাৎ শয়তানের লক্ষ-কোটি চ্যালাচামুণ্ডার সমাবেশ। আপনি কি জানেন কোন সে আয়াত? পুরো বর্ণনাটি মুসান্নাফে আবদুর রায্যাকে রয়েছে। হ্যাঁ! এটা ঐ আয়াত যার সম্পর্কে উম্মাহর অনেক বড় ফকীহ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এমন একটি আয়াত দান করেছেন, যা আমার নিকট সমগ্র দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু আছে সকল কিছু থেকে প্রিয়। আর তা হল সুরা আলে-ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত-
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا ফَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
“আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবে? আর তারা যা করছে, জেনে শুনে তা তারা বার বার করে না।"
আয়াতের মর্ম হল-আল্লাহ তা'আলার মুত্তাকী বান্দাদের একটি গুণ হল, যখন তাদের গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে, ছোট কিংবা বড় কোন গুনাহ হয়ে যায়, কোন অশ্লীল কাজ হয়ে যায়, তারা তখন আল্লাহ তা'আলার জিকির করে এবং স্বীয় গুনাহের জন্য তাওবা ও ইস্তিগফার করে। আর তারা জানে যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমাকারী নেই। তারা তাদের কৃত গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তির উপর অটল থাকে না। এমন লোকদের জন্য পেছনের আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মাগফিরাতের ওয়াদা করেছেন।
সবচেয়ে ভাল হয় সরাসরি কুরআনুল কারিম খুলে এ আয়াতটি (সুরা আলে-ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত) আজকেই মুখস্থ করে নিলে। এর সাথে আরও একটি আয়াতও আছে। উভয় আয়াত মিলে একটি চমৎকার অজিফা এবং জীবন্ত আমলের রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় আয়াতটি সামনে আসছে। তার পূর্বে একটি কথা শুনি। "মাগফিরাত" আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় নি'আমত।
মাগফিরাতের মর্ম হল- ইমান কবুল হয়েছে এবং আমল কবুল ও গৃহিত হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! আর কি চাই? ইমানের দাবি তো অনেক মানুষই করে থাকে। সুরা বাকারার দ্বিতীয় রুকুর শুরুতে দেখুন। কিছু লোক বলে যে, আমরা ইমান এনেছি। বস্তুত তারা মুমিন নয়। ঠিক তেমনিভাবে আমলও অনেক লোকই করে থাকে কিন্তু এমন অনেক দুর্ভাগা আছে যাদের আমল আল্লাহ তা'আলার নিকট গৃহিত হয় না। "মাগফিরাত” হল ঐ নি'আমত, যাকেই আল্লাহ তা'আলা এটা নসিব করেন, তার তরী পার হয়ে যায়। তার ইমানও কবুল আমলও কবুল। এজন্যই সুরাতুল ফাতাহ-এর শুরুতে যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর সর্বশেষ ও সবচেয়ে প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য "মাগফিরাত" এর ঘোষণা করলেন তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুশি ছিল দেখার মত। অথচ আমরা মাগফিরাতকে ছোটখাট বস্তু মনে করি। কোন বুজুর্গ ইন্তেকাল করলে তার জন্য যদি মাগফিরাতের দু'আ করা হয়, তাহলে তার অনুসারীরা অসন্তুষ্ট হয় যে, আমাদের শায়েখ কি গুনাহগার ছিল? আর এজন্য মর্যাদা বৃদ্ধির দু'আ করা হয়। বস্তুত কারও জন্য যদি মাগফিরাতের দরজা খোলে তবেই সে মর্যাদা পাবে। আর যদি মাগফিরাতই না পায়, তাহলে কিসের মর্যাদা আর কিসের মর্যাদা বৃদ্ধি? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের জন্য “মাগফিরাত” এর ঘোষণা হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন। আর আমাদের কাছে এ বাক্যটি ছোট মনে হয়। বাস্তবিকই এটা মূর্খতার কথা। মূলত অধিকাংশ লোকই "মাগফিরাত” এর অর্থ এবং "মাগফিরাত” এর মর্ম বুঝে না। সুবহানাল্লহা! ইস্তিগফার হল এক আশ্চর্য নি'আমত। আর তাওবা এর চেয়েও বেশি। আলহামদুলিল্লাহ! মুসলমান যথেষ্ট পরিমাণে তাওবা ও ইস্তিগফারের দিকে মনোযোগী হয়েছে এবং অত্যন্ত উপকৃত হচ্ছে। অধিকাংশ বন্ধু-বান্ধব ও অনুসারীগণ দৈনিক ১০০০ বার ইস্তিগফারের আমল নিয়মিত করছে। ১২০০ বার কালিমায়ে তাইয়্যেবা, ১০০০ বার দুরূদ শরিফ এবং ১০০০ বার ইস্তিগফার এবং কুরআনুল করিমের তিলাওয়াত এ চারটি আমল মৌলিক আমল হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহ প্রেমিকগণ আল্লাহ আল্লাহর জিকিরে আর তাসবিহ তথা সুবহানাল্লাহ যুক্ত জিকিরসমূহে উৎসাহ বেশি পায়। একটি কথা মনে রাখবেন, যেখানেই তাসবিহ এবং ইস্তিগফার উভয়টি একসাথে পাওয়া যায় সেখানে আশ্চর্য রহমত ও নি'আমত নাযিল হয়। কুরআনুল কারিমের শেষ পারায় সুরাতুন নাসরের তাফসির পাঠ করুন। তাহলে গোটা বিষয়টি বুঝে এসে যাবে।
ফَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাসবিহ এবং ইস্তিগফারকে যে বাক্যে একত্রিত করেছেন তা পাঠ করুন। নুর এবং স্বাদে অন্তর ভরে যাবে-
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّনَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
এখন আরও একটি বিষয় বুঝুন। কোন দু'আতে যদি কালিমায়ে তাইয়্যেবা, তাসবিহ ও ইস্তিগফার এ তিনটি একসাথে একত্রিত হয়ে যায়, তাহলে তা "ইসমে আজম" এর মর্যাদা লাভ করে। এমন ইসমে আজম যা সমুদ্রের গভীরে মাছের পেট থেকেও যদি ডাকা হয়, তাহলে তা সোজা আরশে গিয়ে পৌঁছে। হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঐ দু'আ, যা তিনি মাছের পেটে বন্দি অবস্থায় করেছিলেন, তাতে উক্ত তিনটি বিষয় একত্রিত হয়েছে। যথা-
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
এই দু'আর মধ্যে কালিমায়ে তাইয়্যেবাও রয়েছে এবং তাসবিহ ও ইস্তিগফারও রয়েছে। এজন্য এই বরকতময় দু'আটি ইসমে আজমের মর্যাদা লাভ করেছে। এখন ফিরে আসি আমাদের অজিফার দিকে। এ অজিফা এই উম্মাহর মহান ফকীহ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন এবং হাদিস শরীফের অনেক কিতাবেই রয়েছে। যেমন: মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, তাবরানী ও বায়হাকী ইত্যাদি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-
কুরআনুল কারিমে দুটি আয়াত এমন রয়েছে যে, কোন বান্দা যদি কোন গুনাহ করে এই দুটি আয়াত পাঠ করে আল্লাহ তা'আলার নিকট ইস্তিগফার করে, তাহলে তাকে অবশ্যই মাগফিরাত প্রদান করা হবে। অর্থাৎ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। প্রথম আয়াত তো হল সুরা আলে-ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত। আর দ্বিতীয় আয়াত হল সুরা নিসার ১১০ নং আয়াত।
وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِد اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا
“আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি জুলুম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
সুবহানাল্লাহ! কত সহজ অজিফা। আজই চেষ্টা করে দুটি আয়াত অর্থসহ মুখস্থ করে নিন। যখনই কোন গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যাবে, তখনই অজু করে কয়েক রাকাত সালাত আদায় করে এই দুটি আয়াত মনোযোগ দিয়ে পাঠ করুন এবং খাঁটি অন্তরে ইস্তিগফার করুন এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট মাগফিরাত এবং ক্ষমার দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন।
এমনিতেও ইস্তিগফারের পূর্বে এই দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলে ইন শা' আল্লাহ ইস্তিগফার অধিক কার্যকরী হবে। আর অজু করা ও সালাত আদায় করাও জরুরি নয় তবে উত্তম। এই আয়াত সামনে আসাতে আরও একটি বিষয় সামনে এসে গেল। আমাদের হজরত মাওলানা আহমাদ আলী লাহোরী রাহি, সুরা নিসার এই আয়াতটিও (১১০ নং) জিহাদ সংক্রান্ত আয়াতের সাথে উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেন - وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا "আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে" এই মন্দ কাজের উপমা দিয়েছেন- যেমন জিহাদের ফরজিয়াতকে অস্বীকার করে। আর أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ "নিজের প্রতি জুলুম করবে" এর উপমা দিয়েছেন-সালাত কিংবা জামাত ত্যাগ করে। এমন ব্যক্তির জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করা প্রয়োজন। সে যদি খাঁটি অন্তরে তাওবা-ইস্তিগফার করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা ও মাগফিরাতের ওয়াদা করেছেন। হজরত লাহোরী রাহি, লিখেন-কুরআনুল কারিমের তা'লিমের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করা দুই প্রকারে হতে পারে। এক হল রূহে তা'লিম তথা তা'লিমের প্রাণকে উড়িয়ে দেওয়া। যেমন: কুরআনুল কারিমে জিহাদকে ফরজ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশাল এক শ্রেণি তৈরি হয়েছে যে, তারা জিহাদের ফরজিয়াতকে উড়িয়ে দেয়। তাহলে এটা وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا “আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে" এর অন্তর্ভুক্ত। আর দ্বিতীয় প্রকার হল-হুকুম তথা নির্দেশের রূপ-রেখাকে ভেঙ্গে দেয়। তাহলে এটা أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ “নিজের প্রতি জুলুম করবে” অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন: কোন ব্যক্তি জামাতের সাথে সালাত আদায়ে অলসতা করে। উক্ত দুটি অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিও যদি আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
টিকাঃ
১০. আলে ইমরান- ৩: ১৩৫
১১. নিসা- ৪: ১১০
📄 দু‘আ হল মুমিনের জন্য শ্বাস গ্রহণের ন্যায় প্রশান্তিদায়ক
অনেক লোক বলে থাকে যে, এত এত দু'আ। কোনটা আমল করব? তাদের খিদমতে আরজ হল-মানুষের কন্ঠ কথা বলে ক্লান্ত হয় না। সবজি বিক্রেতা কি পরিমাণ ডাকাডাকি করে? বাসের হেল্পার-কন্ট্রাক্টর কি পরিমাণ ডাকাডাকি করে? যে সকল লোকের বক-বক করার কিংবা গল্প-গুজব করার অভ্যাস, তারা কি পরিমাণ কথাবার্তা বলে? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু'আসমূহ তো মুমিনের জন্য শ্বাস গ্রহণের ন্যায় প্রশান্তিদায়ক। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে দীনের যত কাজ করেছেন, অন্য আর কেউ কি এ পরিমাণ কাজ করতে পারবে? কক্ষনো নয়। তাহলে এত অধিক পরিমাণে কাজ করা সত্ত্বেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সকল দু'আ নিয়মিত আমল করতেন। তাহলে বুঝা গেল- আমাদের মত অবসর লোকদের জন্য তো আরও অধিক পরিমাণে আমল করা সম্ভব। সুতরাং অন্তরে যদি আল্লাহ তা'আলার যিকিরের উৎসাহ- উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়ে যায় এবং এ কথা অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যায় যে, আমি জিকির ও ইস্তিগফারের দ্বারা স্বীয় জান্নাতকে আবাদ করতে হবে। মানুষ দুনিয়ার বাড়ি-ঘর বানানোর জন্য কি পরিমাণ কষ্ট করে? জান্নাত তো এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি মূল্যবান।